মনে পড়ে?
গপ্পের সাক্ষী,
প্রণয়ের প্রত্যক্ষদর্শী,
আমাদের বিচ্ছেদের প্রত্যক্ষকারী,
ডাকহরকরার চিকনে রোগা ছোট্ট মেয়েটিকে?
কালো চিকচিকে মুখের বিন্দু বিন্দু সাদা ধবধবে দাঁতের উপচে পড়া হাসি গুলোকে?
ও বলেছে,
না না! মিথ্যে নয়;
ওর বাকশক্তির কোমরে লোহার দড়ি বাঁধা,
ওকে কেও বুঝে না,
তাই বলবে তো?
আমি ওকে বেশ বুঝতে শিখেছি;
তোমার কথা বলে বলেই বুঝতে শিখেছি।
ও বলেছে,
কাকডাকা ভোরে তুমি এসেছিলে,
কচি কলাপাতা রংয়ের পাড়হীন শাড়ীটায় নয়টি কুচি;
গাঢ় সবুজ টিপ;
চোঁখের পাতায় কুয়াশার চাদর;
খোলা কেশে ছড়ানো ছিটানো সাদা বরফ।
জানো?
ওর বয়স এখন আঠারো ছুঁই ছুঁই;
কিন্তু স্পর্শের আকুতির বিরহে সংখ্যাটার মরোমরো ভাব।
বলোতো শুনি,
ভালবাসাহীন নদীতে একা তরীতে কদিন ভাসবে?
কালো মেঘে ঢাকা দিগন্তে প্রত্যাশিত নক্ষত্রের অন্বেষণ করে কি লাভ?
দুঃসময় আঁকড়ে ধরে জীবন্ত লাশ হইবার কি হেতু?
ওই তো পাঁচেক দিন আগেকার কথা,
এক সন্ধ্যে বেলায় আমায় খুব করে ধরলো,
বললো,
তোমার প্রিয়ার সন্ধান লইবার সন্ধানদাতার সন্ধান কর।
আমি চুপচাপ শুনে অর্থ খুঁজতে মগ্ন হয়ে নিদ্রার ঘোরে আটকা পড়ে নিঝুম হয়েছি।
এবেলায় তার সন্ধান করতে গিয়ে মস্তিষ্কের বেড়াজালে ধরা পড়লো,
গর্দভ!
বোকাই রয়ে গেলাম।
আমিও ছুটি চাই;
মুক্তি চাই;
নিষ্ঠুর-নির্দয় পৃথিবীর বিদঘুটে আবহাওয়া আমায় অস্থির করে তুলছে।
তবে হে,
কথা দিলাম,
প্রতিশ্রুতির অবহেলা আমায় ছোঁবে না, দণ্ডিত প্রাণের সাজার ইতি ঘটলেই মুক্তি নিব।