সেলিম আল রাজ:
মোছা আলপনা আক্তার (৪৫)। পিঠা বিক্রি করে তার সংসার চলে। এখন আর ঠিক মত পিঠা ফেরি করতে পারেন না। সন্তানদের নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটচ্ছে। তার বাড়ি গৌরীপুর উপজেলার নন্দিগ্রামে। স্বামী মৃত আবুল কাশেম। কিছুদিন আগেও তিনি ভালো ছিলেন। সম্প্রতি ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কলতাপাড়ায় অটো রাইস মিলের ছাই এর কারণে তার চোখের এই মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার মত আরো অর্ধশত মানুষের একই অবস্থা। সবাই ছাইয়ের দ্বারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অটো রাইস মিলের উড়ে আসা ছাইয়ে বদলে যাচ্ছে শহীদ মিনার, মসজিদ, গাছ পরিবেশের রঙ।
শুক্রবার (২৫ জুন/২০২১) রাতে ফারুকের রাইস মিল বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। অপরদিকে বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ এর নিকট স্মারকলিপি দায়ের করেছেন। শনিবার (২৬জুন/২০২১) ইউএনও হাসান মারুফ জানান, স্মারকলিপি পেয়েছি। মিল মালিককে খবর পাঠানোর পরেও কর্ণপাত করেনি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহীদুল হক সরকার বলেন, ছাইয়ের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ট। আমরা বারবার তাগিদ দেয়ার পরেও এ সমস্যার কোনো সমাধান করেনি।
আমিনুল ইসলাম ও আলপনা আক্তার কাকুতি-মিনতি করে সাংবাদিকদের বলেন, বাবা, ছাইয়ের হাত থেকে আমাদের বাঁচান। এলাকাবাসী জানান, নবান্ন অটো রাইস মিলের উড়ন্ত ছাই চোখে পড়ার কারণে অর্ধশত মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগছেন। মসজিদের ফ্লোর, শহীদ মিনারের পাদদেশ, খাদ্যের দোকানের চেয়ার-টেবিল এবং খাদ্যের রঙও বদলে যাচ্ছে। মিলের ছাইয়ের কারণে নন্দীগ্রামের আবুল মনসুর, মিনা আক্তার, চুড়ালী গ্রামের আবুল হোসেন চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।আমাদের কলতাপাড়া বাজারের মা ভেরাইটিজ স্টোরের মালিক রতন চন্দ্র পন্ডিত বলেন, ছাইয়ের কারণে দোকানে বসা দায়, মাথার চুলেরও সমস্যা হচ্ছে। সব মালামালের মোড়কের রঙ বদলে যাচ্ছে। ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, এই ছাইয়ের কারণে বাজারের শহীদ মিনারটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সোয়াদ ফিলিং স্টেশনের মালিক হাফেজ আজিজুল হক বলেন, বাজারের একটা খাবার হোটেলেও ছাইমুক্ত খাবার পাওয়া যাবেনা।
কলতাপাড়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মো. মোশাররফ হোসাইন জানান, প্রতি ওয়াক্তের নামাজে মসজিদের ফ্লোর ঝাড়ু দিলেও ছাইমুক্ত করা যাচ্ছে না। সিজদা করার সময়ও কপালে ছাইমাখা কালো রঙ দেখা যায়। পায়ের পাতার রঙও কালো হয়ে যায়। একই অভিযোগ করে কলতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহসিন মাহমুদ জানান, তার সন্তান ও তিনি চোখের সমস্যায় ভুগছেন। এ থেকে তারা পরিত্রাণ চান। কলতাপাড়া বাজার কমিটির সিদ্দিকুর রহমান জানান, এলাকার লোকজন বাজারে আসলে এখন কালো চশমা ব্যবহার করতে হয়। খোলাস্থানে দাঁড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রিয়াজুল করিম মাদরাসার পরিচালক খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, ছাই মানে চোখের যম। এলাকার ছোট-বড় সবাই এখন চোখের সমস্যায় ভুগছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, ছাই মানুষের রঙ বদলে দিচ্ছে, গাছপালার পাতার রঙও বদলে দিচ্ছে।