ময়মনসিংহের গৌরীপুরের গাজীপুর থেকে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর জেলা মহাসড়ক উন্নীতকরণের কাজের ধীরগতির কারণে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের রাস্তা ভেঙে দু’পাশে ধসে পড়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০১ কোটি ৫৩ লাখ ১৩হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলো গত ৩১ ডিসেম্বর। তবে প্রকল্পের ১০শতাংশ কাজও হয়নি দাবি এলাকাবাসীর। সড়ক ও জনপদ বিভাগের দাবি, এখন পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কাজের মেয়াদ শেষ। এরপরেও জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। প্রভাবশালী মহল বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের অভিযোগ করেন উচাখিলার তারা মিয়া, আবুল হোসেন ও মো. জয়নাল আবেদিন। তাদের দাবী, দুর্নীতিবাজ একটি চক্র জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই একদিকে নিম্নমানের কাজ করছে, অপরদিকে কৃষকের টাকা নিয়ে তালবাহানা করছে। কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঈশ্বরগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবদুস সালাম জানান, এ প্রকল্পের নাম কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন গৌরীপুর-আনন্দগঞ্জ-মধুপুর- দেওয়ানগঞ্জ বাজার- হোসেনপুর জেলা মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ। যা ২০২০ সনের ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনা কমিশন, ভৌত অবকাঠামো বিভাগরে ১ অক্টোবর তারিখে প্রদত্ত পর্যবেক্ষণের আলোকে পুনগঠিত হয়েছে। এ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণখাতে ৩৯৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, সড়ক ও আধুনিকায়ন খাতে ৩০১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাহের ব্রাদার্স প্রা. লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেয়া হয় ২০২৩সনের ১০ মে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে কাজ করতে বিঘ্ন ঘটছে। প্রকল্প এলাকায় তাহের ব্রাদার্স লিমিটেডের সাইনবোর্ডে দেখা যায়, টেন্ডার আইডি ৭৫১১২৮-এ ১৩৬ কোটি ৮৩লাখ ৭০হাজার ৪৫টাকায় ব্রিজ, বক্সকালভার্ট (ইউড্রেন) নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই, প্যালাসাইডিং নির্মাণ, ফুটপাথ তৈরি, সিসি ব্লক ইত্যাদি কাজের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের বাসিন্দা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল আজিজ মন্ডল বলেন, সড়কই নেই; আবার মহাসড়ক! এখন গাড়ি চলে না। ভারী যানবাহন আসে না। রাস্তা ভেঙে পুকুর হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে এ সড়কে যানবাহনে চলাচল করাই যাচ্ছে না। বড় বড় গর্তের কারণ সিএনজি আর অটোরিকশা চলাচল করা কষ্টকর। একেকস্থানে ভেঙে এখন সড়ক খাল আর পুকুর হয়ে গেছে। এভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে উন্নয়ন কার্যক্রম চলতে পারে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ রাস্তা নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের মাটি-বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। বালির গুনগত মানও ভালো নয়। সাদা রঙের মরা (হালকা) পাথরও ব্যবহার করা চলছে। মহাসড়কটি নতুনভাবে নির্মাণের বিধান থাকলেও অধিকাংশস্থানে পুরাতন সড়কের উপরের অংশভেঙে সেই পুরাতন পাথর ও সুরকি ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। পুরো রাস্তায় বক্সকেটে নতুনভাবে না করায় জোরাতালির মহাসড়কটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেঙে পড়ারও আশংকা রয়েছে। সরজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক থেকে গাজীপুরের প্রবেশপত্রে আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাষনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। জলাবদ্ধতার কারণে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। শুকনা মৌসুমে খানা-খন্দকে বাতাসে উড়ে ধুলোবালি। গাজীপুরের মোড় অতিক্রম করার পরেই দু’পাশে পুকুর থাকায় যানবাহন চলাচল চরমভাবে ঝুঁিক নিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। লেবুর মোড় এলাকায় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয় মোড়ে রাস্তার বর্ধিত অংশের বক্স কাটা হলেও বিলম্বের কারণে বেড়েছে জনদুর্ভোগ। এরপরে লাউয়ের মোড় থেকে মামদিপুর পর্যন্ত রাস্তায় অসমাপ্ত নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন যাবত ফেলে রাখা হয়েছে। রাস্তার ধুলো উড়ে দু’পাশের সবুজ গাছ বিবর্ণ হয়ে গেছে। বাড়িঘরে রঙ ফ্যাসাদে, রঙিন টিনে পড়েছে ধুলোর আস্তরণ। ঈশ্বরগঞ্জের ভারতীয় বাজার এলাকায় এখন কোনো কাজ শুরু হয়নি। রাস্তার একপাশে বক্সকেটে ও মাটি ফেলে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন।