আজ মঙ্গলবার ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রধান প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : মে, ১১, ২০২৪, ৯:২২ অপরাহ্ণ




আজ বিশ্ব নার্সেস দিবস :গৌরীপুরে সাড়ে ৪হাজার নরমাল ডেলিভারীর রেকর্ড অর্জন নার্স ফরিদা ইয়াসমিন

একটি হাসপাতালে একমাত্র নার্স ছিলেন মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন। ৮ঘন্টায় একা দায়িত্ব পালন করেন। আর এ সময়ের মধ্যে দু’হাতে স্বাভাবিকভাবে ৯নবজাতককে কোলে নেন তিনি। এ ঘটনাটি ঘটে ২০০৩ সনের ১৮ ফেব্রæয়ারি। সুনামগঞ্জ জেলার বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেইদিনের স্মৃতিময় ঘটনা তুলে ধরেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি ওই হাসপাতালে সেবারব্রত নিয়ে ২০০০সনের ২৩নভেম্বর প্রথম চাকুরিতে যোগদান করেন। আজ বিশ^ নার্স দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ। অর্থনৈতিক শক্তি, নার্সিং সেবার ভিত্তি।’
তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সুতিয়াকালীর দরিভাবখালী গ্রামের শামছুল আলমের স্ত্রী। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ফরিদা ইয়াসমিন ১৯৯০সনে ত্রিশাল আহাম্মদাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৯২সনে মিন্টু কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৯৫সনে ময়মনসিংহ নার্সিং ইন্সটিটিউট থেকে নার্সিং ডিপ্লোমা পাশ করেন। চাকুরি জীবনে প্রায় সাড়ে ৪হাজার নবজাতকে কোলে নেয়ার গৌরবময় এক জননী তিনি। ওই হাসপাতালে চাকুরিকালে ৩দিনের ছোট্ট শিশুকে বাঁচিয়ে হয়ে উঠেন সোহাগের মা। অবশ্য সেবা দিয়ে রোগীদের নিকট থেকে একেকবার পেয়েছেন মায়ের স্বীকৃতি। গৌরীপুরে তিনি এখন হয়ে উঠেন ‘সরলা’র মা’।
দাম্পত্যজীবনে এক কন্যা ও দুই পুত্রের জননী। মায়ের সেবার ব্রত নিয়ে এ পেশায় লেখাপড়া করছেন মেয়ে তাহমিদা আলম। নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি উর্ত্তীণ হন। ময়মনসিংহ নার্সিং ইন্সটিটিউটে বিএসসি নার্সিংয়ের শেষবর্ষে অধ্যয়নরত। আর যমজ দু’পুত্র মাহমুদুল আলম আর মাহফুজুল আলম এবার গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধিনে উভয়েই জিপিএ-৫ পেয়েছে। ওরা নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করে।

 


ফরিদা ইয়াসমিন ২০১০সনের ৪ ডিসেম্বর গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। তিনি জানান, ২০১৪সনের দিকে সরলা আক্তার নামে একজন গভবর্তী মা আসেন। তার অবস্থা ও গর্ভের সন্তানের অবস্থা ছিলো অত্যন্ত জটিল। ডাক্তারসহ আমরা হতাশ। আর্থিক সামর্থ্যও নেই। আমাকে জরিয়ে ধরেন তার মা। তিনি বললেন, সরলাকে বাঁচান তিনি আমার সন্তান না, আপনার সন্তান! সেই দিন টানা ২৭ঘন্টা ডিউটি করেছি ‘শুধু সরলাকে বাঁচাতে।’ সরলা বাঁচলো, বেঁচে আছে তার গর্ভের সন্তানও। সেই থেকে আজও আমি সরলার মা। আর ওর সন্তানের নানী হয়ে গেছি।
তিনি জানান, আমি যখন বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তখন ৩দিনের নবজাতক সোহাগ। নিউমেনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত, শরীর হাড্ডিসার। ইনজেকশান দিবো, ক্যানোলা করার রগ খোঁজে পাচ্ছিলাম না। ডাক্তার ওই রোগীকে ছাড়পত্র দিলেন, মা ও বাবা দু’জন আমাকে জরিয়ে ধরলো। ওরা বললো, সিলেটের হাসপাতালে নিতেনিতে আমার সন্তান বাঁচবো না। সেটা ছিলো ২০০৩সনের ১৮ ফেব্রæয়ারি। ডাক্তার আমাকে ডাকলেন, তিনি বললেন শিশুটার অবস্থা খুব জটিল। সিলেট ছাড়পত্র দিয়েছি। আমি অনুরোধ করলাম, বাবা ও মা দু’জন বনসই (সন্তান মারা গেলেও তারা কোনো অভিযোগ থাকবে না) দিলো। তখন আমার আমার দু’সন্তানের বয়স মাত্র ৭মাস। ওদেরকে ১১ঘন্টা বাসায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছি। মতিউর রহমানের তিন বয়সের সোহাগ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, আজও কল দেয়, কথা বলে। সোহাগও মা বলে ডাকে। তিনি খুঁশি হয়ে তার বাড়ি থেকে একটি একব্যাগ ভরে টাটকা সবজি নিয়ে আসেন, সত্যিই এ ভালোবাসা প্রাপ্তি অন্যরকম এক অনুভূতি, যা আজ ভুলতে পারি নাই।




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০