প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ঘোষিত ৩দফা দাবীতে চলমান আন্দোলনের কারণে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সোমবার (১ ডিসেম্বর /২৫) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। মঙ্গলবারের পরীক্ষা নিয়েও অভিভাবক ও শিখ্ষার্থীদের শংকা বিরাজ করছে।
গৌরীপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সকালে দেখা যায়, পরীক্ষার্থী বোর্ড, পেন্সিলসহ শিক্ষা উপকরণ নিয়ে পরীক্ষা দিতে আসে। তবে রাতেই পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তন হওয়ায় কোনো বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি একেএম মাজহারুল আনোয়ার ফেরদৌস জানান, সকালে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পরীক্ষা ছিলো। রুটিন পরিবর্তন ও শিক্ষকদের কর্মবিরতী থাকায় এ পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। তিনি সাংবাদিকদের আরও জানান, সারাদেশে ৩ দফা দাবীতে শিক্ষকদের কর্মবিরতী চলছে। সে অবস্থায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও আন্দোলনের ফলপ্রসূ সমাধান ব্যতিত পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না।
বিদ্যালয়ের সামনে কথা হয় অভিভাবক আমিনুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, আজকে ( সোমবার) ছিলো বাংলা, আর মঙ্গলবার ছিলো চারুকারু। হঠাৎ রুটিন পরিবর্তন করেন মঙ্গলবার ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা নেয়ার রুটিন দেয়া হয়েছে। যা জন্য শিক্ষার্থীরা অপ্রস্তুত ও তড়িঘড়ি করায় ফলাফলে কাঙ্খিত অর্জন ছাত্রছাত্রীদের জন্য সম্ভব হবে না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার রোববার (৩০ নভেম্বর/২৫) তারিখে আরেকটি রুটিন দিয়েছেন। এ রুটিন পূর্বের রুটিনের সাথে তারিখ অনুযায়ী অনেক বিষয়ে অমিল রয়েছে।
অপরদিকে সিংরাউন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন যুগান্তরকে জানান, তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ১৫৩জন। রুটিন পরিবর্তনের বিষয়টি জানানোর পূর্বেই ওরা পরীক্ষা দিতে চলে আসে। তবে কর্মবিরতীর কারণে এ পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। যতক্ষন পর্যন্ত কর্মবিরতী চলবে ততক্ষন পর্যন্ত শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না।
আব্দুল ওয়াহেদ মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফারুকুল ইসলাম জানান, রোববার থেকে ৩দফা দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে। এ আন্দোলনের মধ্যে পরীক্ষা নেয়া কোনো অবস্থাতেই সম্ভব হবে না। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ব্যতিত আমাদের কিছুই করার নেই। গৌরীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ চন্দ্র চন্দ জানান, তার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯৫জন। রুটিন পরিবর্তন হওয়ায় পরীক্ষা নেয়া হয়নি। নতুন রুটিনে মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষার নির্দেশনা রয়েছে। আমরাও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। বেকারকান্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন জানান, তার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১০জন। সোমবার বাংলা বিষয়ে পরীক্ষা থাকলেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। অচিন্তপুর ইউনিয়নের ছিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জল রবিদাস জানান, আন্দোলনের বিষয়ে যতোক্ষন সুরাহা না হবে, ততক্ষন পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার জানান, আমরা চলমান আন্দোলন নিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছি। যে রুটিন দেয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পা জানান, আমি নিজেই আজকে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে ঘুরে আসছি। কয়েকটি বিদ্যালয়ে ক্লাস হচ্ছে, কিছু বিদ্যালয়ে ক্লাস হয়নি। পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে এখনো শিক্ষা বিভাগ থেকে কিছু জানায়নি। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।