গৌরীপুর (ময়মনসিংহ ) প্রতিনিধি :
স্বামী নেই, নেই পুত্র সন্তান! বয়সের ভারে নুব্জ আলপিনা আক্তার। অন্যের সাহায্যে চলে তিনবেলার আহার। জীবিকা নির্বাহের আর কোনো অবলম্বন নেই। প্রায় ৬মাস পূর্বে এই নারীর চোখে উড়ন্ত ছাই পড়ে। এই ছাই হলো কলতাপাড়া জিসাম অটো রাইসমিলের। সেই থেকে চলছে চিকিৎসা। এলাকাবাসী ও স্বজনদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৭০হাজার টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। তবে এখনও ঠিকমতো চোখে দেখতে পান না। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার নন্দীগ্রামের মৃত আবুল কাসেমের স্ত্রী। চোখের জ্যোতি ফিরে দেয়ার দাবিতে ফেস্টুন নিয়ে তিনিও হাজির হন মানববন্ধনে। তিনি বলেন, আমার কেউ নেই! শুধু আমার চোখটা ভালো করে দিন, চোখের জ্যোতিটা ফিরিয়ে দিন।

এভাবেই চোখের যন্ত্রণা তুলে ধরেন ব্যবসায়ী রতন পণ্ডিত। তিনি বলেন, দোকানে কাজ করছি, হঠাৎ চোখটা ঘসঘস করে উঠে। কিছুক্ষণ পরে দেখি লাল হয়ে গেছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ এখন চোখ ভালো করার জন্য দৌড়চ্ছি। নন্দিগ্রামের রুস্তুম আলী আকন্দের পুত্র আবু সিদ্দিক জানান, ছাই আমারে ধ্বংস করে দিয়েছে। চোখের যন্ত্রণায় ভুগছি। হ্যান্ডট্রলি চালক নুর আলীর পুত্র মো. আব্দুল হেকিম জানান, আমি এখন আর রাতে দেখি না। চোখ থেকে অপারেশন করে ময়মনসিংহ হাসপাতালে ছাই পরিস্কার করেছে। কিন্তু চোখ আর ভালো হয়নি। মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, চোখের চিকিৎসা করে ৭০হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ঘর থেকে কালো চশমা ছাড়া বের হতে পারি না। চোখেও ঝাপসা দেয়া যায়। রোববার (২৭ জুন/২০২১) ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে ভুক্তভোগীরা এসব কথা তুলে ধরেন।
এ প্রসঙ্গে ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহীদুল হক সরকার বলেন, ছাইয়ের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ট। আমরা বারবার তাগিদ দেয়ার পরেও এ সমস্যার কোনো সমাধান করেনি। পরিবেশ দুষণ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মিহির লাল সরদার জানান, বিষয়টি আমাদের জানা ছিলো না। পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক ফরিদ আহমদ জানান, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবো।
বক্তারা জানান, অটো রাইস মিলের উড়ন্ত ছাইয়ের কারণে বদলে যাচ্ছে মসজিদের ফ্লোর, শহীদ মিনারের পাদদেশ, খাদ্যের দোকানের চেয়ার-টেবিল এবং খাদ্যের রঙ, গাছসহ পরিবেশের রঙ বদলে যাচ্ছে, প্রতিদিন বাড়ছে অন্ধত্ব বাড়ছে। ইতোমধ্যে অর্ধশত মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগছেন। স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন নন্দীগ্রামের আবুল মনসুর, মিনা আক্তার, চুড়ালী গ্রামের আবুল হোসেন।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কলতাপাড়া বাজার কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহসিন মাহমুদ। পরিবেশ ও চোখের সমস্যা উল্লেখ করে মিল বন্ধের দাবি জানান, মো. আবুল কালাম, আশরাফুল আলম, আব্দুল হেকিম, আবু সাঈদ, মোছা আলপিনা আক্তার, কামাল হোসেন বাবুল, কাজী নাজমুল হক, রফিকুল ইসলাম, হাজী আব্দুল হালিম, হাফেজ মাওলানা মোশারফ হোসেন, রিয়াজুল করিম মাদরাসার পরিচালক খালিদ সাইফুল্লাহ, আব্দুল হালিম, মো. আতাউর রহমান, মো. ইদ্রিস আলী, মো. আব্দুস সেলিম, মো. আজিজুল হক, মো. আবু সাঈদ, মো. রজব আলী প্রমুখ।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের প্রেক্ষিতে কলতাপাড়া বাজার কমিটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান আগামী ৭দিনের মধ্যে পরিবেশ দূষণকারী এ মিল বন্ধ না করলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন।