ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভূটিয়ারকোনা আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদকে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করে দেয়া ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের উদ্যোগে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর/২৫) মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সমাবেশে ২৪ঘন্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
পৌর শহরের পুরাতন সোনালী ব্যাংক ভবনের সামনে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামাবাদ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রুকুন উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের ছিদ্দিক মানিক।
‘যিনি তিলতিল করে ভাঙা বেঞ্চ-চটের বেড়ার একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজ পর্যায়ে উন্নিত করেছেন, যিনি নিজ প্রতিষ্ঠানে এসএসসি কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। আজকে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। সেই প্রতিষ্ঠানের নিবেদিত অধ্যক্ষকে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বাহিরে বের করে দেয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। শুধু তাই নয়, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। যিনি এ কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনিও শিক্ষক, এ কলেজ থেকে প্রায় ৫কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চল্লিশা কড়েহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি শিক্ষক নামের কলঙ্ক। নিজ বিদ্যালয় ছেড়ে সেই সময়ে কিভাবে এই ভূটিয়ারকোনো স্কুল এন্ড কলেজ আসলো এটা আমাদের প্রশ্ন? কথাগুলো বলছিলেন মানববন্ধনের বিক্ষুব্দ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ড. মোহাম্মদ ফজলুল করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছাইফুল ইসলাম, লামাপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান, নূরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক, পাছার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আরশাদুল হক, শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, লামাপাড়া কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার সৈয়দ শহীদুল্লাহ, বড়বাগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির খান, ইসলামাবাদ ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাহাবুব আহাম্মেদ মানিক, শ্যামগঞ্জ কাামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ একেএম মোস্তফা কামাল, ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরোত্তম রায়, তালে হোসেন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসিম, শাহগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের সহকারি অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার সরকার, মোতালেব বেগ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রাজ্জাক, খলতবাড়ি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে যায়। সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে।
এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহাদত হোসেন বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী গোলাম মোহাম্মদ ভূটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এর অধ্যক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে মাউশিতে তদন্ত সাপেক্ষে একটি প্রতিবেদন জমা হয়। কিন্তু মাউশি এই বিষয়ে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় ও নিয়ম অনুযায়ী ১৮০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় গোলাম মোহাম্মদ স্বপদে বহাল হয়েছে। তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি অত্যন্ত দু:খজনক।
গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) দেবাশীষ কর্মকার বলেন, ভূটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এর অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। তদন্তের অনুমতির জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার ভূটিয়ারকোনা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদকে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে চল্লিশা কড়েহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার ৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই ঘটনার পরদিন শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর ব্যানারে প্রতিষ্ঠানের সামনে মানববন্ধন করে ও ভূটিয়ারকোনা বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠে।