গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বলেশ্বর নদী, খাল ও বিলের পানি হঠা কালচে রঙের হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভেসে উঠছে মৃত মাছ, ব্যাঙ, সাপসহ জলজ প্রাণী। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে সর্বত্র। নদী, খাল, বিলের পচা মাছ ও পানির দুর্গন্ধে চারপাশের মানুষের নাভিশ^াস।
সরজমিনে বৃহস্পতিবার (২৭ মে/২০২১) পৌর শহরের বালুয়াখাল, বোকাইনগর ইউনিয়নের নয়াপাড়া, রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর সড়ক ও পশ্চিমপাড়া খালের পানি কালচে রঙের হয়ে গেছে। নয়াপাড়া গ্রামের আছিয়া খাতুন (৫৫) জানান, ঈদের দু’দিন পর পানি মবিলের রঙ ধারণ করে। দুর্গন্ধে খালের পাশ দিয়ে হাঁটা যাচ্ছিলো না। একই গ্রামের আনির উদ্দিন জানান, তিনি গরু ধৌত করতে খালের পানিতে নামার পর দেখেন পানি দুর্গন্ধযুক্ত ও পিচ্ছিল। গরুর লোম আঠালো হয়ে গেছে। বালুয়াখালের পানিতে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখেছেন প্রতিবেশী হারুন উর রশিদ। তিনি জানান, ঈদের পর থেকে পুকুরের পানি এমন দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে বোকাইনগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ জানান, খালের মাছ মরে ভেসে উঠছে। এলাকাবাসীও এসব মরা মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। যা খাওয়ার পর বিষক্রিয়া হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে গাজীপুর এলাকার শিল্পকারখানার বজ্য ও দূষিত পানি বৃষ্টির পানিতে সাথে এ অঞ্চলের প্রবেশ করার কারণে এমনটা হতে পারে।
এদিকে সরকারের ইজারাকৃত বলেশ^র নদীর ব্রিজের পাশে দেখা যায়, বড়-ছোট অসংখ্য মাছ পচে চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রামগোপালপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ার শতাধিক পরিবারের পেশা মাছ ধরা। অথচ তারা কেউ এখন বিলে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। পানি দুর্গন্ধযুক্ত মাছও মরে ভেসে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ জানান, এ পানিতে আমাদের নিত্যদিনের কাজ চলতো। এখন পানিতে নামার সঙ্গে সঙ্গে পা চুলকায়, তাই কেউ নামতে পারছে না। বোকাইনগরের আউয়াল হোসেন জানান, পানি অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত। মাছসহ জলজ প্রাণি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা অতিরিক্ত মৎস্য অফিসার মো. মোজাম্মেল হক। তিনি জানান, গাজীপুর ও কলতাপাড়ার মিল-কারখানার পানির সঙ্গে এ খাল-বিলে কোন সংযোগ নেই। ইতোমধ্যে পরীক্ষার জন্য পানি ও মৃত মাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
এদিকে পশ্চিমপাড়ার আবু তালেব জানান, বোরো মৌসুমে ধানের জন্য দেয়া সার-বিষাক্ত কীটনাশক ঈদের পরে বৃষ্টিতে খাল-বিলে নামার কারণেও এ বিষক্রিয়া হতে পারে। রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি জানান, এ বিষক্রিয়ার ফলে মৎস্যচাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এলাকার মানুষও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।