ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে জুলাই
গণঅভ্যূত্থানের অনুষ্ঠানে আসার পথে রোববার (২০ জুলাই/২৫) ২০২৪’র
২০জুলাই শহীদ জোবায়ের আহমেদের বাবা মো. আনোয়ার উদ্দিনকে লাঞ্চি ও
শহীদের ভাই মো. কাউসারকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময়
কাউসারকে ফেরাতে গিয়ে আহত হন ডৌহাখলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক
সম্পাদক বিল্লাল আহাম্মেদ।
এ প্রসঙ্গে কাউসার জানায়, জিয়া চত্বরে বসে ৪/৫দিন আগে মোবাইলে
গেইম খেলছিলাম। এ সময় ২/৩জন এসে আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। তাদের
একজনকে গত শুক্রবার গোবিন্দপুর বাজারে পাই। তখন তাকে বললাম, ওইদিন শুধু
শুধু আমার সাথে এমন খারাপ আচরণ করা কি ঠিক হলো। এ জিজ্ঞাসাবাদের
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে জুলাই
পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানে আসার পথে ৫জনে ধরে আমাকে চর-থাপ্পড় মারে ও পরনে
থাকা শার্ট ছিঁড়ে ফেলে। তখন বাবাকে কল দেই। বাবা সেখানে যাওয়ার পর
বাবাকেও মারতে আসে। এ আমি বাঁধা দিলে আমাকে আবারও মারধর করে।
আমাদেরকে ফেরাতে গেলে ডৌহাখলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক
সম্পাদক জুলাইযোদ্ধা বিল্লাল আহাম্মেদের ওপরেও হামলা করে। এতে তার মাথা
ফেটে যায়। তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা
দেয়া হয়। শহীদ জোবায়ের আহমেদের বাবা আনোয়ার উদ্দিন জানান, সাবেক
উপজেলা চেয়ারমান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের ছোট ভাই শিপন
আহাম্মেদকে আমি কল দেই। আমার কল পেয়ে তার ছোট ভাই কার্জন
ঘটনাস্থলে আসে। ফিরাতে গেলে তাকেও কিলঘুষি মারে। সে হামলায় জড়িত
ছিলো না।
এ দিকে মাথায় রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন নিয়ে জুলাইযোদ্ধা বিল্লাল হোসেন ও
শহিদ জোবায়েরের ভাই কাউসারকে নিয়ে জুলাইযোদ্ধারা ‘শহীদ পরিবার ও
জুলাইযোদ্ধার ওপর হামলা কেনো- বিচার চাই, বিচার চাই’ ¯েøাগান দিয়ে
উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন।
এ সময় তাদের সাথে উপজেলা পাবলিক হলে থাকা জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ
পরিবারের সদস্যরাও বিক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য
সচিব মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, শহীদ পরিবারের ওপর হামলা, এটা অত্যন্ত
দুঃখজনক। তদন্তপূর্বক জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এপ্রসঙ্গে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল
বলেন, ২৪’র ২০জুলাইয়ের রক্তের দাগ মুছে যাওয়ার আগেই সেদিনের রক্তাক্ত
পরিবারের মাঝে আবারও রক্তের দাগ, তা শুকানোর আগে সর্বোচ্চ ২৪ঘন্টার
মধ্যে হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. দিদারুল ইসলাম বলেন,
এখন পর্যন্ত অভিযোগ পাইনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।###