আজ বুধবার ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
বাংলাদেশ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে.. ড. এ টি এম বদরুজ্জামান এসিল্যান্ড সুনন্দাকে বিদায় সংবর্ধনা দিল গৌরীপুর প্রেসক্লাব শতভাগ ফেল লক্ষিপুর দাখিল মাদরাসা ॥ পাশের চেয়ে ফেল বারগুণ! গৌরীপুরে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮১ জন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী’র সহধর্মিনীর রোগমুক্তি কামনা অনুষ্ঠানে ॥ নববধূর হাতের রঙ মোছার সময়ও বর্তমান সরকারের হয়নি গৌরীপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়ান দিবসে আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠান নেত্রকোণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নদী ও খালপাড় রক্ষায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে সভা গৌরীপুরে ফুটবল আনতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু! দেশে আসেন, দেখা হবে রাজপথে: হাসিনাকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই পুণ:জার্গরণে গ্র্যাফিতিতে গৌরীপুর দর্শনার্থীদের ভিড়
নিজস্ব প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : জুলাই, ২৭, ২০২৩, ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ




জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ॥ রেনু পোনা উৎপাদনে জাতীয় মৎস্য পদক পেলেন গৌরীপুরের যতীন্দ্র বর্মণ

এক ঝাঁকিজালেই বদলে গেছে যতীন্দ্র বর্মণ। এবার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে রেনু পোনা উৎপাদনে পেয়েছেন জাতীয় মৎস্য পদক। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের স্বর্গীয় ধীরেন্দ্র বর্মন ও মাতা রজকিনী বর্মণের পুত্র। মঙ্গলবার (২৫জুলাই/২৩) রেনু পোনা উৎপাদনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিতে জাতীয় মৎস্য পদক (ব্রোঞ্চ) তুলে দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ।
মৎস্য চাষে ব্যতিক্রমী বদলে দেয়া জীবনের এক গল্পের নায়ক হলে যতীন্দ্র বর্মণ। তিনি গভীররাতে একটু ঘুমের জন্য কটু কথা শোনে চাকুরী ছেড়ে দেন। নর্দমায় এসে মৎস্য চাষে তিনি আজ হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। লাখো মানুষের নিকট আজ তিনিই উদাহরণ। এ প্রসঙ্গে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার (অতি.দায়িত্ব) এএসএম সানোয়ার রাসেল জানান, যতীন্দ্র বর্মণের হ্যাচারী এ অঞ্চলে গুনগত মানুষের রেনু উৎপাদন করে। মাছ চাষে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।
জন্ম ঊনিশত একষট্টি সালের সাত জানুয়ারি বয়স দশের কোটায়। পাকহানাদার বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন ও তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। ভয় আতঙ্ক আর অভারেব মাঝেই বেড়ে উঠেন তিনি। অভাবের সংসারে হাল ধরতে একমাত্র সম্বল ঝাঁকিজাল নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। অন্যের পুকুরে মাছ শিকার আর মাঝে মধ্যে যাত্রা দলে গানও করেন। বাবা চলে যাওয়ার পর তিন ভাই চার বোনের সংসারে বৈঠা ধরতে হয় তৎকালীন এই কিশোরকেই। কাঁধে উঠে বারবাঁশও। তা দিয়ে মাছে পোনা নিয়ে প্রত্যন্ত ফেরি করেন।
সঙ্গ ছিলো গান।
তিনি জানান, মাছ ধরার সঙ্গে সঙ্গী ছিলো গান। বাবার মালিকানাধীন কৃষ্ণ নীলা যাত্রায় প্রথম গানের হাতেখড়ি। অংশ নেন নাটক ও যাত্রাভিয়ে। রামায়নেও ছিলেন পারদর্শী সুকন্ঠে রামায়নের জন্য জমিদার রুহিন্দ্র কান্ত লাহিড়ী কর্তৃক ‘কৃষ্ণ’ উপাধিতেও ভূষিত হন। পুরস্কার হিসাবে দেন ৫শতাংশ জমি। ১৯৯৫-৯৬সালে রামগোপালপুরে একটি নর্দমা পুকুর ভাড়া নেন। পরিস্কার করে পোনা মাছ উৎপাদন শুরু করেন। সেই থেকে নতুন এক অভিযাত্রায় নামেন যতীন্দ্র বর্মণ।
যতীন বর্মণ জানান, আজ তিনি বর্মণ মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের (হ্যাচারী) মালিক। দৈনিক হাজিরায় ৪২জনসহ সৃষ্টি করেছেন সহস্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থান। প্রতিদিন বারবাঁশে করে ৪০/৪৫জন ক্ষুদে ব্যবসায়ী দৈনিক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহী করছেন। এছাড়াও সিলেট, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, জামালপুরসহ দেশের ৭০টি খামারী নিয়মিত রেনু নেন এ হ্যাচারী থেকে।
১২শ টাকা বেতনে চাকুরীও নিয়েছিলেন তিনি। রাতে একটু ঘুমিয়ে যাওয়ার পর মালিকের বকনি শোনে সেই চাকুরীটা ছেড়ে দেন। মনেমনে পণ করেন জীবনে কখনও চাকুরী করবো না। আমি মানুষকে চাকুরী দিবো। সেই শপথেই এগিয়ে যান যতীন্দ্র।
ছেলে হিমেল বর্মণও এখন বাবার পেশায়যুক্ত হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী কন্যা অর্চনা বর্মন। নিপা বর্মন মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। নিপা বাবার সেই সুরের মোর্চায় নিজেকেও ঝালিয়ে নেন। পেয়েছিলেন ভারতের জি বাংলা সারেগামাপা’র ইয়েস কার্ডও। বাবার মালিকানাধীন কৃষ্ণ নীলা যাত্রার মাধ্যমে সংস্কৃতি অঙ্গনে প্রবেশ। গান-বাজনাও জীবিকার মাধ্যম হয়ে উঠে। অন্যের পুকুরে মাছ শিকারও ছিলো জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন।
যতীন্দ্র বর্মণ নিজে মাছ চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন। মাছ চাষে উদ্বুদ্ধকরণে নিজেই তৈরি করেন অসংখ্য গান ও জারী। নিজের দল নিয়েই হাঁটে-বাজারে মজমা করে মাছের প্রচারণা চালান। মাছ নিয়ে নানা কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও নিজে গান লিখেন, সুর করেন ও প্রচারণা করেন তিনি। যতীন্দ্র বর্মণ মাছ চাষে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে হাজারো মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতছানি দিয়েছেন। পেয়েছেন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী এবং খামারী পদকও।
জানা যায়, এ বছর নির্ধারিত ৯টি ক্ষেত্রের মধ্যে ৮টি ক্ষেত্রে ৮টি স্বর্ণ, ৭টি ক্ষেত্রে ৭টি রৌপ্য ও ৬টি ক্ষেত্রে ৬টি ব্রোঞ্জপদক প্রদান করা হয়েছে। স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১৮ ক্যারেট মানের ১৫ (পনেরো) গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণের মেডেল, সম্মাননা সনদ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া রৌপ্যপদক প্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ গ্রাম ওজনের একটি রুপার মেডেল, সম্মাননা সনদ ও নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং ব্রোঞ্জপদক প্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি ব্রোঞ্জের মেডেল, সম্মাননা সনদ ও নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। মৎস্য পদক ঘোষণা করেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক।
স্বর্ণপদক প্রাপ্তরা হলেন মাছের গুণগতমানের রেণু উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বগুড়ার শেরপুরের মেসার্স মাইজভান্ডারী মৎস্য খামার, মাছের গুণগতমানের পোনা উৎপাদনের জন্য গাজীপুর কাপাসিয়ার ছোয়া ফিশারিজ অ্যান্ড হ্যাচারিজ, মৎস্য উৎপাদনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সুখবিলাস ফিশারিজ অ্যান্ড প্লানটেশন, গুণগতমানের বাগদা চিংড়ি পিএল উৎপাদনের জন্য কক্সবাজারের উখিয়ার নিউ রয়েল শ্রিম্প হ্যাচারি, গলদা চিংড়ি উৎপাদনের জন্য খুলনার রায়হান এগ্রো ফিসারিজ, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ, রপ্তানিতে ও মৎস্যজাত পণ্য বহুমুখীকরণে খুলনা ফ্রোজেন ফুডস্ এক্সপোর্ট লি., মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে পিরোজপুর ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জেলা টাস্কফোর্স, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে ভোলা জেলার মৎস্য অফিসার মোল্লা এমদাদুল্যাহ।
রৌপ্যপদক প্রাপ্তরা হলেন মাছের গুণগতমানের রেণু উৎপাদনে যশোরের রূপালী ফিশ হ্যাচারি, মাছের গুণগতমানের পোনা উৎপাদনে পঞ্চগড় আটোয়ারীর মেহের মৎস্য খামার, মৎস্য উৎপাদনে টাঙ্গাইল সখীপুরের সোনার বাংলা মৎস্য খামার, গলদা চিংড়ি উৎপাদনে কুমিল্লা লাকসামের বাবুল গলদা চিংড়ি খামার, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ, রপ্তানিতে ও মৎস্যজাত পণ্য বহুমুখীকরণে খুলনার ফ্রেশ ফুডস লি., মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে চাঁদপুরের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জেলা টাস্কফোর্স, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার ফারাজুল কবির।
ব্রোঞ্জপদক প্রাপ্তরা হলেন মাছের গুণগতমানের রেণু উৎপাদনের জন্য ময়মনসিংহ গৌরীপুরের বর্মণ মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র (হ্যাচারি), মৎস্য উৎপাদনে চট্টগ্রাম চন্দনাইশের এ. জে. সি পোলট্রি অ্যান্ড এগ্রোভেট, বাগদা চিংড়ি উৎপাদনে খুলনা দাকোপের দুলাল শ্রিম্প ফিশ কালচার, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ, রপ্তানিতে ও মৎস্যজাত পণ্য বহুমুখীকরণে খুলনার বায়োনিক সিফুড এক্সপোর্টস লি., মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে মুন্সিগঞ্জ লৌহজংয়ের ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত উপজেলা টাস্কফোর্স, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে যশোর বাঘারপাড়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার পলাশ বালা।




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১