জুতা দেখেই আসামী সনাক্ত করতে সক্ষম হন মামলার তদন্তকারী অফিসার আবু হানিফ। হত্যা মামলার বারোদিনের মধ্যে আসামী সনাক্ত, গ্রেফতার ও ১৬৪ধারায় আদালতে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি করতে সক্ষম হওয়ায় তিনি এলাকায় প্রশংসায় ভাসছেন। এ প্রসঙ্গে কবিরাজি বাড়ি এলাকার লোকমান হোসেন জানান, পুলিশ এ ঘটনার মধ্যদিয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। কে মারলো, কিভাবে মারলো, কেন মারলো এসব প্রশ্নের এক উত্তর এখন চলে আসছে। রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবু হানিফ এবং পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
মামলার বাদী নিহতের ছোট ভাই শরীফ মিয়া জানান, পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার বোনের হত্যাকারীকে গ্রেফতার এবং সে যে হত্যা করেছে, তাও বিচারকের সামনে স্বীকার করেছে। এ জন্য পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দিদারুল ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবু হানিফকে ধন্যবাদ। তারা এ মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়ায় আসামী গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫জুলাই/২৫) ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াসাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোছা. নাছিমা খাতুন এর আদালতে ১৬১ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতে এ দায় স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন ফজলুল হক। তিনি আদালতকে জানান, কবিরাজি বাড়ি মসজিদের পাশে গভীর রাতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হোসনে আরা (৩৮) একা ঘুরছিলো। তাকে জিজ্ঞাস করায় ক্ষেপে যায়। এক পর্যায়ে আমাকে জুতা দিয়ে বারি মারে। এতে আমি ক্ষুব্দ হয়ে ওকে গলায় ধরলে সে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পরে যায়। পরে কলাগাছের ডাউ¹া দিয়া গলায় গিঁট দিয়ে কচুখেতে লাশ ফেলে আসি। ফজলুল হক ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কবিরাজ বাড়ি এলাকার মৃত জসিম উদ্দিনের পুত্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী অফিসার আবু হানিফ।
তিনি জানান, এ একটি ক্লু-লেন্স হত্যাকাণ্ড। হোসনে আরার ব্যবহৃত জুতা ফজলুল হকের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এরপরে তাকে গাজীপুর এলাকা থেকে ৯জুলাই রাতে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এরপর দুই দিনের পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই/২৫) আদালতে হাজির করা হয়। সে স্বেচ্ছায় আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বর্ণনা দেন।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিদারুল ইসলাম জানান, আমাদের সুযোগ্য পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌরীপুর সার্কেলসহ উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ সঠিক দিকনিদের্শনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ফজলুল হক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। এরপরেও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
মামলা সূত্র জানা যায়, প্রায় ১০বছর পূর্বে হোসনে আরা’র বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মধ্যেই তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়ায় তালাকপ্রাপ্ত হয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। ঘটনার দিন ২জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে হোসনে আরা তার মা রাবেয়া খাতুনের সাথে ঘুমিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ৮টায় খবর পান হোসনে আরার লাশ কবিরাজ বাড়ি গ্রামের মোশারফ হোসেন মজনু কচু খেতে পরে রয়েছে। কলাগাছের শুকনা ডাউ¹া দিয়ে পেঁচিয়ে গিট্টু দিয়ে হোসনে আরাকে হত্যা করা হয়। সে কাওলাটিয়া গ্রামের গ্রামের মৃত আব্দুল গণির কন্যা। শিশুরা ওই বিলে ঘুড়ি নিয়ে খেলা করতে গিয়ে এ লাশ দেখতে পায়। এ ঘটনার পর থেকে কবিরাজ বাড়ি এলকাার মৃত জসিম উদ্দিনের পুত্র ফজলুল হক গোয়াল ঘরের ভিতরে গরু রেখে ও বসতঘরে তালা লাগিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান। নিহত পরিবারের সন্দেহের তীর ছিলো ফজলুল হকের দিকে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হোসনে আরা খাতুন (৩৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গৌরীপুর থানায় বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই/২৫) মামলা হয়। এ মামলা দায়ের করেন নিহতের ছোট ভাই শরীফ মিয়া।