ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের কলাবাগান ছয়গন্ডা মহল্লার মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র জামাল মিয়া (৪১) কে কুপিয়ে হত্যাকাÐের ঘটনায় রোববার (২২ অক্টোবর/২৩) গৌরীপুর থানায় মামলা হয়েছে। এ মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই মো. স্বপন মিয়া। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পৌর শহরের পূর্বদাপুনিয়া মহল্লার মৃত হাফিজ উদ্দিনের পুত্র মো. শরিফ মিয়া ও তার পুত্র মো. সজিবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, আসামীদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পলাতকেও গ্রেফতারের চেস্টা চলছে।
নিহতের বড় ভাই স্বপন মিয়া জানান, শরীফের নিকট আমার ছোট ভাই জামাল মিয়া টাকা পাইতো। সেই টাকা আনতে গিয়েছিলো। টাকা দিবে এ কথা বলে শুক্রবার রাতে ফোন দিয়ে বাসায় নিয়ে ঘরের ভিতরে পরিকল্পিতভাবে শরিফ, তার স্ত্রী শামছুন্নাহার ও তার ছেলে সজিব উপর্যুপুরি কুপিয়ে আহত করে। জামালকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ৭টায় মারা যায়।
নিহতের মা রহিমা খাতুন যুগান্তরকে জানান, আমার ছেলের রক্তে আঁচল ভিজে গেছে, তার ঘরটাও রক্তে ভেসে গেছে। আমার ছেলেকে যারা মেরেছে, তাদের ফাঁসি চাই।
গৌরীপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, পুর্বদাপুনিয়ার শরিফের স্ত্রী শামছুন্নাহারের সঙ্গে পাশ^বর্তী কলাবাগান ছয়গন্ডার মহল্লার জামাল মিয়ার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশও হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে দু’পরিবারের মাঝে দ্ব›দ্ব চলছিলো। প্রতিবেশীরা জানান, হ্যান্ডট্রলি চালক জামালের গাড়িতে কাজ করতো শরিফের পুত্র সজিব মিয়া। এ কারণে শরিফের বাসায়ও জামাল মিয়াকে নানা সময় আসা-যাওয়া করতে দেখা গেছে। শামছুন্নাহারের পরকীয়া সম্পর্কটা মেনে নিতে না পারায় বাবা-ছেলে মিলেই জামালকে হত্যা করেছে বলে তাদের ধারণা।
নিহত জামাল মিয়ার জানাযা শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় কলাবাগান ছয়গÐা এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হয়েছে।