ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ১০শয্যার হাসপাতালের ভূমি রক্ষার আন্দোলনে নেমেছে এলাকাবাসী। ভূমিদস্যুদের হাসপাতালের জমি দখল ও গাছ কর্তনের প্রতিবাদে বুধবার (২২জুন/২০২২) ভুটিয়ারকোনা বাজারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। একই দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩জুন/২০২২) জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ।
তিনি জানান, হাসপাতালে ভূমি রক্ষার স্মারকলিপি পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ও উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায়ও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগকারীরা জানান, হাসপাতালের ভূমিতে থাকা বড়বড় গাছ কেটে নিয়ে গেছে মো. সেলিম মিয়া। হাসপাতালের কর্মকর্তার সামনে নিয়ে গেলেও তারা কোনো প্রতিবাদ করেননি। সরকারি সার্ভেয়ার দ্বারা সীমানা নির্ধারণ না করেই কতিপয় ভূমিদস্যুদের সঙ্গে এ দপ্তরের কর্মকর্তাদের গোপন আঁতাতে সরকারি ভূমি সীমানা প্রাচীরের বাহিরে রেখে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়। প্রথমে নির্ধারিত স্থানে করলে পরে প্রভাবশালীদের চাপে সরে আসে। এতে এলাকাবাসী বিক্ষুব্দ হয়ে উঠেন। সরকারি ভূমি রক্ষায় মাওহা ইউনিয়নের সর্বস্তরের লোকজন বুধবার বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। বক্তরা বলেন, এ ইউনিয়নবাসীর সেবায় নিয়োজিত হাসপাতালের ভূমিতে কোনো ভূমিদস্যুর ঠাঁই হবে না। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ভূমির সীমানা নির্ধারণের দাবি জানান। বৃহস্পতিবার একই দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষে মো. শফিকুল ইসলাম, মো. শাহজাহান কবীর ও মো. আনোয়ার হোসেন জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, সৈয়দ সেলিমের দোকান ও আব্দুল মোতালিব বিএসসি’র কোচিং সেন্টার হাসপাতালে ভূমিতে অবস্থিত।
এ প্রসেঙ্গ আব্দুল মোতালিব বিএসসি জানান, আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবিন আক্তার সাড়ে ৪শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। সেই জমিতে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি সার্ভেয়ার দ্বারা সীমানা নির্ধারণ না করেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বিষয়টি দুঃখজনক। এছাড়াও এ জমি বিআরএস রেকর্ড সংশোধনী মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান রয়েছে। আমার প্রতিষ্ঠানের ভিতরে হাসপাতালে ঠাঁই থাকলে তাৎক্ষনিক ভবন সরিয়ে নিয়ে আসবো। সৈয়দ সেলিম বলেন, আমার দোকান ও যেসব গাছ কেটেছি তা নিজস্ব ভূমিতে। হাসপাতালের কেউ আপত্তিও করেননি।
স্থানীয় সার্ভেয়ার (আমিন) মো. মানিক মিয়া জানান, হাসপাতালের ৪১শতাংশ ভূমির সীমানা নির্ধারণ করলে আব্দুল মোতালিব স্যারের প্রতিষ্ঠান ও সৈয়দ সেলিমের দোকান হাসপাতালের সীমানায় পড়ে যায়। ফলে সীমানা নির্ধারণ অমীমাংসিত ছিলো। হাসপাতালের ভিতরে বর্তমানে ৩৬শতাংশ ভূমি রয়েছে। মাওহা ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সৈয়দ সেলিমের দোকান ও গাছ তার নিজস্ব ভূমিতে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ বা ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মো. কামাল হোসেন বলেন, হাসপাতালের জমির সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে হাসপাতালের জমির দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা আছে। সেগুলো অপসারণে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। হাসপাতালের জমির এক ইঞ্চিও ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই।