দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইনের বিরুদ্ধে তাফসীরুল কুরআন মাহফিল ও পূণর্মিলনী অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ আনলেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আমির হামজা। ময়মনসিংহের ফুলপুরে শনিবার (৭ নভেম্বর/২৬) ইসলামি সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আজকেও রাতে (শনিবার) মাহফিল ছিলো। বন্ধ করে দিয়েছে বিকেল বেলায়, না উনারে (আমির হামজা) আসতে দেয়া যাবে না। এদিক-সেদিক যা আছে সব ফাঁস করে দিবে। ফাঁস আমি এমনেও করবো। কালকের দিন পরে সংসদ বসবে, সেখানে সব বলে দিবো। নাম ধরে বলবো। এই ময়মনসিংহের প্রতিমন্ত্রী ইকবাল সাহেব আজকে (শনিবার) প্রশাসনকে দিয়ে ইসলামী সভা বন্ধ করে দিয়েছে, প্রশাসনের কোন দোষ নেই।
তার দেয়া বক্তব্যকে ঘিরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রোববার (৮ নভেম্বর/২৬) নিন্দা, প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
৫দিন আগেই নোটিশ দিয়ে শ্যামগঞ্জ ঐতিহাসিক রেলওয়ে মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিল ও পুনর্মিলনীটি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান আয়োজক সদস্য হাফেজ মো. সোহেল রানা। শ্যামগঞ্জ বড় মসজিদ প্রাঙ্গনে রোববার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবী করেন। তিনি আরও জানান, ২ নভেম্বরেই বিষয়টি প্রধান আলোচক আমির হামজা এমপির ব্যক্তিগত সহকারীকে মুঠোফোনে জানানো হয়েছিল। তারপরেও এধরণের বক্তব্য অত্যন্ত দু:খজনক। এটা শুধু ওয়াজ মাহফিল নয়, এ প্রতিষ্ঠানের ১০-১২হাজার সাবেক শিক্ষার্থীর মিলনমেলা ছিলো। তাদের অসুবিধা বিবেচনা এনে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়।
শ্যামগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ হাফিজিয়া মাদ্রাসার সাবেক ছাত্রবৃন্দের উদ্যোগে বার্ষিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিল আয়োজক কমিটির অপর সদস্য মো. মোরসালিন জানান, তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে ২ নভেম্বর রাত্র ৯টা ৪১মিনিটে অনিবার্য কারণবশত ৭ নভেম্বর, শনিবার মাহফিল স্থগিত এবং পরবর্তীতে তারিখ যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে মর্মে নোটিশ প্রদান করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মাওলানা কাওসার আহমেদ, ফয়জুর রহমান জালাল, সাইফুল ইসলাম, হাফেজ মো. মোরসালিন আহাম্মদ মুসা প্রমুখ।
এ প্রসঙ্গে
অপরদিকে আমির হামজার দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার ও দু:খ প্রকাশের দাবী জানান উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব আব্দুর রহমান বাবুল। তিনি জানান, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন যে ইসলামী সভা স্থগিত করা হয়েছে, সেই সভার প্রধান অতিথি ছিলেন। স্থগিত হওয়ার বিষয়টি আমরা ফেসবুকে দেখেছি। সেখানে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কোন যোগসূত্র নেই। মিথ্যা-বানোয়া, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে দেয়া বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। ত্রাণপ্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘আমির হামজার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি’ জানান শ্যামগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব ইসমাহিল হোসেন। বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব আব্দুর রহমান বাবুল, উপজেলা বিএনপির সদস্য বাহার উদ্দিন দুদু, বিএনপি নেতা আব্দুল হাই, শ্যামগঞ্জ বাজারের ইজারাদার ও যুবনেতা আলী আক্তার খান পল্লব, যুবদল নেতা আজিজুল হক, মনিরুল ইসলাম মুরাদ, আতাউর রহমান, মইলাকান্দা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আনিছুজ্জামান আনিছ, উপজেলা তাঁতী দলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম, উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন আল আমিন প্রমুখ।
ফুলপুরের ইসলামী সভায় এমপি আমির হামজা আরও বলেন, ওই রাস্তার টাকা, ব্রিজের টাকা, গোরস্থানের টাকা, মন্দিরের টাকা মেরে খায়। এইটা বলি এই জন্য আমাকে আসতে দেয় না। ওরা জানে গুমর ফাঁক করে দিবো। তাই ইসলামী সভায় আমাকে আসতে দেয়া হয় না। উনিও এমপি, আমিও এমপি। আপনার যদি আসার অধিকার তাকে সারা বাংলাদেশ, তাহলে আমারও অধিকার আছে! আপনি বিএনপি করলে যদি দোষ না হয়, তাহলে আমি জামায়াতে ইসলামী করলে দোষ হবে কেন? ভন্ডামী করার জায়গা পান না। আমি যদি জামায়াত করতে না পারি, তাহলে আপনি বিএনপিও করতে পারবেন না। আপনি করবেন, আমি করবো না, আমি কী; ভেসে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, দেখেন আমি কি করি, আমি সংসদে বলবো, এর জবাব দেয়া লাগবে। না হয় এই সংসদ আমরা মানি না। ৫৬হাজার বর্গমাইলের জায়গায় যেতে দিবেন না, আপনি কুষ্টিয়ায় যেয়েন তো দেখি, আপনাকেও ঢুকতে দিবো না। যদি আগে বলে দিতেন, তাহলে এই মাহফিলের (শ্যামগঞ্জ) ২-৩লাখ টাকা খরচ হতো না। এখন তো দেখি আবু জেহেলের চেয়েও খারাপ। আবুজাহেল কুরআন শোনতে বাধা দিতো, মনেমনে চুরি করে শোনতো। আর এরা শোনেও না, শোনতেও দেয় না। আবু জাহেল তো দেখি না, যদি দেখতাম তাহলে ওই রকমেই হইতো।