সরকরি আমলাদের জন্য প্রতিবেদন তৈরী করা কারো চোখে বেমানান মনে হলেও প্রকৃত অর্থে কাজের ধারাবাহিক গতি যখন অস্বাভাবিকভাবে ভালো হয়,তখনতো দুই-চার কলম লেখা যেতেই পারে?।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কর্তব্য অবহেলা,জনহয়রানি ও ঘুষ-দুর্নীতিসহ অভিযোগের শেষ নেই জনগণের।তবে এর ব্যতিক্রম কর্মোদ্যম,সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও রয়েছে।যারা লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে নিজ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলেন জনবান্ধব ও বিপদগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়স্থল।এদের মধ্যে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজবাহে রহমত অন্যতম।
কাজে যোগদানের দেড় বছরও পূর্ণ হয়নি এর ভেতর সেবা,সততা আর অদম্য কর্ম স্পৃহা দিয়ে জয় করে নিয়েছেন তারাকান্দাবাসীর মনে।গত বছরের ২৬ এপ্রিল যোগদানের পর থেকেই বদলে গেছে উপজেলা অফিসের সকল কার্যক্রম কমে যায় জনভোগান্তি আর বৃদ্ধি পায় জনসেবার মান।
নিজের মত করে সাজিয়েছেন উপজেলা অফিসের সকল সেক্টর।ফলে এই এলাকার সাধারণ মানুষের এখন জনদূর্ভোগ ও ভোগান্তি নেই বললেই চলে।উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সব এলাকায় তার অবাধ বিচরণ।
এরিমধ্য জনবান্ধব ও সেবাবান্ধব সাংবাদিক বান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন মিজবাহে রহমত।জনবান্ধব এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলার ঢাকুয়া ইউনিয়নের দরিদ্র মোশাররফ হোসেনের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণশীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন এই অসহায় মোশাররফ।সংবাদটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউএনও মিজবাহে রহমত ছুটে যান তাদের বাড়িতে।মনোযোগ সহকারে শোনেন তাদের কষ্টের কথা।ব্যবস্থা করে দেন থাকার জন্য একটি ঘর।শুধু এই ঘটনাটিই নয়,এ রকম অনেক দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলার সর্বমহলে প্রশংসিত হন এই এই ইউএনও।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কেউ যেন গৃহহীন না থাকে, সেই লক্ষ্যেও দৃঢ় চিত্তে কাজ করছেন এই কর্মকর্তা।মুজিববর্ষের উপহার আশ্রয়ন প্রকল্পের ৯০ টি ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন ঘর নির্মাণে মানসম্মত উপকরণ ক্রয়ের ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় দেননি তিনি।
তা ছাড়া গণমাধ্যম,ফেসবুক, মুঠোফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুত সমাধান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
মানুষ বাঁচে তার কর্মে,বয়সে নয়।এ মুলমন্ত্রকে মনে প্রাণে লালন করে নিজ দায়িত্বের বাইরেও অনেক কাজ করে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।দিন-রাত ধরেই চলছে তার এসব মানবিক কার্যক্রম।
দেশের প্রতিটি উপজেলায় এমন একজন করে সৎ,উদ্যমী,আদর্শিক ও মানবিক,সাংবাদিক বান্ধব দেশপ্রেমিক ইউএনও’র উদয় হোক,যার বদান্যতায় বদলে যাবে সেই অঞ্চলের সেবার দৃশ্যপট,ফিরে পাবে মানুষ তার নাগরিক অধিকার।আর এভাবেই এমন মানবিক ও কর্মঠ কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় আগামী দিনগুলোতে গোটা দেশটাই হয়ে উঠুক এক নির্ভেজাল সেবার মঞ্চ।