গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
মশার আক্রমণ থেকে পালিত মা’কে বাঁচাতে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কয়েল আনতে বেড়িয়ে ছিলো হাসান আলী (১৬)। পেশা নির্মাণ শ্রমিক। সে তার মাকে বলছিলো, কয়েল নিয়ে এসে তারপর ইসলামী সভায় যাবে। তার জন্য পালিত মা মমতাজ বেগম সন্তানের টুপি-পাঞ্জাবীও প্রস্তুত করে রেখে ছিলেন। তবে সেই কয়েল নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না হাসানের। কিছুক্ষণ পরেই বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকারের শব্দ শোনে ছুটে যান পালিত বাবা মোঃ মুন্নাছ আলী। সেখানে গিয়ে দেখতে পান তার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় লক্ষীপুর দক্ষিণপাড়া সড়কে পড়ে আছে। ঘটনার এ বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাপ্তের আলগীর মৃত শহর আলীর পুত্র মোঃ মুন্নাছ আলী।
তিনি আরো জানান, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম নিঃসন্তান। তাই তার বড় বোন লক্ষীপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী হোসনা আরা বানু’র ১৪দিন বয়সের হাসান আলীকে দত্তক আনেন। ঘটনার দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবা আর ছেলে এক সাথেই খেতে বসেন। নিজের প্লেটের বড় মাছটাও পুত্রকে খেতে দেন। এটাই যে ছিলো তার সন্তানকে শেষ আদর! কথা হয় নিহতের মা মমতাজ বেগমের সঙ্গে, তিনি সন্তানকে হারিয়ে অনেকটাই বাকরুদ্ধ। জেগে উঠলেই দু’হাত তুলে শুধু বলছেন, আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দাও, ফিরিয়ে দাও! যারা আমার ছেলেকে মেরো আমি তাদের ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই।
খবর পেয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি/২০২১) গৌরীপুর থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের পালিত মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তিনি আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের সনাক্ত করার কাজ চলছে।
গৌরীপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লক্ষীপুর দক্ষিণপাড়া থেকে লাশ উদ্ধার করে। এলাকাবাসী সূত্র জানায়, লক্ষীপুর গ্রামে রাজমেস্ত্রী হাসান মিয়াকে গলা কেটে কে বা কারা গুরুতর জখম করে। তাকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী বয়রা বাজার এলাকায় নিয়ে আসার পর মারা যায়।