ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (৮ মার্চ ২০২৬) এ ঘটনায় মানিক মিয়া বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন মোঃ জালাল মিয়া (৪৫), মোঃ মিরাশ মিয়া (৪০), মোঃ রবিবুল ইসলাম (৩৫), মোছা: সুমি আক্তার (৩৮), মোছা: মদিনা আক্তার (৩৫), রোমা আক্তার (২৫), মোছা: বিউটি আক্তার (৫০) এবং মোছা: ইভা আক্তার (২০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেআইনিভাবে মানিক মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এতে বাধা দিলে ২নং আসামির নির্দেশে ১নং আসামি বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে মানিক মিয়াকে আহত করে।
এ সময় মানিক মিয়ার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। তার মেজো বোন লাখি আক্তার (২৬), বড় বোন নাজমা আক্তার (৩৫), মা ফরিদা আক্তার (৬৫), স্ত্রী লিমা আক্তার (২২) এবং বোন আকলিমা আক্তার (৩০) গুরুতর আহত হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া হামলাকারীরা নাজমা আক্তারের গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা), একটি টিভিএস ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল (মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা) এবং ঘরের ট্যাংক ভেঙে নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় পরিবারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বিভিন্ন হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা প্রদান করেন।
অভিযোগ সম্পর্কে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান,অভিয়োগ পেয়েছি তদন্ধ করে ব্যবস্তা নেওয়া হব।এ ঘটনায় এলাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী এলাকাবাসী ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফতেহপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে, তবে সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক। তারা অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নিরীহ একটি পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ফতেহপুর গ্রামের তাহের উদ্দিন বলেন,
মানিক মিয়ার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। সর্বশেষ এই হামলায় নারী, বৃদ্ধসহ পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন, এমনকি নারীর শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছেযা সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক।
শিবপুর গ্রামের মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা চাই, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
বর্ধনপাড়া গ্রামের আজিজুল হক বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি এলাকায় স্থায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে###