আজ মঙ্গলবার ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
বাংলাদেশ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে.. ড. এ টি এম বদরুজ্জামান এসিল্যান্ড সুনন্দাকে বিদায় সংবর্ধনা দিল গৌরীপুর প্রেসক্লাব শতভাগ ফেল লক্ষিপুর দাখিল মাদরাসা ॥ পাশের চেয়ে ফেল বারগুণ! গৌরীপুরে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮১ জন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী’র সহধর্মিনীর রোগমুক্তি কামনা অনুষ্ঠানে ॥ নববধূর হাতের রঙ মোছার সময়ও বর্তমান সরকারের হয়নি গৌরীপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়ান দিবসে আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠান নেত্রকোণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নদী ও খালপাড় রক্ষায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে সভা গৌরীপুরে ফুটবল আনতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু! দেশে আসেন, দেখা হবে রাজপথে: হাসিনাকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই পুণ:জার্গরণে গ্র্যাফিতিতে গৌরীপুর দর্শনার্থীদের ভিড়
তাসাদদুল করিম || ওয়েব ইনচার্জ, দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : অক্টোবর, ১০, ২০২৩, ১১:০৮ অপরাহ্ণ




‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে সিগারেট কোম্পানির অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে ময়মনসিংহে সংবাদ সম্মেলন

২০৪০সনের মধ্যে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে তামাক কোম্পানীর অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর/২০২৩) জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত। এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, বাংলাদেশ য²া নিরোধ সমিতি (নাটাব), উশিকা সমাজকল্যাণ সংস্থা, সতিশা যুব ও কিশোর সংঘ।

ময়মনসিংহ জেলা শহর ও উপজেলায় তামাক কোম্পানীগুলোর অবৈধ বিজ্ঞাপন ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্গনের তথ্যচিত্র তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সতিশা যুব ও কিশোর সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. রইছ উদ্দিন। তিনি জানান, ময়মনসিংহ জেলা সদর, গৌরীপুর, ঈশ^রগঞ্জ ও নান্দাইল উপজেলার ২০টি স্থানে দেখা গেছে ১৪৭টি অবৈধ বিজ্ঞাপন রয়েছে। গৌরীপুর আরকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেইটের সামনে তামাকপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অমিত রায়, বাংলাদেশ য²া নিরোধ সমিতি নাটাব ময়মনসিংহের ফিল্ড অফিসার মো. রবিউল ইসলাম, ময়মনসিংহ উশিকা সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. আব্দুল কদ্দুছ, গৌরীপুর যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আল রাজ, সতিশা যুব ও কিশোর সংঘের নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বুরহান, শামীম আনোয়ার, তাসাদদুল করিম, গৌরীপুর রক্তদান ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আশিকুর রহমান রাজিব প্রমুখ।

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অমিত রায় বলেন, তামাক ভয়ালথাবা থেকে তরুণকে রক্ষা করতে হবে। আমার স্কুল জীবনের তামাকের প্রতি শিক্ষার্থীদের এতো আকৃষ্ট হতে দেখি নাই। আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত দুরত্ব বজায় ও অপ্রাপ্তদের নিকট তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি থেকে বিরত থাকতে হবে। গণসচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।
নাটাব প্রতিনিধি মো. রবিউল ইসলাম জানান, সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে এদেশে তামাকমুক্ত করতে চায়। আর আপনার-আমার সন্তানদের তামাকে আকৃষ্ট করে তামাক কোম্পানী চায় বাণিজ্য। এই বাণিজ্যের কারণে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৬১ হাজার মানুষ মারা যায় এবং ১৫ লক্ষাধিক মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছে। প্রতি বছর ৬১ হাজারের অধিক শিশু পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এইসব অকাল মৃত্যু এবং জটিল রোগ ভুক্তভোগী পরিবারকে সম্পূর্ণ এলোমেলো করে দেয়। দেশের অর্থনীতিতেও তা ভয়ংকর নেতিবাচক প্রভাব রাখে।
উশিকা সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. আব্দুল কদ্দুছ বলেন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ২০০৫ সালে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিধি জারি করা হয়েছে। আইন লঙ্গন করে তামাক কোম্পানীগুলোর নানা কুটকৌশলে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যা রুখতে না পারলে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করা যাবে না।

গৌরীপুর যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আল রাজ বলেন, আইন বহির্ভূত এ সকল কার্যক্রমের মূলে রয়েছে দুটি বিদেশী সিগারেট কোম্পানি- ‘বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি (বিএটি) ও ‘জাপান টোব্যাকো কোম্পানি (জেটিআই)। আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি তারা নানানভাবে বিদ্যমান আইনটির সংশোধনী প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করছে।
তিনি জানান, দ্রæততম সময়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী চূড়ান্ত করা, তামাক কোম্পানির প্রভাব থেকে নীতি সুরক্ষায় এফসিটিসি এর অনুচ্ছেদ ৫.৩ অনুসারে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ গ্রহণ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি’দ্রæত চূড়ান্ত এবং দেশব্যাপী যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করা, টাস্কফোর্স কমিটিসমূহ সক্রিয় করা, কমিটির ত্রৈমাসিক সভা নিয়মিতকরণ, সভার সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা, আইন লঙ্ঘনের দায়ে তামাক কোম্পানি/প্রতিনিধিকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি জেল প্রদান, আইন লঙ্ঘনকারী তামাক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মনিটরিং কার্যক্রমের সাথে বেসরকারী সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করা, ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে একটি শক্তিশালী তামাক কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার জোর সুপারিশ করেন।

বক্তরা আরও বলেন, আজ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অসংক্রামক রোগের চাপে বিপর্যস্ত। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার এই তিন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ব্যবহার। দেশের তিন কোটির বেশি মানুষ তামাক ব্যবহার করে। আর এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে তামাক ত্যাগ করাতে সরকার নানা উদ্যোগে ব্যস্ত। অপরদিকে কোম্পানিগুলো আইন ভঙ্গ করে নতুন ধূমপায়ী তৈরি এবং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করতে নানা অপকৌশল অবলম্বন করছে। তাদের কারণে দেশের অর্থনীতিতেও তা ভয়ংকর নেতিবাচক প্রভাব রাখে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি কর্তৃক পরিচালিত গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে তামাক ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণে সরকারের বাৎসরিক ব্যয় হয় ৩০ হাজার কোটি টাকা। বিগত ৫ বছরে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই ব্যয় যে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
মূল বক্তব্যে সতিশা যুব ও কিশোর সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. রইছ উদ্দিন বলেন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ২০০৫ সালে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিধি জারি করা হয়। এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য দেশে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা এবং নতুনদের তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা-৫ এ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি, দেশের তামাক কোম্পানিগুলো আইন ভঙ্গ করে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিক্রেতাদের উৎসাহিত করছে। সম্প্রতি দেশের ৫টি সিটি কর্পোরেশন, ১৬টি জেলা ও ৩২টি পৌরসভায় পরিচালিত জরিপে ২২,৭২৩ টি বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার লঙ্ঘন চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তামাকের বিজ্ঞাপন অপসারণ করেছে।
তিনি জানান, অতি সম্প্রতি ময়মনসিংহের ২০টি এলাকায় এরমধ্যে গৌরীপুর উপজেলার পৌরশহরের রেলওয়ে জংশন, উত্তর বাজার, কালিপুর মধ্যম তরফ, বালুয়াপাড়া মোড়ের বাজার, কলতাপাড়া বাজার, শাহগঞ্জ বাজার, রামগোপালপুর বাজার, পাছারবাজার, তাঁতকুড়া বাজার, ডৌহাখলা বাজার, ঈশ^রগঞ্জের সোহাগী বাজার, ঈশ^রগঞ্জ বাজার, উচাখিলা বাজার, নান্দাইল বাজার, ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ মোড় পৃথক এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে নানাভাবে তামাক কোম্পানিগুলো তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে, বাজার, বাস স্টেশন ও জনবহুল এলাকায় তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার হার বেশি। বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে সিগারেটের মূল্য তালিকা টাঙিয়ে, বিভিন্ন দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে, বর্ষায় ছাতা উপকরণ বিতরণ, সিগারেটের দোকানগুলোতে সিগারেট সাজিয়ে দেয়াসহ নানা অভিনব ও আকর্ষণীয় উপায়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আইনে তামাকজাত দ্রব্যের কার্টনে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সিগারেটের কার্টনে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করা হচ্ছে না। এছাড়াও ক্রেতা ও বিক্রেতাকে খালি প্যাকেট জমা দেয়া, বিড়ির প্যাকেটে নানা উপহারের ঘোষণা, নতুনদের আকৃষ্ট করতে উপহার সামগ্রী বিড়ি ও সিগারেট উপহার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। সিগারেট সরবরাহের বাহনসমূহেও (ভ্যান, পিকাপ ভ্যান) তারা সিগারেটের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি প্রচারণা ও বিপণন কাজে তরুণদের ব্যবহার করে কিশোর ও তরুণদের ধূমপানে উদ্বুদ্ধ করতে তাদের মধ্যে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করছে। আইনে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়া সত্তে¡ও বিক্রেতারা শিশু-কিশোরদের কাছে অবাধে সিগারেট বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। আইন বহির্ভূত এ সকল কার্যক্রমের মূলে রয়েছে দুটি বিদেশী সিগারেট কোম্পানি- ‘বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি (বিএটি) ও ‘জাপান টোব্যাকো কোম্পানি (জেটিআই)। আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি তারা নানানভাবে বিদ্যমান আইনটির সংশোধনী প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করছে। এখানে শুধুমাত্র ময়মনসিংহ জেলার তথ্য উপস্থাপন করা হলেও সারাদেশের চিত্র প্রায় একই রকম।
আরও বলেন, তামাক কোম্পানির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মূল লক্ষ্য হলো কিশোর ও তরুণেরা যারা এখনো ধূমপান করতে শুরু করেনি। এদের কেউ আপনার আমার সন্তান বা নিকটজন। জনগণের সুরক্ষার জন্যই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাকের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানির প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় ‘বিক্রয়কেন্দ্র’গুলোতে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার পাশাপাশি বিক্রেতাদেরকে ‘পার্টনার’ হিসেবে চুক্তিবদ্ধ করে আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে। এভাবে, বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, সিগারেটের কার্টনে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান না করা, সিগারেটের ক্রেতা বিক্রেতাদের উপহার সামগ্রী প্রদান, বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ, শিশু-কিশোরদের কাছে সিগারেট বিক্রি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এসব কাজেও তামাক কোম্পানির সরাসরি সংযোগ রয়েছে। এছাড়া নাটক, সিনেমায় জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পীদের ধূমপান প্রদর্শন বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। তামাক কোম্পানিগুলো এসব নাটক, সিনেমায় পৃষ্ঠপোষকতাও করে থাকে। যা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে ওটিটি (ঙঞঞ) প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নির্মিত ওয়েব সিরিজগুলো তরুণদের মাঝে অধিক জনপ্রিয়। এ সুযোগে ওটিটি (ঙঞঞ) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে ধূমপানসহ তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে যা তাদের ধূমপানে উৎসাহিত করছে।
তামাকবিরোধী নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তরুণদের সম্পৃক্ত করে ‘ব্যাটল অব মাইন্ড’ ‘এক্সসিড’ ইত্যাদি নামে প্রচারণামূলক কর্মসূচি চালাচ্ছে। সরকারের ২০৪০ সালের মধ্যে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রত্যক্ষ প্রচার-প্রচারণা, বিজ্ঞাপন ও প্রণোদনা নিষিদ্ধ হওয়ায় তামাক কোম্পানিগুলো এসব কসর্মসূচির মাধ্যমে তাদের নাম ও ব্র্যান্ডকে তরুণদের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য বিশ^বিদ্যালয়ে তারা এম্বাসেডর নিয়োগ করছে। যা আইন লঙ্ঘন করে সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আড়ালে ভালো ইমেজ গড়ে তোলার অপচেষ্টা। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করে অজ¯্র প্রতিযোগির মধ্যে গুটিকয়েককে চাকরি প্রদানের আড়ালে পণ্যের প্রচারণাই তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য।
তারা জানান, এক গবেষণায় দেখা যায় তামাকের নেশায় আসক্তদের অধিকাংশ তরুণ ও কিশোর বয়সে ধূমপান শুরু করে। তাদের মধ্যে বন্ধুবান্ধব ও বিজ্ঞাপনের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়,। অস্ট্রেলিয়ায় একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারী এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন দেখে সিগারেট ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও তামাক কোম্পানিগুলো মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে ই-সিগারেটকে নিরাপদ হিসাবে তুলে ধরে তরুণদেরকে ই-সিগারেটে আসক্ত এবং বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে ই-সিগারেটকে আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। ক্ষতিকর বিধায় ভারতসহ বিশ্বের ৪৭টি দেশ ইতিমধ্যেই এটি নিষিদ্ধ করেছে। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, তামাক কোম্পানিগুলোর মদদে রেষ্টুরেন্টগুলো ধূমপানের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষ রেস্টুরেন্টে যায় মূলত সুন্দর পরিবেশে কিছুটা সুন্দর সময় কাটানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার জন্য। কিন্তু বিদেশী কয়েকটি তামাক কোম্পানির সরাসরি মদদ ও অর্থায়নে দেশে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে অবাধে ধূমপানের স্থান গড়ে উঠছে এবং এতে কিছু কিছু মালিকও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন। যদিও বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট এসোশিয়েশনের অধিকাংশ সদস্য এধরণের ধূমপানের স্থানের বিরোধিতা করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, বাজারে সিগারেট বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানিগুলো মূল্য কারসাজি করছে। তারা সিগারেটের প্যাকেটে খুচরা মূল্য লিখছে একধরণের, কিন্তু বিক্রির সময় তা ৫% থেকে ২০% পর্যন্ত বাড়িয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। খুচরা বিক্রয় মূল্যের ওপর কর পরিশোধের বিধান থাকলেও প্রকৃতপক্ষে প্যাকেটে লেখা মূল্যের ওপর কর পরিশোধ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে, এভাবে তারা বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। উল্লেখিত বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও এই সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। এভাবেও তারা কয়েক মাসে ৫-৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়।
লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরা হয়, তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে এবং এই খাত থেকে রাজস্ব আয় বাড়াতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে সামান্য পরিমাণ মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য স্পষ্টভাবে মুদ্রিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়েও মোড়কে উল্লেখিত মূল্যেই সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য সম্প্রতি গোল্ডলিফ, ক্যামেল, নেভি, শেখসহ বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের সিগারেটের মোড়কে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (গজচ) ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু বাজেট ঘোষণার প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও বাজারে এখনও বিগত অর্থবছরে প্রস্তুতকৃত তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করতে দেখা যাচ্ছে এবং পূর্বের ন্যায় ক্রেতাদের কাছ থেকে স্থানভেদে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে মুদ্রিত মূল্যের থেকে ১০-৩৫ টাকা অধিক মূল্য আদায় করা হচ্ছে যা রাস্ট্রের আইনের লঙ্ঘন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, উল্লেখিত আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে তামাক কোম্পানিগুলো বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।
তারা আরও বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৩৫.৩% (৩ কোটি ৭৮ লক্ষ) মানুষ তামাকজাত দ্রব্য সেবন করে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বাড়িতে ৪ কোটি ১০ লক্ষ এবং গণপরিবহন ও জনসমাগমস্থলে ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ মানুষ ক্ষতির শিকার হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে “জনস্বাস্থ্যের উন্নতি রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব ” হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৩ (ক) তে এফসিটিসির বাস্তবায়ন জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। সার্বিকভাবে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৩ অর্জনের জন্য বাংলাদেশেকে তামাকমুক্ত করা আবশ্যক। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসডিজি অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ৭ম ও ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে যুক্ত করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ দাবী করেন, তামাকের বহুমাত্রিক ক্ষতি থেকে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, জীব-বৈচিত্র্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ধূর্ত তামাক কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী প্রচার-প্রচারণা থেকে শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় সরকার দেশে বিদ্যমান আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিদ্যমান আইনের উল্লেখযোগ্য সংশোধন ও সংযোজন হচ্ছে- পাবলিক প্লেস, পরিবহনের আওতা বৃদ্ধি ও এ সকল স্থানে সব ধরণের তামাকজাত দ্রব্য সেবন নিষিদ্ধ, জরিমানা বৃদ্ধি এবং এসব স্থানে আলাদাভাবে ‘ধূমপানের স্থান’ না রাখা। তামাক কোম্পানির ‘সিএসআর’ কর্মকান্ড নিষিদ্ধ। বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য দৃষ্টির আড়ালে রাখা। খোলা ও খুচরা এবং ভ্রাম্যমান তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের দোকান না রাখা। তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা। তামাক পণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী ৯০% করা। ই-সিগারেট বা ভেপিংয়ের আমদানি, উৎপাদন, বিক্রয়, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা উল্লেখযোগ্য। বিগত দিনের মতো এবারও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন কার্যক্রমের শুরু থেকেই তামাক কোম্পানি ও তার দোসররা গুরুত্বপূর্ণ এ উদ্যোগটি বিফল ও বিলম্ব করতে তারা নানা মিথ্যাচার এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়ে চলেছে। তামাক কোম্পানি কোনভাবেই রাষ্ট্রীয় আইনের উর্ধ্বে নয়। জনস্বাস্থ্যকে প্রধান্য দিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণ ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামাক কোম্পানিগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ অর্জন ত্বরান্বিত হবে। এতে আমাদের সন্তান ও প্রিয়জনদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এজন্য তামাক কোম্পানির সব ধরণের অপতৎপরতা বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরী।
প্রেসবিজ্ঞপ্তি :
(মো. রইছ উদ্দিন)
সাধারণ সম্পাদক, সতিশা যুব ও কিশোর সংঘ, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ।
০১৭১১৩৯১৩৪৪, ০১৯১১০৬৯২১০(হোয়াটস্যাপ),




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১