আজ মঙ্গলবার ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
গৌরীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার- পরিচ্ছন্নতা অভিযান গৌরীপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত গৌরীপুরে থানার পাশে মাদক নিয়ে ধরা খেলো যুবক, ভ্রাম্যমান আদালতের ১৫দিনের সাজা প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে-প্রধানমন্ত্রী নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’লীগের অপতৎপরতা ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গৌরীপুরে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিল গৌরীপুরে রবীন্দ্র- নজরুল স্মরণ গৌরীপুরে সাকিব হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মহাসড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ গৌরীপুরে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের নবীনবরণ গৌরীপুরে আজিমুশ্বান ইসলামী দাওয়াতী জলসা রাবি বিএনসিসি’র প্রথম নারী সিইউও গৌরীপুরের কন্যা অপর্না
||
  • প্রকাশিত সময় : মে, ১৬, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ




বিশ্বকাপের তারকা, তারকার বিশ্বকাপ ‘মরক্কান মিরাকলের’ দায়ভার এবার দিয়াজের কাঁধে

শিরোনামের ‘দায়ভার’ শব্দটাকে দায়িত্বও বলা যেত চাইলে। কিন্তু সেটা হলে পরিস্থিতিটাকে খানিকটা খাটো করে দেখা হতো বোধ হয়। ব্রাহিম দিয়াজের কাঁধে এখন যে জগদ্দল পাথরটা আছে, সেটা যোগ করলে দায়িত্বটাকে ‘দায়ভার’ বললেও যে কম হয়ে যায়!

ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে আপনাকে ফিরে যেতে হবে গত ১৯ জানুয়ারিতে। আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালে তার সামনে সুবর্ণ সুযোগ ছিল নায়ক বনে যাওয়ার, কিন্তু শেষমেশ তাকে বনে যেতে হলো খলনায়ক। ফাইনালের অন্তিম মুহূর্তে পাওয়া পেনাল্টিটা জালে পাঠাতে পারলে তখনই মরক্কো ৫০ বছরের খরা কাটিয়ে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন বনে যায়।

কিন্তু তিনি তা পারেননি। শেষ মুহূর্তে পাওয়া ওই পেনাল্টি থেকে তিনি গোল করতে পারেননি। তার পানেনকা পেনাল্টিটা ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে সেভ করেন সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি। খেলা গড়ায় যোগ করা সময়ে। ৯৩ মিনিটে পাপা গেইয়ের গোলে সেনেগাল ‘জিতে’ যায় সে ম্যাচে। শিরোপা নিয়ে একপ্রস্থ উৎসবও করে ফেলে। কেনই বা করবে না? একগাদা নাটক শেষে জেতা কাপ নিয়ে উদযাপন না করার কারণই তো নেই!

সে ফাইনালে ওই পেনাল্টি নিয়ে নাটক হয়েছে অনেক। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টিটা নিয়ে সেনেগাল অসন্তুষ্ট হয়েছিল, মাঠ ছেড়েই চলে গিয়েছিল। প্রায় ১৫ মিনিট পর সবাই ফেরেন মাঠে। এরপর মাঠের খেলায় শেষ হাসি হেসে শিরোপায় হাত দেয় সেনেগাল।

তবে সে ঘটনার মাস দুয়েক পর আফ্রিকার ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা কনফেডারেশন্স অফ আফ্রিকান ফুটবল (ক্যাফ) নাটকীয় এক কাজ করে বসে। সেই ফাইনালের ফল বাতিল করে আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা শিরোপাজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে মরক্কোর নাম। বিবৃতিতে বলা হয়, সেনেগালকে ‘ফাইনাল ম্যাচ পরিত্যাগ’ করায় ‘ম্যাচের ফল ৩–০ ব্যবধানে’ মরক্কোর পক্ষে চলে আসে।

এরপর অনেক জলঘোলা হয়েছে। তবে ক্যাফের নথিতে এখন ২০২৫ আসরের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নামটা মরক্কোরই লেখা। তাতে ব্রাহিম দিয়াজ হয়তো একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। তবে সেই ফাইনালে যা হয়েছে, পরের ৩০টা মিনিট যে খেলেছেন তিনি, সে গ্লানি কি কমে গেছে একটু? উত্তরটা হলো– না!

