ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থানে সরকারের বিশেষ প্রকল্প কর্মসৃজন কর্মসূচির শ্রমিক মো. সুমন মিয়া বৃহস্পতিবার (২২জুন/২০২৩) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আপিল আবেদন করেন। তথ্য অধিকার আইনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ২১ মে আবেদন করেও তথ্য না পাওয়ায় এ আপিল আবেদন করেন।
ভুক্তভোগী মো. সুমন মিয়া যুগান্তরকে জানান, আমি কর্মসৃজন কর্মসূচির একজন শ্রমিক। আমার কাজের টাকা আত্মাসাৎ করা হয়েছে। এখন অভিযোগ করায় আমার নাম বাদ দেয়ার চেষ্টা চলছে। আত্মসাতের ঘটনায় মামলা করতে গেলে আগে আমি শ্রমিক সেই প্রমাণ লাগে। কিন্তু তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেই তথ্য না দেয়ায় তথ্য অধিকার (তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত) বিধিমালার ৬নং বিধি অনুযায়ী এবার আপিল আবেদন করেছি।
তিনি আরও জানান, কাজ ছাড়াই তো সব শ্রমিকদের টাকা দেয়া হচ্ছে। আর শ্রমিকরাও তো সব টাকা পায় না। ভাগাবন্ড (ভাগাভাগি) করে নেয়। ১৬১জন শ্রমিকদের মধ্যে অর্ধেকও খোঁজে পাওয়া যাবে না। সব টাকা দিয়ে দিলে, নাম থাকবো; ২০হাজার উঠালে ২হাজার দিবো, এটাই এখন সিস্টেম নামে পরিচিত! প্রতিবাদ করলেই ‘নামকাটা’।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফৌজিয়া নাজনীন জানান, তার আবেদনে যে তথ্য চাওয়া হয়েছে তা আমার অফিসে সংরক্ষিত নেই। তাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের নিকট প্রেরণ করে ছিলাম। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সোহেল রানা পাপ্পু জানান, কর্মসৃজন কর্মসূচির এ শ্রমিক কাজ করে না, তাই তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে। তথ্য সংক্রান্ত বিষয়ে মাওহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি, কিন্তু এ অভিযোগকারী সেখানে যায়নি। মাওহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আল ফারুক জানান, এ শ্রমিকের নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে সে ঢাকায় থাকেন। কাজ না করলে বিল দেয়ার সুযোগ নেই। তাই এ শ্রমিকের নাম স্থগিত করার জন্য বলেছি, ইচ্ছে করলেই শ্রমিকের নাম বাদ দেয়া যায়না। তথ্যের জন্য যিনি আবেদন করেছেন, তিনি তো আমার নিকট তথ্য নিতে আসে নাই।
এদিকে একজন গ্রামের শ্রমিকও তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করায় উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকেও এ শ্রমিকের অধিকারের সমর্থনে নেটিজেনরা মন্তব্য করছেন।