শ্যামল ঘোষ, স্টাফ রিপোর্টার : ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বুধবার (২১ জুলাই/২০২১) ঈদ উল আজহায় প্রধান আকর্ষণ ছিলো ত্যাগের মহিমায় পশু কুরবানী। তবে সেই কুরবাণী পশুর চামড়ার বাজারে ছিলো না ট্যানারি শিল্পের কোনো প্রতিনিধি ও বেপারী (মহাজন)। ফলে ফরিয়া ও চামড়া বিক্রি করতে আসা সাধারণ মানুষ চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন। চামড়ার বাজারমূল্যেও ধস নামে। ৩লাখ টাকার গরু কালোমানিকের চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র সাড়ে ৪শ টাকা। ২৯হাজার টাকা মূল্যের খাসি যার নাম রাজমনি তার চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০টাকা। অন্যান্য খাসির চামড়া কেই কিনতেও রাজি হয়নি। এমন পরিস্থিতি দেখা যায় চামড়া বাজারে।
উত্তর বাজারের আবুল কাসেম জানান, কালো মানিককে কেনা হয়েছিলো ৩লাখ ২৮হাজার টাকায়। সেই কালোমানিকের চামড়া বিক্রি হয়েছে ৪শ ৫০টাকায়। একই বাজারে চামড়া নিয়ে এসেছেন কলতাপাড়ার সাহাব উদ্দিন। তিনি জানান, কুরবানী দেয়া ষাঁড়ের নাম ছিলো ‘রাজা-বাদশা’। এর চামড়ায় প্রতিদিন যত্ন করার জন্য তেল মালিশ, শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাতো। কিনে ছিলাম ২লাখ ১৬হাজার টাকায়। চামড়া বিক্রি করলাম ৪শ টাকা। শ্যামগঞ্জ থেকে আসা রঘুনাথ জানান, ২৯হাজার টাকা মূল্যের রাজমনি (খাসি) এর চামড়া কিনেছি ১০টাকায়। বিক্রেতা মুনতাসির রহমান জুয়েল জানান, এতো সখের খাসি নাম রাখলাম রাজমনি। ডাক দিলেই উড়াল দিয়ে কাছে আসতো। আর সেই খাসির চামড়া ১০টাকা। রিকশা ভাড়া দিলাম ৪০টাকা। তিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পায়ের জুতার দাম বাড়ছে, ব্যাল্টের দাম বাড়ছে, একটা ছোট্ট মানিব্যাগের দাম ৭-৮শ টাকা অথচ বিশাল খাসির চামড়া বিক্রি করলাম ১০টাকায়, সত্যিই এ ঘটনা দুঃখজনক।
খুচড়া ক্রেতা দারিয়াপুরের জয়নাল উদ্দিন জানান, তিনি ২০টি চামড়া কিনেছেন। তার মধ্যে ২লাখ থেকে ৪লাখ টাকা মূল্যের গরুর চামড়া কেনা হয়েছে ৪শ টাকায়, লাখ টাকার নিচে ২শ টাকা আর খাসির চামড়া ক্রয় করি নাই। এদিকে বাজারে খাসির চামড়ার টোল মওকুফ করে দিয়েছেন পৌরসভার চামড়া বাজার ইজারাদার মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, বাজারে এবার চামড়া কম এসেছে। বাহির থেকে ক্রেতা (মহাজন) না আসায় চামড়ার দামেও ধস নেমেছে। আরেক স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. লাল মিয়া জানান, প্রতিটি চামড়া কিনলাম ২শ ৫০টাকায় এখন বেচলাম ২শ টাকায়। খাজনা দিলাম ১০টাকা, রিকশা ভাড়া ৩শ। ২১টি চামড়া কিনে লোকসান গুনতে হয়েছে ১হাজার ৬শ টাকা।