আজ মঙ্গলবার ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
গৌরীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার- পরিচ্ছন্নতা অভিযান গৌরীপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত গৌরীপুরে থানার পাশে মাদক নিয়ে ধরা খেলো যুবক, ভ্রাম্যমান আদালতের ১৫দিনের সাজা প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে-প্রধানমন্ত্রী নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’লীগের অপতৎপরতা ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গৌরীপুরে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিল গৌরীপুরে রবীন্দ্র- নজরুল স্মরণ গৌরীপুরে সাকিব হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মহাসড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ গৌরীপুরে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের নবীনবরণ গৌরীপুরে আজিমুশ্বান ইসলামী দাওয়াতী জলসা রাবি বিএনসিসি’র প্রথম নারী সিইউও গৌরীপুরের কন্যা অপর্না
প্রধান প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : ফেব্রুয়ারি, ২৪, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ




যেসব কারণে রোজা ভাঙে না

রমজান মাস আত্মসংযম, তাকওয়া ও ইবাদতের মাস। এই মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন। রোজা আল্লাহর ফরজ বিধান, তবে ইসলামে মানুষের সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব আরোপ করা হয়নি। তাই দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু কাজ বা পরিস্থিতি আছে, যেগুলো সংঘটিত হলেও রোজা ভাঙে না। এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেকেই অযথা দুশ্চিন্তায় ভোগেন বা বিভ্রান্ত হন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا

‘আল্লাহ কারো ওপর এমন কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না, যা তার সাধ্যাতীত।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৮৬)

নিম্নে যেসব কারণে রোজা ভাঙে না সেগুলো উল্লেখ করা হলো—

> ভুলে পানাহার বা স্ত্রীসম্ভোগ করলে রোজা ভাঙে না। (শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৬৫)

তবে ওই ভুলকারী ব্যক্তির রোজা রাখার শক্তি থাকলে তাকে রোজার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত। আর যদি রোজা রাখার শক্তি না থাকে তাহলে স্মরণ না করানোই উত্তম। (আল-ওয়াল ওয়ালিযিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০২)

> অনিচ্ছাবশত গলার মধ্যে ধোঁয়া, ধুলাবালি, মশা বা মাছি চলে গেলে রোজা ভাঙে না। (শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৬৬)

> স্বপ্নদোষ হলেও রোজা ভাঙে না। হাদিসে এসেছে—

ثَلَاثٌ لَا يُفَطِّرْنَ الصَّائِمَ: الْحِجَامَةُ وَالْقَيْءُ وَالِاحْتِلَامُ

‘তিনটি কারণে রোজাদারের রোজা ভঙ্গ হয় না—শিঙা লাগানো, অনিচ্ছাকৃত বমি এবং স্বপ্নদোষ।’ (তিরমিজি ৭১৯)

> তেল, সুরমা বা শিঙা লাগালে রোজা ভাঙে না। (শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৬৬)

> কাঠি দিয়ে কান খোঁচানোর ফলে কোনো ময়লা বের হলে তারপর ময়লাযুক্ত কাঠি বারবার কানে প্রবেশ করালেও রোজা ভাঙে না। (শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৬৭)

> মেসওয়াক করলে রোজা ভাঙে না—তা কাঁচা হোক কিংবা শুষ্ক। (আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৯)

> দাঁত থেকে অল্প রক্ত বের হয়ে যদি গলার ভেতর চলে যায়, তাহলে রোজা ভাঙবে না। তবে থুতুর তুলনায় রক্তের পরিমাণ বেশি হলে রোজা ভেঙে যাবে। (শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৬৮)

> চানা বুটের চেয়ে ছোট বস্তু দাঁতের ফাঁকে আটকে গিয়ে গলার ভেতর চলে গেলে বা খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙে না। (শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৬৭)

> শরীর, মাথা, দাড়ি বা গোঁফে তেল লাগালে রোজা ভাঙে না। (আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৯)

> ফুল বা মৃগনাভির ঘ্রাণ নিলে রোজা ভাঙে না। (শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯৯)

> ইচ্ছাকৃতভাবে নাকের শ্লেষ্মা মুখে নিয়ে গিলে ফেললেও রোজা ভাঙে না। (বিনায়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯৪)

> মুখের থুতু গিলে ফেললে রোজা ভাঙে না। (নাওয়াজিল, পৃষ্ঠা ১৫০)

