বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ময়মনসিংহের গৌরীপুর শাখা ঋণ আদায়ের লক্ষে কৃষকের নামে দিচ্ছেন স্বাক্ষরবিহীন ‘লাল নোটিশ।’ পরিশোধিত গ্রাহককেও মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর/২০২১) ৫লাখ টাকার ভুয়া ঋণের লাল নোটিশ প্রদান করায় গ্রাহকরা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সৌরভ ঘটক জানান, গৌরীপুর পৌরসভার ৬শ কৃষককে লাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে গৌরীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদির জানান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক গৌরীপুর শাখায় ৭বছর আগে ঋণ পরিশোধ করেছি। নির্বাচন করতে গিয়ে পরিশোধিত সনদপত্রের কপিও নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে। অথচ আমার নামে ৫লাখ টাকা ঋণ রয়েছে মর্মে ২৮ অক্টোবর বাড়িতে ‘লাল নোটিশ’ পাঠানো হয়েছে। এ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৩সনে ২লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছিলাম যার সুদাসল প্রায় ৫লাখ টাকা হয়েছে। পত্রের ৩নং শর্তে বলা হয়েছে আমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে ও ব্যক্তিগতভাবে বারবার যোগাযোগ করা, একাধিকবার নোটিশ দেয়ার পরেও আশ^াস দিয়ে ঋণ পরিশোধ করি নাই মর্মে আনিত অভিযোগ ‘ভুয়া’। এ নোটিশে ব্যাংক ব্যবস্থাপকের কোনো স্বাক্ষরও নেই। তিনি আরো বলেন, নোটিশে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হুমকি দেয়ায় আমার মানহানিও ঘটেছে। অপরদিকে পৌরসভার সতিশা গ্রামের নুরে শেখ আব্দুল জলিল জানান, আমার বাবা ৩০হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলো। এরমধ্যে কিছু টাকা পরিশোধের পর ৩বছর পূর্বে মারা যায়। এবার আমার মৃত বাবার নামে ৭৫হাজার টাকা ঋণ রয়েছে মর্মে পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শহরে অধিকাংশ কৃষকের নামে নির্ধারিত হিসাব-নিকাশ ছাড়াই এভাবে পত্র দেয়ার বিষয়টি একাধিক কৃষক স্বীকার করেন।
এ প্রসঙ্গে ঋণ কর্মকর্তা রাজন চন্দ্র সরকার বলেন, আব্দুল কাদিরের নামে ডাটা এন্ট্রিতে ৫লাখ টাকা ঋণ রয়েছে মর্মে রেকর্ড রয়েছে। তাই নোটিশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপক রাজন চন্দ্র সরকার বলেন, পরশোধিত গ্রাহকের নামে এ নোটিশ পাঠানোর ঘটনাটি দুঃখজনক। ২০১৬সালে ব্যাংকের ডাটা এন্ট্রি করা হয়েছে বাহিরের লোকজন দিয়ে তাদের তথ্য রেকর্ড করার সময় এ ভুল করেছিলো। তিনি আরো বলেন, এ ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা ৯হাজার। পৌরসভার ৬শ কৃষককে নোটিশ দেয়া হয়েছে। সবার হিসাব-নিকাশ দেখে প্রত্যেকের পত্রে স্বাক্ষর দেয়ার মতো সময়তো আমার নেই। সেটা তো আপনারা বুঝেন!
এ দিকে কৃষকদের নিকট দেয়া কৃষি ঋণের সুদ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতি গৌরীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির। তিনি বলেন, একজন কৃষককে ৩০হাজার টাকা ঋণ দিয়ে দ্বিগুণ সুদ আদায় অযৌক্তিক এবং অমানবিক। এ প্রসঙ্গে সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান বলেন, শত কোটি টাকা ঋণের জন্য শিল্পপতিদেরকে ‘লাল নোটিশ’ দিতে পারে না রাষ্ট্রীয় ব্যাংক! অথচ কৃষককে হাজার টাকার জন্য ‘লাল নোটিশ’ অত্যন্ত দুঃখজনক। করোনাকালীন এ দুর্যোগে মুর্হূতে কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফের দাবি জানাচ্ছি।