আজ শুক্রবার ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
প্রধান প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : অক্টোবর, ২৬, ২০২৪, ৮:৩২ অপরাহ্ণ




ঢাকায় একদফার স্লোগানে চোখেমুখে গুলিবিদ্ধ হয় গৌরীপুরের বাবু! এক চোখের আলো নিভে গেছে অপর চোখে ঝাপসা!

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত রাজপথ কাঁপানো স্লোগানে দিতো মো. আব্দুল্লাহ বাবু। সেদিন ছিলো শুক্রবার, ১৯ জুলাই। জুম্মার নামাজ শেষে যাত্রাবড়ি গোলাপবাগ এলাকায় ছুটেন তিনি। তখন বজ্রকণ্ঠে ¯েøাগান আর ¯েøাগান মুখরিত পুরো এলাকা। মিছিলের সম্মুখভাগে এগিয়ে চলছিলো বাবু। হঠাৎ একটি বাসার ভিতর থেকে বেড়িয়ে এসেই পুলিশ সরাসরি রাবার বুলেট ছুটতে থাকে। ওর চোখ, মুখ-নাকেও গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেকের পুত্র।

থাকেন এখন ঢাকার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ইকুরিয়া এলাকায়। ৬৫বছর বয়সী বাবা ৪-৫বছর যাবত ড্রাইভিং ছেড়ে দিয়ে ছিলেন। আর্থিক অনটনের সংসারে এ পেশায় যোগ দেন মো. আব্দুল্লাহ বাবু। তার আয়ে এক সন্তানকে নিয়ে তার সংসার আর পিতা আব্দুল বারেক-মাতা সালমা বেগমকে আগলে রাখতেন। ২০২৩সনে একটি রাজনৈতিক মামলায় তার বাবাকে জেলহাজতেও যেতে হয়েছিলো। তিনি ৩৯নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। বাবা’র পেশায় প্রবেশ করে পুত্র বাবুও বাবার সঙ্গে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান। কাজের ফাঁকে ফাঁকে সাংগঠনিক কর্মসূচীতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে বাবু ছিলো মিছিলের অগ্রভাগে। পুলিশের গুলিতে ইতোমধ্যে বাবুর বাম চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। তাকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এ চোখে আর কখনও দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে না। সে সময় ডানচোখের গুলির আঘাত লাগে। সেই চোখটিও এখন ঝাপসা হয়ে আসছে। দুরের জিনিস দেখতে পায় না। তাকে চিকিৎসার জন্য জামায়তে ইসলামীর পক্ষ থেকে ১০হাজার টাকা ও আরেকটি সংগঠন ১লাখ টাকার আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। তবে চোখের চিকিৎসা আরও চালিয়ে যেতে হবে।

সন্তানের সুচিকিৎসা ও তার সংসারের হাল ধরতে আবারও গাড়ির স্ট্রায়ারিং ধরেছেন তার বাবা আব্দুল বারেক। চারপুত্রের মধ্যে বাবু সবার ছোট। বড় ছেলে মো. সুজন মিয়া সায়দাবাদে পুরাতন মবিলের দোকানে কাজ করে। অপরপুত্র মো. রাজন মিয়াও গাড়ি চালায়। আর মো. সজল মিয়া ছিলেন গার্মেন্ট কর্মী। জুলাই বিপ্লবের পরে তার কোম্পানী বন্ধ থাকায় তিনিও এখন বেকার।
দেড় বছরের মো. আনার মিয়া নামে একজন শিশু সন্তান নিয়ে বাবু’র সংসার। স্ত্রী নাসরিন প্রীতি পেশায় গৃহিনী। তার সংসার আর বাবু’র সুচিকিৎসার জন্য দ্বিগবেদিক ছুটছেন তার বাবা আব্দুল বারেক। একদিকে বেড়েছে খরচ, অপরদিকে বন্ধ হয়ে গেছে সংসারের আয় উপার্জক্ষম বাবু’র উপার্জন। আব্দুল বারেক বলেন, আমার সন্তানের উপর এভাবে যারা গুলি ছোঁড়েছে, যারা হামলা করেছে। আমি তাদের বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, আমার সন্তান তো আর কখনও গাড়ি চালাতে পারবে না। তার তো একটি কর্মসংস্থান প্রয়োজন। তা না হলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কিভাবে বাঁচবে।

আব্দুল্লাহ বাবু জানায়, আমরা একটি স্বপ্ন নিয়ে স্লোগানে ধরেছিলাম। সেই স্বপ্ন পূরণে একটি-দুটি চোখ কেনো, জীবন চলে গেলেও ফিরে আসতাম না। ঝাপসা চোখেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এর নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন দেখেছি! এ আমার মহানন্দ!!




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০