শিপটা রবিদাসের (৫০) জুতা-লুঙ্গি পড়ে ছিলো রেললাইনে, তার লাশ মিললো ঘরে। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুরের মইলাকান্দা ইউনিয়নের মইলাকান্দা গ্রামের মৃত ফুলচান রবিদাসের পুত্র। সোমবার (৩০মার্চ/২৬) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের কন্যা চম্পা রবিদাস (১৫) জানায়, রাত একটার দিকে তার বাবা বাসা থেকে বের হয়ে যায়। রাত তিনটার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় শরীরে কাপড়বিহীন (উলঙ্গ) হয়ে ঘরে ফিরেন। তখন তার বাবার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. কামরুল হাসান জানান, শ্যামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইনের পাশে নিহতের স্যান্ডেল জুতা ও লুঙ্গি পড়ে ছিলো। সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হন্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই রিপন রবিদা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানার অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, ভোরে শ্যামগঞ্জ পাটবাজার আলিয়া মাদ্রাসা রোডের রেললাইনের পাশে তার শিপটা রবিদাসের ব্যবহৃত জুতা ও লুঙ্গি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তার ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে মৃত পাওয়া যায়। মইলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, শিপটা রবি দাস দীর্ঘদিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি কিছুটা সুস্থ হন। জীবিকার জন্য তিনি জুতা কালি করা ও জুতা সেলাইয়ের করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
একই গ্রামের বাসিন্দা আনিসুজ্জামান আনিস জানান, ফজরের নামাজের পর কয়েকজন তাকে ডেকে নিয়ে গেলে তিনি রেললাইনের পাশে জুতা ও লুঙ্গি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে শিপটা রবি দাসকে তার ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের ধারণা ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনি আহত হয়ে ঘরে ফিরতে পারেন। তবে নিহতের ছোট ভাই রিপন রবিদাসের দাবী তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ট তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।