প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ঘোষিত ৩দফা দাবীতে চলমান আন্দোলনের কারণে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর /২৫) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার জানান, উপজেলার ১৭৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫টি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দিকে পরীক্ষা নিয়ে অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবকদের মাঝে হট্টগোল, হৈ-চৈ করতে দেখা গেছে। অভিভাবকরা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়াও জানান। তাদের মধ্যে আবার অনেকের শিক্ষকদের দাবী মেনে নেয়ার জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ করেন। মঙ্গলবার সকালে গৌরীপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দেখা যায়, পরীক্ষার্থী বোর্ড, পেন্সিলসহ শিক্ষা উপকরণ নিয়ে পরীক্ষা দিতে আসে। সহকারী শিক্ষকগণ পরীক্ষার কক্ষে না যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি একেএম মাজহারুল আনোয়ার ফেরদৌস ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নাজমা আক্তার এ সময় পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ নেন। তবে এতেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রাজি না হওয়ায় পরীক্ষা নেয়াও সম্ভব হয়নি। সকালে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি পরীক্ষা ছিলো। অপরদিকে সিংরাউন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন যুগান্তরকে জানান, তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ১৫৩জন। কর্মবিরতীর কারণে এ পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। যতক্ষন পর্যন্ত কর্মবিরতী চলবে ততক্ষন পর্যন্ত শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না। আব্দুল ওয়াহেদ মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফারুকুল ইসলাম জানান, রোববার থেকে ৩দফা দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে। এ আন্দোলনের মধ্যে পরীক্ষা নেয়া কোনো অবস্থাতেই সম্ভব হবে না। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ব্যতিত আমাদের কিছুই করার নেই। গৌরীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ চন্দ্র চন্দ জানান, তার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯৫জন। রুটিন পরিবর্তন হওয়ায় পরীক্ষা নেয়া হয়নি। আমরাও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। বেকারকান্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন জানান, তার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১০জন। আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। অচিন্তপুর ইউনিয়নের ছিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জল রবিদাস জানান, আন্দোলনের বিষয়ে যতোক্ষন সুরাহা না হবে, ততক্ষন পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত।