আজ শনিবার ২১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
বাংলাদেশ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে.. ড. এ টি এম বদরুজ্জামান এসিল্যান্ড সুনন্দাকে বিদায় সংবর্ধনা দিল গৌরীপুর প্রেসক্লাব শতভাগ ফেল লক্ষিপুর দাখিল মাদরাসা ॥ পাশের চেয়ে ফেল বারগুণ! গৌরীপুরে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮১ জন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী’র সহধর্মিনীর রোগমুক্তি কামনা অনুষ্ঠানে ॥ নববধূর হাতের রঙ মোছার সময়ও বর্তমান সরকারের হয়নি গৌরীপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়ান দিবসে আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠান নেত্রকোণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নদী ও খালপাড় রক্ষায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে সভা গৌরীপুরে ফুটবল আনতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু! দেশে আসেন, দেখা হবে রাজপথে: হাসিনাকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই পুণ:জার্গরণে গ্র্যাফিতিতে গৌরীপুর দর্শনার্থীদের ভিড়
প্রধান প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : ফেব্রুয়ারি, ২, ২০২৫, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ




ডা. মুকতাদির স্মৃতি জাদুঘরের আবিস্কৃত চক্ষু চিকিৎসার সেই যন্ত্রের প্রদর্শন উদ্বোধন

 তিন মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশীয় কাঁচামাল দিয়ে ক্রায়ো এক্সট্রাক্টর মেশিন আবিস্কার করেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. একেএমএ মুকতাদির। এ যন্ত্রসহ তাঁর আবিস্কৃত চক্ষু চিকিৎসার ব্যবহৃত ১৩টি যন্ত্র উদ্ভাবনের ৪৫বছর পর সর্বসাধারণের দেখার জন্যে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি/২৫) উন্মুক্ত করছেন। তিনি হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ডা. মুকতাদির চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর তৈরি যন্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে অপথালমোস্কাপ, রেটিনোস্কোপ, ডিসিআর বোন ট্রিফাইন, কেপ্নটোপ্লাস্টি করনিয়াল ট্রিফাইন, হ্যান্ড হেল্ড সাইনোপটোফোর, পাংটাম ডাইলেটর, ল্যাক্রিমাল গ্রোব, রিভলজি ডিশন চার্ট, ট্রায়াল ফ্রেম, আইপিডি মাপার যন্ত্র। এসব যন্ত্র উদ্ভাবন করেন ১৯৭৯ ও ১৯৮০সনে। এরমধ্যে ক্রায়ো এক্সট্রাক্টর যন্ত্রটি ১৯৬২ সনে ডা. চারিস ক্যালমেন প্রথম এ যন্ত্রটি আবিস্কার করেন। তখন এ যন্ত্রটি দাম ছিলো ৬লক্ষ টাকা। যা এদেশের চিকিৎসকদের ক্রয় ও ব্যবহার ছিলো অসম্ভব। এ প্রসঙ্গে ডা. এ.কে.এম.এ মুকতাদির বলেন, আমি সেই যন্ত্রটি দেখলাম-ব্যবহার করলাম। এরপরে ৩মাসের পরিশ্রমে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে সেই যন্ত্রটি তৈরি করি। যা তরুণ ডাক্তাররা মাত্র এক হাজার টাকা কিনতে সক্ষম হলো। সেটি ছিলো ১৯৭৯সন। যন্ত্রটি তখন বিএসটিতে পেটেন্ট করি। এ নিয়ে ওএসবি জার্নালে আমার প্রথম পাবলিকেশন প্রকাশিত হয়। এ প্রযুক্তিটি ১৯৮৩ সনে জার্মানির সিমেন্স কোম্পানীর নিকট বিক্রি করে দেই। এতে শুধু দেশ নয়, বিভিন্ন দেশের চক্ষু চিকিৎসকগণও এতে উপকৃত হন। এসব যন্ত্র, চোখের বিশাল সমারোহ আর ডা. মুকতাদিরের ব্যবহারকৃত যন্ত্রপাতি, জিনিসপত্রসহ গড়ে তোলা হয়েছে হয়েছে ‘স্মৃতি জাদুঘর।’ এর উদ্বোধন করেন তাঁর সহধর্মিনী অধ্যাপিকা ডা. মাহমুদা খাতুন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনী ও স্ত্রী রোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউএনও এম সাজ্জাদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. ইকবাল আহমেদ নাসের ও গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মির্জা মাযহারুর আনোয়ার। অনুষ্ঠানে সভাপতি করেন ডা. এ.কে.এম.এ মুকতাদির। এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রইছ উদ্দিন বলেন, তিনি গৌরীপুরের কৃতি সন্তান, তাঁকে নিয়ে আমরা গর্বিত। এ স্মৃতি জাদুঘরে তিনি অনেক দুলর্ভ জিনিস প্রদর্শন করেছেন, যা নতুন প্রজন্মকে অতীতের ইতিহাস জানার সুযোগ করে দিবে। এ শিশু-কিশোর এ জাদুঘরে এসে প্রত্যেকেই অন্তত একজন ‘ডা. মুকতাদির’ হওয়ার স্বপ্ন দেখবে। গৌরীপুর বিএমএসফের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বুরহান বলেন, এখানো কয়লার ইস্ত্রি মেশিন দেখলাম, গানের অনেক পুরাতন কলের গানের যন্ত্র আছে। ডা. মুকতাদির’র জীবন ও তাঁর কর্ম এখানে তুলে ধরা হয়েছে। জীবনের প্রত্যেকটি ধাপেধাপে এগিয়ে যাওয়ার তথ্য সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। তিনি শুধু একজন চক্ষু চিকিৎসক নয়, গানের শিল্পী। তার ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র দেখেই বুঝা যায়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাপদক প্রাপ্ত চক্ষু চিকিৎসক ডা. এ. কে. এম. এ মুকতাদির বলেন, এটি আমার জীবনের শেষ অনুষ্ঠান। দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে যারা আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, গৌরীপুর উপজেলার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ২০২০ সালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ লাভ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু আমার নয়, গৌরীপুরবাসীর জন্যও অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’ নতুন উদ্যোগ ‘স্মৃতি জাদুকর’ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একেবারেই নবজাতক। যদি বেঁচে থাকি, আগামী দুই বছরের মধ্যেই এটি পূর্ণরূপে দাঁড় করাবো।’ অবশেষে তিনি নিজের কর্মজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল করে, আমিও তার ঊর্ধ্বে নই।’ স্মৃতি জাদুঘরে দর্শনার্থীদের স্বাগত জানানো হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের ‘হুঁকা ও পানদানী’ দিয়ে। রয়েছে নানা সময়ের চশমা, মোমদানী, হারিকেন, কুপিবাতি, কলেরগান (গ্রামোফোন), হেফাকবাতি, করোসিন স্টোব, ম্যাগনেটো টেলিফোন সেট, মারফি রেডিও, নতুন মারফি রেডিও, টেপ রেকর্ডার, হারমোনিয়াম, কাঠের হাওয়াইয়ান গিটার, ইলেকট্টিক হাওয়াইন গিটার, ইলেকট্টিক গিটার এমপ্লিফায়ার, ইকোবক্স ও প্রতিধ্বনি যন্ত্র, তবলা, টেলিফোন, ফ্যাক্স মেশিন, ট্রানজেস্টার ও কেসেটপ্লেয়ার, সাদা-কালো টিভি, হস্তচালিত টাইপ রাইটার, ইলেকট্টিক টাইপ রাইটার, ভিসিআর ও ক্যাসেট, স্লাইড প্রজেক্টর, ফিল্মচালিত ক্যামেরা, ফিল্মচালিত ভিডিও ক্যামেরা, তারবিহীন ইন্টারকম, অপারেটিং ম্যাগনিফাইং গ্লাস, সিডি