ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের কাউরাট আকবর আলী দাখিল মাদরাসায় কম্পিউটার ল্যাব সহকারী পদে চাকুরি ‘নিলাম ডাক’ উঠার অভিযোগ উঠেছে। ১০লাখ টাকা উৎকোচ দিয়েও চাকুরি না হওয়ায় সুপারের সঙ্গে চাকুরিবঞ্চিত এক প্রার্থীর অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরালের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ অডিও রেকর্ডটি সুপারের ছবিযুক্ত করে ফেসবুকের আইডি ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ৫৮মিনিটে ফাঁস করা হয়। মাদরাসার সুপারের বিরুদ্ধে দাখিল পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি/২০২৩) মাদরাসার সুপার মো. আল মামুন আকন্দ জানান, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ না হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি আরও জানান, চাকুরিবঞ্চিত মো. আবু রায়হান হৃদয়ের সঙ্গে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা ৪৯মিনিটে মুঠোফোনে কথা হয়। তার কাগজপত্র সম্পর্কে সে জানতে চেয়েছে, আমি বলেছি সামনা-সামনি কথা বলো। তখন সে বলেছে, ১০লাখ টাকা দিয়েছে, টাকা ফেরত দিতে হবে, যা সত্য নয়।
তিনি জানান, মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে কম্পিউটার ল্যাব সহকারী পদের জন্য একটি জাতীয় ও একটি স্থানীয় পত্রিকায় গত ৯ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৭জন চাকুরীপ্রার্থী আবেদন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় ৫জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে চাকুরিপ্রার্থী মো. আবু রায়হানেরও আবেদন ছিল। লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়েছে। সর্বোচ্চ নাম্বারের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। দাখিল পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন। তবে এ প্রতিনিধি পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে যে রশিদ দিয়ে অর্থ নেয়া হয়েছে সেই রশিদ (ভাউচার) দেখতে চাইলে সুপার তা দেখাতে ব্যর্থ হন।
অপরদিকে অভিযোগকারী আবু রায়হান হৃদয় জানান, আমার চাকুরির বিষয়টি মাদরাসার সুপার নিশ্চিত করেন। উনার মৌখিক কথা মোতালেব জমি বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করে ১ডিসেম্বর ১০লাখ টাকা দিয়েছি। নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরাও আমার বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করবে সেটাও বলেছেন। হঠাৎ করে শুনতে পাই, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন! আরও ৩লাখ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ চাকুরিটা তখন গোপন নিলামে ডাক দেয়া হয়। তাদেরকে কাঙ্খিত আরও টাকা দিতে না পারায় আমার চাকুরি হয়নি।
মইলাকান্দা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক ও এ মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ওয়াজিদুল ইসলাম কামাল নিয়োগবোর্ডে পদাধিকার বলে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, আমি অডিও রেকর্ডটি একাধিকার শুনেছি, মাদরাসার সুপার জড়িত নন। তারপরেও অভিযোগকারী প্রমাণ করতে পারলে ব্যবস্থা নিবো।
‘শেষ বিকালের মেয়ে’ নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরালকৃত অডিও রেকর্ডে যা ছিলো : চাকুরীপ্রার্থী মো. আবু রায়হান হৃদয় ও সুপারের কথোপকথন (হুবহু)।
চাকুরিপ্রার্থী : আসসালামু ওয়ালাইকুম হুজুর।
সুপার : ওয়ালাইকুম আসসালাম।
চাকুরিপ্রার্থী : হুজুর, আমি হৃদয় বলছিলাম আর কি, কাউরাট থাইক্কা (থেকে)।
সুপার : ও. আচ্ছা, আচ্ছা বলো।
চাকুরিপ্রার্থী : এই যে, হেদুনকা পরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষার দিনের আমার কাগজপত্র, রেজাল্ট শীট, কম্পিউটারের কাগজপত্র, আমি কতো নাম্বার পাইলাম হেই রেজাল্ট কোথায় আছে।
সুপার : আমি পরবর্তীতে কথা বলি।
চাকুরিপ্রার্থী : না, না পরবর্তীতে কেন? এখন বলেন সমস্যা নাই তো।
সুপার : আরে বেডা, কাগজপত্র কি হারাইয়া গেছে গা
চাকুরিপ্রার্থী : আরে, আমি তো বেক্কলই, টাকা পয়সা, আপনে আমারে আবেদনটা করালেন ; আমি সাইফুল স্যারকে দেখাইয়া আবেদনটা করলাম। তারপরে আবার আপনার কাছে গেলাম, বললেন আবেদনটা কর। এরপরে এডমিট দিলেন, লিখিত দিলাম, ব্যবহারিক দিলাম ও মৌখিক পরীক্ষাও দিলাম। এরপরে আমার কাগজে কি সমস্যাটা হলে গেলো, বেশি লেখাপড়া না করলেও ইন্টারমেডিয়েটটা পর্যন্ত তো পড়ছি। আমি তো কিছু আউপাউ বুঝি।
সুপার : আচ্ছা
চাকুরিপ্রার্থী : আমার বাজার-সদাই, জমিজামা বেচলাম ১০লাখ টাকা, এগুলোর কিতা হইবো।
সুপার : আচ্ছা, রাখি।
চাকুরিপ্রার্থী : আচ্ছা, কালকে সকাল ১০টায় এসে আমার কাগজপত্র ও ১০লাখ টাকা দিয়ে দিবেন। আপনার সাথে আমার শত্রুতাও নাই, ঝামেলাও নাই। সব দিয়া দিবেন দয়া করে। হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো।