বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বিপ্লব হাসানের নামে বুধবার (৭ আগস্ট/২০২৪) ‘শহিদ বিপ্লব মার্কেট’ এর উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য হাফেজ আজিজুল হক। কলতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এ মার্কেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শুধু বিপ্লব, জোবায়ের আর রাকিব নয়; শেখ হাসিনার সরকার এদেশের হাজার হাজার মানুষকে খুন করেছে। খুনি’র বিচার হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের লেবাস পড়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ প্রকাশ্যে গুলি করে ছাত্রদের মেরেছে। এই ফ্যাসিস্ট হাসিনা চিরতরে দেশ থেকে বিদায় হয়েছে। এই বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগের আর ঠাঁই হবে না। এখন আমরা শেখ হাসিনার বিচার চাই, তাঁকে বিদেশ থেকে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপি’র সদস্য এস এম দুলাল, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য একেএম আব্দুল্লাহ, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সমর আলী, এম এ হান্নান, শহীদুল হক সাতিল, মাজহারুল ইসলাম শাকিল, যুবনেতা উসমান গণি তান্না, শওকত হোসেন সুমন প্রমুখ। এর আগে হাফেজ আজিজুল হকের নেতৃত্বে একটি বিজয় মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিপ্লব হাসান ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চুড়ালী গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার পুত্র। গত শনিবার (২০ জুলাই/২০২৪) উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে কোটা বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করে ৩জন। তাদের মধ্যে একজন হলেন বিপ্লব হাসান। অপর দু’জন হলেন মইলাকান্দা ইউনিয়নের পূর্বকাউরাট গ্রামের জোবায়ের আহম্মেদ ও রামগোপালপুর ইউনিয়নের দামগাঁও গ্রামের নুরে আলম সিদ্দিকী রাকিব।
বিপ্লব হাসানের মা বিলকিস আক্তার বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ্য; কোমড়ের হাড় ক্ষয় হয়ে গেছে। টাকার অভাবে দু’মেয়ের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে যায়। বাবার চিকিৎসা আর দু’বোনের লেখাপড়ার খরচ সংগ্রহ করতে বিপ্লব। সে ২০২৩সনে মোজাফফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় দেয়। সে বছর একটি বিষয়ে ফেল করায় ওই বিষয়ে আবারও ২০২৪সনে পরীক্ষা দেয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি কিষাণী ওয়েল মিলে মেকানিক কর্মচারী হিসাবে কাজ করতো। প্রতিমাসের পুরো বেতনের টাকাই তুলে দিতো মায়ের হাতে। দৈনন্দিন খরচের টাকাও নিতো মায়ের নিকট থেকে।