স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় ময়মনসিংহের গৌরীপুরের বোকাইনগর ইউনিয়নের মাইজহাটি এলাকায় থেকে কামরুল হোসেন আলরাজীর লাশ বৃহস্পতিবার (৩আগস্ট/২৩) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের উপস্থিতিতে উত্তোলন করে গৌরীপুর থানার পুলিশের সহযোগিতায় দক্ষিণখান থানার পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী অফিসার ঢাকার দক্ষিণখান পাড়ার সাবইন্সপেক্টর আবুবক্কর সিদ্দিক জানান, গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের মাইজহাটি গ্রামের নাজমুল হকের পুত্র কামরুল হোসেন আলরাজী ঢাকার সোহরাওয়াদী হাসপাতালে এ বছরের ১০ মে মারা যান। তাকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে তার স্ত্রী মাকসুদা আক্তার বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন। এ মামলার নিহতের বড় ভাই মো. ইমরুল হোসেন খোকন (৪৫), তার স্ত্রী শারমিন আক্তার সেলিনা (৩৫), চপল (৩৪), নবীয়া সুলতানা (৩০), হাসনা জ্নানাত শিরিন (৪২), রাসেল (৪৫), নাজমা আনার (৪৮), কামাল পাশা (৩৬), পারভীন (৫০) আসামী করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আজ বৃহস্পতিবার লাশ উত্তোলন করা হয়। ময়না তদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী মাকসুদা আক্তার জানান, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর পর আমাকে লাশও দেখতে দেয়নি। হাসপাতালে যেতে দেয়নি। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। হাসপাতালে দেয়া মৃত্যু সনদে বিষক্রিয়ায় (টহশহড়হি চড়রংড়হরহম) মৃত্যু হয়েছে বলেও উল্লেখ আছে। তিনি আরও জানান, লাশ দাফনের সময় আমি বারবার আপত্তি করার পরেও কেউ কথা শোনেনি। আপত্তি করায় আমাকে তখন শারীরিকভাবে নির্যাতন করাও হয়েছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।
এ প্রসঙ্গে নিহতের মা সুফিয়া বেগম জানান, আমার ছেলেরা তার ভাইকে হত্যা করে নাই, তাদের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিলো, হৃদয়ের সম্পর্ক ছিলো। বরং তার স্ত্রীর সঙ্গে ওর বনিবনা হচ্ছিল না। সেখানে প্রায়শ: অভিযোগ করতো। যেদিন সে অসুস্থ হয় ঢাকায় নিজের বাসায় একা ছিলো। বাসার মালিক দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আমার কোনো সন্তানও ছিলো না। এ হত্যাকাণ্ডের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুরো পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।