প্রশ্নটা আপনি চাইলে ইতালির রবার্তো বাজ্জিওকে করতে পারেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। এরপর কোমড়ে হাত দিয়ে তার দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যটা বিশ্বকাপের আইকনিক মুহূর্তের অ্যালবামে জায়গা করে আছে এখনও। সে ছবিটার একটা নামও আছে, ‘দ্য ম্যান হু ডাইড স্ট্যান্ডিং’।

সে মুহূর্তটা নিয়ে তিনি সম্প্রতি আরও একবার মুখ খুলেছেন। বলেছেন, ‘তখন আমি স্রেফ অদৃশ্য হয়ে যেতে চেয়েছিলাম। অনন্ত লজ্জার সাগরে ডুবে গিয়েছিলাম তখন। সে অনুভূতিটা এমন, অনেক বছর চলে গেলেও ক্ষয়ে যায় না।’

ব্রাহিম দিয়াজ নিজেকে খানিকটা ভাগ্যবানই ভাবতে পারেন। মঞ্চটা বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো কিছু ছিল না, এরপর শিরোপাটাও দল পেয়ে গেছে। তবে তার সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য এই যে, সে গ্লানি মুছে ফেলার সুযোগটা তিনি পাচ্ছেন এই বছরই। মঞ্চটা এবার আরও বড়, বিশ্বকাপের মঞ্চ।
মরক্কো শেষ কয়েক বছরে তাদের সেরা সময় কাটাচ্ছে ফুটবলে। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছিল দলটা। সেটাও আবার পর্তুগাল, স্পেন ও বেলজিয়ামের মতো দলকে হারিয়ে। ভোজবাজির মতো দৃশ্যপটে এসে একেরপর এক জায়ান্টদের হারিয়ে দেওয়ার কাণ্ডকে ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরি আখ্যা দিয়েছিলেন ‘মরক্কান মিরাকল’ বলে। তবে বিষয়টা যে মিরাকল নয়, তার প্রমাণ মিলেছে পরের দুই বছরে। ২০২৩ সালে অ-২৩ আফ্রিকান নেশন্স কাপে শিরোপা জেতে দলটি। পরের বছর অলিম্পিকে জেতে ব্রোঞ্জ পদক। এরপর বড়দের আফ্রিকান নেশন্স কাপেও খেল দেখিয়েছে দলটা।

দিয়াজ ফাইনালের ওই পেনাল্টির আগ পর্যন্ত খেলেছেন দুর্দান্ত। গোল করেছেন টানা ৫ ম্যাচে। মরক্কোর দলে তিনি কেমন গুরুত্বপূর্ণ, এই তথ্যেই সম্ভবত তা ফুটে উঠছে। ক্লাব দল রিয়াল মাদ্রিদে তারকাদের ভিড়ে সুযোগ খুব একটা পান না। যখনই পান, একটা প্রভাব না ফেলে যান না। চলতি মৌসুমে ১ গোলের বিপরীতে করিয়েছেন আরও ৯টি। 

সোনালী প্রজন্ম নিয়ে মরক্কো এবারের বিশ্বকাপে যাচ্ছে নিজেদের সেরা সাফল্যটাকে ছুঁয়ে দেখার, সুযোগ পেলে সেটাও ছাপিয়ে যাওয়ার, বা নিদেনপক্ষে বিশ্বকাপে সেরা পারফর্ম করা আফ্রিকান দল হওয়ার মিশন নিয়ে। তার ছায়ায় দিয়াজের ব্যক্তিগত একটা মিশনও আছে বৈকি, নিজের ‘রেডেমশন আর্কের’ খোঁজটা তিনি করবেন ভালোভাবেই।

মরক্কোও নিশ্চয়ই তাই চাইবে। দলের সেরা খেলোয়াড় তেঁতে থাকলে, সেটাকে পারফর্ম্যান্সে রূপ দিতে পারলে যে দলের সম্ভাবনাটাও বেড়ে যায় কয়েক গুণে!




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩
৪৫৭৮৯১০
১১১১৩৪১৫১৬১
৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৯৩০৩১