৬৯’র গনঅভ্যুত্থানের এই দিনে (২৭ জানুয়ারি/২০২৫) পুলিশের গুলিতে শহিদ হন গৌরীপুর কলেজের ছাত্র আজিজুল হক হারুন। ‘জয় বাংলা, তুমি কে আমি কে, বাঙালী বাঙালী, ৬দফা-১১দফা মানতে হবে-মেনে নাও এই স্লোগানে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে মিছিলটি মধ্যবাজারে আসা মাত্রই কন্ঠরোধ করতে পুলিশ গুলি চালায়। গণঅভ্যূত্থানে শহিদ আসাদ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেও আজও হারুনের স্বীকৃতি মিলেনি। দিবসটি পালন উপলক্ষে যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রভাত ফেরী, আলোচনা সভা, পুষ্পমাল্য অর্পণসহ নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। শহিদ হারুনের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ছামারুল্লাহ গ্রামে। মিয়া বক্স সরকারের পুত্র হারুনদের ৬ ভাই, ৩ বোন। নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কের পাশেই চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন। জরাজীর্ণ কবরটি এলাকার লোকজনের সহায়তায় কিছু ইট দিয়ে ঘেরাও করে রাখা। কবরের পাশে এসে এখন আর কেউ হারুনকে স্মরণ করেন না। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১দফা আন্দোলনের সময় ঢাকা নবকুমার ইনস্টিটিউট এর ছাত্র মতিউর রহমান পুলিশের গুলিতে শহিদ হলে সারা দেশে ছাত্র আন্দোলনের নতুন মাত্রার যোগ হয়। আর এই বিক্ষোভের জের ধরেই ১৯৬৯ সালের ২৭ জানুয়ারি গৌরীপুর শহরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ জারি করে পুলিশ। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেই গৌরীপুর কলেজ থেকে ছাত্ররা একটি মিছিল বের করে। ওই মিছিলে আরকে উচ্চ বিদ্যালয় ও পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অংশ গ্রহণ করে। মিছিলটি শহরের মধ্যবাজারে আসা মাত্রই তৎকালীন মহকুমার প্রশাসক এম, এ সামাদের নির্দেশে গৌরীপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ এম.এ মল্লিক গুলি চালায়। ওই সময় পুলিশের গুলিতে শহিদ হন মেধাবী ছাত্র আজিজুল হক হারুন। সে দিন ছিল সোমবার সকাল ১১ টা। পরিবার সূত্র জানায়, হারুনের ছোট ভাই শফিকুল আলম চাঁন মিয়া তখন পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গৌরীপুর গেলেও কোন পরিচয় না দিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে পুলিশ লাশ অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। এর তিন দিন পর ময়মনসিংহ থেকে মুচলেখা দিয়ে ভাইয়ের লাশ নিয়ে নান্দাইলে আসে এবং পুলিশি প্রহরায় লাশ দাফন করা হয়। ঘটনার ৪৩বছর পর ২০১২সনে হারুনের স্বীকৃতিতে ‘শহিদ হারুন স্মৃতি সৌধ’ নির্মাণ করেন সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির। তবে এখন পর্যন্ত হারুনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলেনি।