ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার সহ¯্রাধিক বাড়িঘরে পানি উঠেছে। তলিয়ে গেছে কৃষক ফসল, রাস্তাঘাট। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত টানা অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎতের খুঁটি ধসে পড়েছে ও সম্প্রসারণ লাইনেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ রির্পোট পাঠানো পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
বোকাইনগর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তার ৩টি পুকুরের প্রায় ৫লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। একই সঙ্গে ১একর ৬০শতাংশ রোপিত আমনধান পানি নিচে তলিয়ে গেছে। পৌর শহরের কলাবাগানের রাস্তায় পানি উঠেছে। বিয়েবাড়ি বরযাত্রীরা ইজিবাইকে বিয়ে বাড়িতে যেতে দেখা যায়। সতিষা গ্রামের প্রধানমন্ত্রী দেয়া আশ্রয় প্রকল্পের ১৪টি পরিবার পানির জন্যে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। বাড়িওয়ালাপাড়ার সুমাইয়া আক্তার জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তার ঘরে হাঁটু পানি। সতিষা গ্রামের কৃষক মো. মফিজ উদ্দিন জানান, তার রোপিত আমনের ৯০শতাংশ জমির ফসল এখন পানির নিচে। রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত উসমান খানের পুত্র মো. জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, তার ৪টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। সতিষা গ্রামের আবুহেনা মোস্তফা কামাল রিপন জানান, ২টি পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে। পৌর শহরের পশ্চিমদাপুনিয়া, পূর্বদাপুনিয়া, শান্তিবাগ, কলেজ রোড, বাড়িওয়ালাপাড়া, নতুনবাজার ও বালুয়াপাড়া কয়েক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেল জানান, যেদিকে যাচ্ছি সেদিকেও ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মুখ দেখা যায়। ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাওহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আল ফারুক জানান, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও ফিসারী মালিকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। হাজারো কৃষকের ধান ও শতশত ফিসারীর মাছ ভেসে গেছে। অতিবৃষ্টিতে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি জানান, এ ইউনিয়নের কমপক্ষে ৫শ ফিসারী মালিক রয়েছেন। সবাই ক্ষতিগ্রস্থ। মৎস্যখাতে কমপক্ষে শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের সব ফসল পানির নিচে। পৌর শহরের সরকারপাড়া সড়কে রাস্তার ওপরে মাছ ধরার উৎসব চলছে। ফিসারী থেখে ভেসে আসা মাছ ধরতে বিভিন্ন এলাকায় মহোৎসব শুরু হয়েছে।
এদিকে জরুরী অবস্থায় মোকাবেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফৌজিয়া নাজনীনের নেতৃত্বে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। মাছের ফিসারী ও কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।