সম্প্রীতির বন্ধনের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নে তিন ধর্মের মানুষের প্রতিনিধি দিয়ে ৫ হাজার মিটার খাল খনন কাজ উদ্বোধন করিয়ে আবারও সম্প্রীতির এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রুহানীকান্দা এলাকায় মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর ৩ জন প্রতিনিধি একসঙ্গে খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ দুর্গাপুর থানা মো. কামরুল হাসান, বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইউসুফ খানসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।
কাকৈরগড়া ইউনিয়নের রামবাড়ি হতে শুকনাকুড়ি এলাকার পূর্বদিকে গলইখালি ব্রিজসংলগ্ন কংশ নদী পর্যন্ত ৫ হাজার মিটার খাল খনন করা হবে। প্রকল্পের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। এ খাল খননের ফলে আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পূর্বে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজে সেচ সংকট দেখা দিত। সাধারণ মানুষের দুঃখ লাঘব করতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোগ নেন। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং মাছ চাষের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে। সেই সঙ্গে ১০ গ্রামের মানুষ কৃষি, রবিশস্য ফলানোসহ অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হবে।
উদ্বোধনকারী খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী অঞ্জন চিচাম বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হলাম। আমাদের তিন ধর্মের মানুষ হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান দিয়ে এ কাজের উদ্বোধন করিয়েছেন তিন। এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগই প্রমাণ করে, দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকার মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ, আমরা এখানে মিলেমিশে বসবাস করছি। আমরা উনার প্রতি কৃতজ্ঞ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার স্যারের তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় খনন কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে কৃষকদের ফসল ফলাতে কষ্ট পোহাতে হতো। এই খাল খনন করা হলে এ অঞ্চলের ১০ গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। ডেপুটি স্পিকারের এ মহৎ উদ্যোগ এলাকায় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।