মৃত মাকেও তুলোধনো করলেন রইছ উদ্দিন। কবরে শায়িত মাকে ক্ষমা করবেন কি, না? এমন প্রশ্নের পরেও ক্ষমতার দম্ভ থেকে এক চুল নড়েননি তিনি। বললেন, আমি ক্ষমা করার কে? আল্লাহ যদি ক্ষমা না করেন। এ প্রতিনিধি পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, ঋণ যার কাছে, তাকে আগে ক্ষমা করতে হয়, এটা ইসলামের বিধান আছে শোনলাম! তখনও তিনি ক্ষমা করার বিষয়টি এড়িয়ে যান রইছ উদ্দিন। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা। উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালী গ্রামের মোমতাজ উদ্দিনের পুত্র।
রইছ উদ্দিন বললেন, কিভাবে ক্ষমা করবো মাকে, যে মায়ের কারণে আমার গায়েবী জানাযা হয়েছে। আমি এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলাম, এইচএসসিতেও ভালো রেজাল্ট করার পরেও কাঙ্খিত বিশ^বিদ্যালয়ে পড়তে পারি নাই। আমাকে কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হয়েছে। গার্মেন্টে কাজ করেছি, যে টাকা উর্পাজন করেছি, সেই টাকা প্যাকেট চেক করে রেখে দিয়েছে আমার মা ও বোন। তাদের জন্যই আজকে আমার এ অবস্থা। বাড়িতে থাকতে পারি নাই। বাড়িতে থাকতে দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমি মৃত! আমার গায়েবী জানাযা হয়েছে। মৃত মানুষ কি? অন্যের জানাযায় যেতে পারে; পারে না। তাই আমার মায়ের জানাযায়ও যাইনি।
মায়ের জানাযায় না যাওয়ায় রইছ উদ্দিনকে নিয়ে পুরো এলাকা ও তার আত্মীয়-স্বজন ক্ষোভ ফুসছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রামবাসীকে হয়রানি ও নিরীহগ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা করে শায়েস্তাকরণসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। ইউএনও অফিসের কর্মরত থাকায় পান থেকে চুন খসলেই রক্ষা নেই প্রতিবেশীদের। মেয়ে বিয়ে না দেয়ায় সেই মেয়ের বাবা ও তার আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রী ও মামলা করেন এ রইছ উদ্দিন। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।
অবশেষ রইছ উদ্দিন মায়ের জানাযার নামাজে অংশ না নেয়ার বিষয়টি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ স্যারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো ছিলো না। আর মারা গেছে এক তারিখ। মাসের প্রথমদিন অফিসে অনেক কাজ থাকে, তাই কাজের ব্যবস্তাও ছিলো। তাই জানাযায় যেতে পারি নাই।
জেলখানায় বন্দিদের জানাযায় অংশ নেয়ার জন্য প্যারালে মুক্তি দেয়া হয়, অথচ একই উপজেলায় একই এলাকায় থেকে শুধু জানাযার নামাজে অংশ নেয়ার সময়টুকু কী পেলেন না? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি।
রইছ উদ্দিন কাণ্ডের দ্বিতীয় পর্ব : মেয়ে বিয়ে না দেয়ায় মামলা করলেন গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রইছ উদ্দিন