> তিল পরিমাণ কোনো বস্তু বাইরে থেকে মুখে নিয়ে অস্তিত্বহীন করে দিলে এবং গলায় স্বাদ অনুভূত না হলে রোজা ভাঙে না। (শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯৪)

> কপালের ঘাম বা চোখের দু-এক ফোঁটা অশ্রু কণ্ঠনালিতে পৌঁছলে রোজা ভাঙে না। তবে পরিমাণ বেশি হয়ে গলায় স্বাদ অনুভূত হলে রোজা ভেঙে যাবে। (বিনায়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯৪)

> রোজা অবস্থায় সাধারণ ইনজেকশন, ইনসুলিন বা টিকা নেওয়া বৈধ। তবে এমন ইনজেকশন বা টিকা নেওয়া মাকরুহ, যেগুলো দ্বারা রোজার কষ্ট বা দুর্বলতা দূর হয়। (জাওয়াহিরুল ফিকাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭৯)

> ইনজেকশনের মাধ্যমে রক্ত বের করলে রোজা নষ্ট হবে না। দুর্বলতার আশঙ্কা না থাকলে তা মাকরুহও নয়।

> সাপ বা বিচ্ছু দংশন করলে রোজা ভাঙে না। (আল-ফিকহুল হানাফি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১৪; মাহমুদিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭৯)

> পান খাওয়ার পর ভালোভাবে কুলি করার পরও যদি থুতুতে লাল আভা থেকে যায়, তাহলে রোজা মাকরুহ হবে না। (এমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩১)

> ভেজা কাপড় শরীরে দেওয়া, ঠাণ্ডার জন্য কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া বা গোসল করা মাকরুহ নয়। (শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯৪; দারুল উলুম, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪০৫)

> স্বপ্নে বা সহবাসে গোসল ফরজ হলে সুবহে সাদিকের আগে গোসল না করে রোজার নিয়ত করলে রোজা সহিহ হবে। (জাওয়াহিরুল ফিকাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮০)

> গরমের কারণে দীর্ঘ সময় পানিতে অবস্থান করা মাকরুহ নয়। (শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯৯)

> গলা খাঁকারি দিয়ে কাশি মুখে এনে আবার গিলে ফেললে রোজা মাকরুহ হয় না (তবে না করাই উত্তম)। (শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৭৩)

> রোজা অবস্থায় মাথা বা চোখে ওষুধ ব্যবহার করা মাকরুহ নয়। (এমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১২৭)

> হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ঘ্রাণ নেওয়া মাকরুহ নয়। (মাহমুদিয়া, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ১৮০)

> রোজা অবস্থায় পাইপ দ্বারা মুখে হাওয়া নিলে রোজা মাকরুহ হয় না। (মাহমুদিয়া, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ১৮০)

> রোজা অবস্থায় নাকে ওষুধ ব্যবহার করে তা ব্রেনে না পৌঁছলে রোজা মাকরুহ হয় না। (মাহমুদিয়া, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ১৬৯)

> শরীরের ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বা রক্ত বের হলে বা রক্ত বের করলে রোজা নষ্ট হয় না। তবে অপ্রয়োজনে রক্ত বের করা মাকরুহ। (জাওয়াহিরুল ফিকাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮)

> চিকিৎসার প্রয়োজনে ডাক্তার শুকনো কোনো যন্ত্র পেটে প্রবেশ করিয়ে বের করলে রোজা নষ্ট হবে না। (আল-ফিকহুল হানাফি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৭১২)

> পানিতে ডুব দিলে কানের ভেতর পানি গেলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে পানি দিলেও রোজা মাকরুহ নয়। (বিনায়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯৪; আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৪; শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৬৭)

> জৈবিক উত্তেজনার কারণে শুধু দৃষ্টিপাতের ফলে বীর্যপাত হলেও রোজা নষ্ট হবে না। (আহকামে জিন্দেগি, পৃষ্ঠা ২৪৯)

রোজা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় অজ্ঞতার কারণে মানুষ এমন বিষয়কে রোজা ভঙ্গের কারণ মনে করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে, যা প্রকৃতপক্ষে রোজা নষ্ট করে না। তাই কুরআন-হাদিস ও নির্ভরযোগ্য ফিকহগ্রন্থের আলোকে রোজার বিধান জানা থাকলে ইবাদত আরও সঠিক ও নিশ্চিন্তভাবে আদায় করা সম্ভব হবে।




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩
৪৫৭৮৯১০
১১১১৩৪১৫১৬১
৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৯৩০৩১