ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মোজাফফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে নিয়োগে জালিয়াতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বুধবার (১জুন/২০২২) এইচএসসি প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা-বিবাদের সৃষ্টি হয়। শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব ও মামলা-মোকদ্দমার ফলে গভর্ণিং কমিটির নির্বাচন প্রক্রিয়া অচল হয়ে পড়েছে। ‘সহকারী শিক্ষক’ পদে চাকুরীর আবেদন করে ‘সহকারী প্রধান শিক্ষক’ পদে যোগদানের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
খবর পেয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কমল রায় কলেজ ক্যাম্পাসে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শাহ তাহমিনা ইয়াসমিন জানান, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা গ্রহণ বিষয়ে তাকে কোনো অবগত করা হয়নি। বাহিরের কোচিংয়ের প্রশ্নে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরীক্ষা নিচ্ছেন। তিনিও শিক্ষার্থীদেরকে জানান, এ প্রশ্ন তিনি করেননি! তার প্রশ্ন ছাড়া যেনো পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ না করে সে জন্য তিনি নিষেধ করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা শ্রেণি শিক্ষকের পক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পক্ষ গ্রহণকে কেন্দ্র করে দ্বি-বিভক্ত হন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বাদানুবাদে জড়িয়ে যান। অনেকেই পরীক্ষা হল থেকে বেড়িয়ে আসেন। এ কারণে পরীক্ষা প্রায় ৩০মিনিট বিলম্বে শুরু হয়।
অপরদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চমাধ্যমিক) এস.এম মোবাশি^র হোসেন স্বাক্ষরিত ৩মার্চের জরুরী বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, ৮জুন পরীক্ষার ফরমপূরণ, ১৪ জুলাই প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা ও পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ প্রসঙ্গে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বাংলা বিভাগের প্রভাষককে তিনি মৌখিকভাবে এবং স্টাফদের দিয়ে ২৬ মে’র মধ্যে প্রশ্নপত্র জমা দিতে বলেছেন। প্রশ্নপত্র জমা না দেয়ায় বিকল্প প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে বাধ্য হয়েছেন। আশপাশের সকল কলেজের এ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে ও চলমান আছে। তাই তিনিও শুরু করেছেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ বলেন, বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করার উদ্যোগে নেয়া হয়েছে।
এদিকে রোববার (২৯ মে/২০২২) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে নিয়োগে জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মোমিনুল হক, পৌরনীতি ও প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক নূর মোহাম্মদ সিদ্দিকী ও বাংলা বিভাগের প্রভাষক শাহ তাহমিনা ইয়াসমিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলামের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে কলেজের চাকুরীচ্যুত ও ৪বছর যাবৎ অনুপস্থিত মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক আনোয়ার হোসেনকে (বর্তমানে ফুলপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজে কর্মরত) ও ৭বছর কলেজে অনুপস্থিত (চাকুরী থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত) ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী জান্নাতুল ফেরদৌসকে ব্যানবেইজে কর্মরত দেখিয়েছেন। কলেজের অন্যান্য শিক্ষকদের দিয়ে প্রভাষক নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নিয়ে এ শিক্ষককে বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পদবিহীন ‘সহকারী প্রধান শিক্ষক’ পদে নিয়োগ জালিয়াতি করেছেন। উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগের শর্তানুযায়ী বি.এডবিহীন ও ১২বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়াই অবৈধভাবে এ পদে আসীন হন। মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক আনোয়ার হোসেন জানান, কিভাবে ব্যানবেইজে আমার নাম অনলাইন করা হয়েছে তা আমার জানা নেই! আমি ফুলপুরে কর্মরত আছি।
অপরদিকে সাবিনা ইয়াসমিন ২০০৫সনের ৪জানুয়ারি তারখে মোফাফফর আলী ফকির নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বহস্তে ‘সহকারী শিক্ষক’ পদে সভাপতি বরাবরে আবেদন করেন। আবেদনের বিষয় অপশনে পরবর্তী ‘ক্রস’ চিহ্ন দিয়ে ‘প্রধান’ শব্দ যুক্ত করেন। তবে ‘অতএব’ অপশনে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য প্রার্থনা করেছেন। যে আবেদনে নিয়োগ পেয়েছেন শিক্ষাগত যোগ্যতার অপশনে বিএড লিখা নেই। অভিজ্ঞতার অপশনে নেই ১২বছরের অভিজ্ঞতার কোনো কলাম।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাবিনা ইয়াসমিন জানান, আমি ২০২১সনের ১ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছি। তবে পূর্বের কোনরেকর্ড পত্র পাইনি। তাই আনোয়ার হোসেনের চাকুরী সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমার জানা নেই। নিম্নমাধ্যমিক (প্রস্তাবিত উচ্চ বিদ্যালয়) বিদ্যালয়টিতে ২০০৫সনের ২৯জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ করেছি। অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য কারণে আমার বেতন একধাপ নিচে দেয়া হচ্ছে। ২০০৫সনে বিএড করেছি, ফলাফল কবে হয়েছে জানা নেই। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্যান্য শিক্ষকগণ ২লাখ ৪০হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন, সেটা তদন্ত করছি। সেকারণেই বেতনÑভাতা বন্ধ রেখেছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।