ময়মনসিংহ বিভাগের তিন জেলা থেকে ৪ জন প্রতিমন্ত্রী পাওয়ায় উন্নয়নের প্রত্যাশা বেড়েছে বিভাগবাসীর। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উন্নয়ন ছাড়াও এ চার জেলার জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে বিভাগবাসীর আশা।
বিভাগের চার জেলার মধ্যে নেত্রকোনা জেলা থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কায়সার কামাল, জামালপুর জেলা থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং ময়মনসিংহ জেলা থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইকবাল হোসেইন দায়িত্ব পেয়েছেন।
এই বিভাগ থেকে একসঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধিত্ব পাওয়াকে বড় ধরনের রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এতে জেলার উন্নয়ন ও জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব বাড়ার বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তাদের মত।
ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুরে স্থানীয়ভাবে ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন একজন ভদ্র, সহজ-সরল ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। এ উপজেলায় রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে দীর্ঘদিনের।
অন্যদিকে ইয়াসের খান চৌধুরী ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইলের প্রয়াত বিএনপি নেতা ও ১৯৯১ সালের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর সুযোগ্য ছেলে। পেশাগতভাবে তিনি একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তিনি দীর্ঘদিন বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের লন্ডন কার্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। প্রবাসে অবস্থানকালেও তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) থেকে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত নতুন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে মিল্লাত জয়ী হয়ে এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হন।
তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিল, এবার তাকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশা, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জসহ জামালপুরের উন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখবেন।
নেত্রকোনায় এর আগেও নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি) আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পেলেও এবার তাকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়নি। তবে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসন থেকে প্রথমবারের মতো সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার এ নিয়োগের খবরে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। স্বাধীনতার পর এ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও কোনো মন্ত্রী না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি আক্ষেপ ছিল। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের হাত ধরে সেই আক্ষেপ ঘুচল।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয় সম্পাদক ও পেশায় একজন সফল আইনজীবী এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণেই তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় এলাকাবাসী মতে, নেত্রকোনা-১ আসনটি ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানকার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কায়সার কামাল প্রতিমন্ত্রী (ভূমি) হওয়ায় এখন এই এলাকার উন্নয়ন কাজ আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিভাগবাসীর বিশ্বাস, এই চারজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমন্ত্রী নিজ জেলা ছাড়াও বিভাগের উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হবে।