প্লেয়ার, ডিভিডি প্লেয়ার, ৩ডি ডিভিডি প্লেয়ার, দেশের জাতীয় পশু, পাখি, ফুল, ফল ও মাছ, মালদ্বীপের সংগ্রহকৃত জিনিসপত্র, রেডিয়াল কেরাটোটমি, দেওয়াল ঘড়ি, কয়লার ইস্ত্রি, মাপার ট্যাপ, পিতল ও কাসার জিনিসপত্র, কীবোর্ড, ঢোল, মৃত হরিণের চামড়া, রুপার প্লেট, সুট, সিলভারে তৈরি ট্রে, পিতলের তৈরি ধোপদানী, খেলনা জিনিসপত্র। এছাড়াও ৪৭বছরের প্রকাশিত সংবাদপত্রের কাটিংয়ে দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক স্বজন, দৈনিক বাহাদুর, দৈনিক সমকাল, দৈনিক নয়া দিগন্ত, ভোরের কাগজ, দৈনিক জাহান, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক যায়যায় দিন, দৈনিক আমাদের সময়, দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার ২শতাধিক সংবাদ স্থান পেয়েছে। সর্বসাধারণের দেখার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে স্বাধীনতা পদক, ডা. মুকতাদিররের ব্যবহৃত স্বর্ণের, রূপার ও পিতলের কোটপিন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়া অর্ধশত কোর্টপিন। নবপ্রজন্মকে বিশ্বের সঙ্গে পরিচিত করতে টার্কিশ লিরা, শ্রীলংকার রুপি, অস্ট্রিয়ান সিলিং, থ্যাইল্যান্ড বাঘ, চাইনিজ ইয়াং, কোরিয়ান ওন, মরিশিয়ান রুপি, ওমানি রিয়াল, কম্বেডিয়ান রিয়েল, সুইডিশ ক্রোনা, ভিয়েতনামিজ ডং, হংকং ডলার, পোলিশ মলোটি, কানাডিয়ান ডলারসহ ৬২টি দেশের মুদ্রা। চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০২০সনে দেশের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়। দেশে গ্রামীণ এলাকায় চোখের চিকিৎসায় অসামান্য অবদানের জন্য ভারতের বিলাসপুরে ২০২৩সনের ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া অফথালমোজিক্যাল সোসাইটি (অওঙঝ)-এর সম্মেলনে ‘গুরু পুজান’ পদক করেন। এছাড়াও তিনি ২০১৬সালের ২২অক্টোর তিনি ভারতের তিরুচিরাপল্লীতে এ্যাসোসিয়েশন অফ কমিউনিটি অফথ্যালমলোজি ইন ইন্ডিয়া আয়োজিত অনুষ্ঠানে লাইফ টাইম এ্যাচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড, চক্ষু চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এ্যাওয়ার্ড, ২০০২সালে লায়ন্স এফ্রিসিওয়ান এ্যাওয়ার্ড, ২০০৫সালে এএফএও কর্তৃক ডিসটিংগোয়িং সার্ভিস এ্যাওয়ার্ড, একেদাস এ্যান্ডওমেন্ট এ্যাওয়ার্ড, ২০১৫সালে ভারতে গোল্ডমেডেলসহ দেশ ও বিদেশে ১৯টি এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। তিনি ও তারই সহধর্মিণী ডা. মাহমুদা খাতুনের সহযোগিতায় ২০০৪ সনে নিজগ্রাম নয়াপাড়ায় ডাঃ মুকতাদির চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৭৭সন থেকে ২০০৩ইং সন পর্যন্ত গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় বিনামূল্যে চক্ষু অপারেশন ক্যাম্পে ৯হাজার ৫শ ৩৫জনের অপারেশন সম্পন্ন করেন। এই হাসপাতালে বিনামূল্যে চোখের জ্যাতি ফিরে পান ৯হাজার ৬শ ৫৭জন। দৈনন্দিন অপারেশন করা হয়েছে ছানি অপারেশন ৩২হাজার ২শ ১৯জন, নালি অপারেশন ৪হাজার ১৭৮জন, চোখের মাংস বৃদ্ধির অপারেশন ১হাজার ৯২৮জন, গ্লোকোমার ১হাজার ৯৫২জন, নেত্রনালির ১হাজার ৯৪৮জন, চোখে পাথর সংযোজন ৬১২জন, চোখের পাতার অপারেশন ৬৮৯জন, গুটি অপারেশন ৪৮৭জন, টিউমার অপারেশন ৫৯৮জন, টেরা চোখ অপারেশন ৮২জন।




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০