আজ মঙ্গলবার ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
গৌরীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার- পরিচ্ছন্নতা অভিযান গৌরীপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত গৌরীপুরে থানার পাশে মাদক নিয়ে ধরা খেলো যুবক, ভ্রাম্যমান আদালতের ১৫দিনের সাজা প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে-প্রধানমন্ত্রী নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’লীগের অপতৎপরতা ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গৌরীপুরে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিল গৌরীপুরে রবীন্দ্র- নজরুল স্মরণ গৌরীপুরে সাকিব হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মহাসড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ গৌরীপুরে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের নবীনবরণ গৌরীপুরে আজিমুশ্বান ইসলামী দাওয়াতী জলসা রাবি বিএনসিসি’র প্রথম নারী সিইউও গৌরীপুরের কন্যা অপর্না
প্রধান প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : জানুয়ারি, ৩০, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ




নারী কি নিজের বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে?

ইসলামী সমাজে একটি প্রচলিত কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত—নারী কখনো নিজে থেকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে এই সামাজিক রীতিকে ধর্মীয় বিধান বলে ধরে নেওয়া হয়।

অথচ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া শুধু বৈধই নয়, বরং নববি আদর্শ দ্বারা সমর্থিত একটি সুন্নতসম্মত আচরণ।

পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা আ. এর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়। মাদইয়ানে অবস্থানকালে এক সৎ ব্যক্তি তার কন্যার পক্ষ থেকে হযরত মূসা আ. কে বিবাহের প্রস্তাব দেন।

কুরআন এই ঘটনাকে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছে— তিনি বললেন, আমি আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সঙ্গে বিবাহ দিতে চাই। (সুরা কাসাস ২৭)

এই আয়াত প্রমাণ করে—নারীর পক্ষ থেকে বা তার অভিভাবকের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।

সুন্নাহর আলোকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হলো রাসুলুল্লাহ সা. এর সঙ্গে হযরত খাদিজা রা. এর বিবাহ। তিনি নিজেই রাসুল সা. এর চরিত্র, সততা ও আমানতদারিতে মুগ্ধ হয়ে একজন বিশ্বস্ত নারীর মাধ্যমে বিয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

এই বিবাহই পরবর্তীতে নবুয়তের সূচনালগ্নে ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ও বরকতময় দাম্পত্য জীবনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ইসলামী ঐতিহাসিক ও মুহাদ্দিসগণ একে নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাবের সুন্নতসম্মত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে সহিহ হাদিসে আরও সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়। হাদিসে বর্ণিত আছে—এক নারী সরাসরি রাসুলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে নিজেকে বিবাহের জন্য পেশ করেছিলেন। রাসুল সা. তার প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও নারীর এই আচরণকে কোনোভাবেই নিন্দা করেননি, বরং অন্য এক সাহাবির সঙ্গে তার বিবাহের ব্যবস্থা করে দেন। (বুখারি ৫১২০, মুসলিম ১৪১৩)

এ থেকেই ফকিহদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত—নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া শরিয়তসম্মত, শালীন ও সুন্নাহবিরোধী নয়।

ইসলামে বিয়ের উদ্দেশ্য কেবল সামাজিক রীতি নয়, বরং তা পবিত্রতা, মানসিক প্রশান্তি ও দায়িত্বশীল পারিবারিক জীবন গঠনের মাধ্যম। সে কারণে ইসলাম এমন কোনো সামাজিক জড়তাকে সমর্থন করে না, যা হালাল সম্পর্ককে অকারণে বিলম্বিত করে। তবে একই সঙ্গে ইসলাম শালীনতা ও সংযমের সীমারেখাও নির্ধারণ করেছে।

নারীর আগ্রহ প্রকাশ হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ, সংযত ও শরিয়তের আদবের মধ্যে—প্রয়োজনে পরিবার বা বিশ্বস্ত মধ্যস্থতার মাধ্যমে।

বাস্তবতা হলো, নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাবকে অশোভন মনে করা ইসলামের শিক্ষা নয়, এটি সংস্কৃতিগত ভ্রান্ত ধারণা। এই ভুল দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বহু হালাল সম্পর্ক জটিল হয়ে ওঠে, বিলম্বিত হয়, কখনো হারিয়েও যায়। অথচ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবন করা গেলে সমাজে ভারসাম্য ফিরে আসতে পারে এবং ইসলাম যে মর্যাদা ও সিদ্ধান্তের অধিকার নারীকে দিয়েছে—তা বাস্তবে প্রতিফলিত হতে পারে।

ইসলাম নারীকে নীরব দর্শক করে রাখেনি, বরং তাকে সম্মান, সাহস ও সিদ্ধান্তের অধিকার দিয়েছে—বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও।

লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো, মিশর




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩
৪৫৭৮৯১০
১১১১৩৪১৫১৬১
৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৯৩০৩১