আজ শনিবার ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
তারাকান্দা সাব-রেজিস্ট্রারের আয়োজনে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান ও মানবতার অস্তগামী সূর্য পৃথিবীর বিবেকবান মানুষের প্রতি এক উদাত্ত আহ্বান প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ‘নিরবিচ্ছিন্ন সময় সাশ্রয়ী’ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বিজয় এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন গৌরীপুরে স্বজনের বর্ষাবরণ উৎসব গৌরীপুর মহিলা কলেজ পরিদর্শনে মুগ্ধ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দুঃস্বপ্ন ও ভয় থেকে বাঁচতে নবীজির শেখানো দোয়া তিন ফিফটিতে তিনশ ছুঁইছুঁই সংগ্রহ বাংলাদেশের অনুমোদনহীন কারখানায় প্লাস্টিক পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে ডিজেল
শামীম আনোয়ার || স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশিত সময় : মে, ৬, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ




গৌরীপুরে সুইচ গেইটে পানিবন্দী ৪ গ্রামের ফসল, কৃষকদের ক্ষোভ চরমে

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নে ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত একটি সুইচ গেইট এখন স্থানীয় চার গ্রামের মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিল কেইলা খালে প্রায় ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সুইচ গেইটের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে প্রতিবছর ফসল তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধূরুয়া, বিশ্বনাথপুর, তেরশিরা ও কান্দুলিয়া গ্রামের প্রায় ৪ হেক্টর জমির ফসল নিয়মিত পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
ধূরুয়া গ্রামের আব্দুল কাদিরের পুত্র সিদ্দিক মিয়া বলেন, সুইচ গেইট নির্মাণের পর থেকে আমরা আমন ও বোরো কোনো ফসলই ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারছি না। আগে জানলে আমরা কখনোই সুইচ গেইট বসাতে দিতাম না।
ধূরুয়া গ্রামের নজরুল মিয়া জানান,
এই সুইচ গেইট নির্মাণের পর থেকেই আমাদের এলাকার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আগে খালে স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচল করত, কিন্তু এখন পানি আটকে গিয়ে জমিতে জমে থাকে। ফলে আমাদের ফসল ঠিকমতো উৎপাদন হচ্ছে না। বছরের পর বছর ক্ষতির মুখে পড়ছি, কিন্তু এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।
ধূরুয়া গ্রামের আবুল হোসেন জানান ,
আমরা কৃষির ওপর নির্ভরশীল মানুষ। কিন্তু সুইচ গেইটের কারণে জমিতে পানি জমে থেকে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একদিকে চাষাবাদের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে আমাদের চাষাবাদ বন্ধ করে দিতে হবে।
বিশ্বনাথপুর গ্রামের মিজানুর রহমান রাকিব জানান ,
সুইচ গেইটটি সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবতা যাচাই না করেই নির্মাণ করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এর ফলে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে এসে বিষয়টি তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
বিশ্বনাথপুর গ্রামের আব্দুল গনি জানান ,
প্রতিবছরই আমরা এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। বর্ষা মৌসুমে তো অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে যায়। জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকার কারণে কোনো ফসলই ঠিকমতো ফলানো যাচ্ছে না। আমরা বহুবার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিশ্বনাথপুর গ্রামের এরশাদ মিয়া জানান ,
আমাদের এলাকার কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সুইচ গেইটের কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা আমাদের সহ্যের বাইরে চলে গেছে। আমরা চাই, প্রয়োজনে এই গেইটটি অপসারণ করে আগের মতো পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে আমরা স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি।
গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, সুইচ গেইটটি অন্যান্য ব্রিজ বা পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থার তুলনায় টেকসই হলেও এর নকশা ও অবস্থান সঠিক না হওয়ায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জমিতে পানি জমে থেকে ফসল নষ্ট হচ্ছে। তারা আরও জানান, ফসল রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন গেইটটি অপসারণের দাবিও জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুইচ গেইটটির কারণে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পানির গতি কমে যাওয়ায় আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।###




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০