মাদরাসায় পড়া না শিখায় রামিম মিয়া মাহিম (৭) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের শালীহর ভূইয়াপাড়ার নুনু মিয়ার পুত্র। এ ঘটনায় তারাকান্দা থানায় শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি/২০২২) অভিযোগ করেন শিশুটির মা মোছা. ফরিদা বেগম।
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের সোহেল। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে।
শিশুর মা মোছা. ফরিদা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি/২০২২) দুপুরে তিনি তার ছেলে মাহিমকে গোসল করাতে নিয়ে যায়। তিনি একজন গার্মেন্ট কর্মী। তার সন্তান বাতুয়াদী দারুসুন্নাহ হাফিজিয়া মাদরাসায় হিফজ শাখায় ধর্মীয় শিক্ষায় লেখাপড়া করছে। গোসলের সময়ে সন্তানের কাপড় খোলার সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পান পিঠ ও তার আশপাশের স্থানে অসংখ্য আঘাতে চিহ্ন ‘ক্ষত’ হয়ে আছে। শিশুটির শরীরে পানি দেয়ার সময় চিৎকার করে উঠেন। সন্তানের শরীরের এমন আঘাতের চিহ্ন দেখে তিনি নলকূপের স্থানেই জ্ঞান হারান। ভিকটিম ও তার মা জানান, পড়া শিখতে না পারায় ওই মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মো. মাজহারুল ইসলাম নির্মমভাবে প্রহার করেছে। শিশুটির শুধুমাত্র পিঠে ১১টি বেত্রাঘাতের ক্ষত দাগ ও চারপাশেও এমন অনেক ক্ষত দাগ রয়েছে। সন্তানের ওপর এমন নির্যাতনের বিচার চেয়ে তিনি তারাকান্দা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বাতুয়াদী দারুসুন্নাহ হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, মাহিম তার সম্পর্কে ভাতিজা হয়। তিনিই এ ছেলেকে লালন-পালন করছেন। ওর মা দু’মাস বয়সে ওকে রেখে চলে যায়। পড়া না শিকায় ২টি বেত্রাঘাত করেছেন।