ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নে নন্দীগ্রামে
বিআরএস সংশোধন করতে গিয়ে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া
গেছে। এ অভিযোগ করেন একই গ্রামের মৃত কছম উদ্দিন আকন্দের পুত্র মো.
মোন্নাছ আকন্দ।
এ দিকে বিআরএস সংশোধনের জন্য একই গ্রামের মৃত জুবেদ আলীর পুত্র
মো. নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে জেলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য়
আদালতে ৩৯/২৫সন অন্য প্রকার মোকদ্দমা করেছেন। এ মামলায় নাজিম উদ্দিন
দাবী করেন ১৯৭১সনের ১৫জুন তারিখে ২৬২২নং দলিল মূলে ২০শতাংশ জমি
আব্দুর রহমানের নিকট থেকে ক্রয় করেছেন। আব্দুর রহমান এ জমি ১৯৭০সনের
১১ এপ্রিল ২৭৮০নং দলিল মূলে বাছির আকন্দের নিকট থেকে ক্রয় করে প্রায়
৬০বছর যাবত ভোগদখল আসছেন মর্মে দাবী করেন। এ প্রসঙ্গে নাজিম
উদ্দিনের ভাই আবুল
এ প্রসঙ্গে বাদীর বড় ভাই আবুল হাসিম সাংবাদিকদের জানান, নন্দীগ্রাম
মৌজার এসএ ৯৮নং খতিয়ান, এসএ ২৭৬দাগ ও বিআরএস ১৯০নং
খতিয়ানের বিআরএস ৬৪০নং দাগে ২৪শতাংশ জমি আছে। এরমধ্যে
২০শতাংশ আমরা ক্রয় করেছি। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। আরও ২শতাংশ
জমি ক্রয় করেছি, তার দলিল খোঁজে বের করার চেষ্টা করছি। আর দোকানঘরটি
ভাড়া দেয়া হয়েছিলো। দোকানদার অসুস্থ্য থাকায় তিনি দোকান ছেড়ে
দিয়েছে। আর জাল দলিল সৃজনের অভিযোগটি আদালতেই বিচারাধীন
রয়েছে।
এ দিকে মো. মোন্নাছ আকন্দ জানান, তার বাবা কছম উদ্দিন আকন্দ তার
ওয়ারিশ ও ভাই-বোনদের নিকট থেকে ক্রয় করে ২৪শতাংশ জমির মালিকানা
প্রাপ্ত হন। যা বিআরএস রেকর্ডভুক্ত হয়। যেহেতু আমার বাবা ক্রয় সূত্রে ও
পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়েছেন, সেক্ষেত্রে তাদের এসব দেয়া দলিল, জাল দলিল বলে
মনে হচ্ছে। গৌরীপুর, ঈশ^রগঞ্জ ও ময়মনসিংহ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে
তালাসি দিয়েও এ দলিলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
একই গ্রামের মৃত সোলাইমান আকন্দের পুত্র লতিফ আকন্দ জানান, দু’পক্ষের
মাঝে জমি সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে। তবে এ নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর
একটি সালিশ দরবার গৌরীপুর থানায় অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিরোধপূর্ণ
নালিশী ২০শতাংশ জমি বাদে ৪শতাংশ যে ভূমি রয়েছে, সেখানে বাদী
নাজিম উদ্দিন গংদের বারিত করা হয়। সেখানে থাকা দোকানটিও সরিয়ে
নিয়ে এ জমি মোন্নাছ আকন্দ গংদের নিকট বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত
গৃহিত হয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি/২৬) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ
নালিশী ২০শতাংশ জমির বাহিরে হাফব্লিডিং টিনের ছালাঘর রয়েছে।
দোকানঘরটি মালশূন্য শার্টারও খোলা অবস্থায় রয়েছে। এ দোকানটিও
৬/৭মাস যাবত এ অবস্থায় রয়েছে বলে প্রতিবেশীরাও নিশ্চিত করেন।###