ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ুমকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ঘটনায় ইউনিয়নবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। রোববার (২৬ মে/২০২৪) ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ সমাবেশে সাধারণ জনতাও এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান দেয়।
কলতাপাড়া বাজার সমিতির লোকজন বিক্ষোভ-মিছিল শেষে ডৌহাখলার হাজারো জনতা ছুটে যান ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ুমের বাড়িতে। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্যে গুলিবর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ুম। উপস্থিত জনতাকে তিনি বলেন, আপনাদের দোয়া ছিলো বলে, এখনো বেঁচে আছি, নয়তো আপনারা আজকে আমার লাশ দেখতেন। প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার দিকে একের পর এক গুলিবর্ষণ ছুঁড়ে। আপনারা আমার মা- আমার বাবা, আমি আপনাদের সন্তান, আজীবন আমি আপনাদের সেবক হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। চেয়ারম্যানের বক্তব্যে এসময় নারী-পুরুষরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মহিলারা দু’হাতে আঁচল তুলে ধরে সৃষ্টিকর্তার নিকট তাদের সন্তান চেয়ারম্যানের জীবনের জন্য ‘জানভিক্ষা’র প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য যে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরাজিত দোয়াত-কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ুমকে লক্ষ্য করে গত বুধবার (২২ মে /২০২৪) গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটে। একই সময়ে ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া বাজারের আজিজুল ইসলাম কনফেকশানারী দোকান, সিদ্দিকুর রহমানের মোবাইলের দোকান, হাবিব উল্লাহ মেম্বারের মিষ্টি দোকান, জামানের দোকান ও বাসা এবং গাজীপুর সিংজানীর লেবুর মোড়ে মৃত হযরত আলীর পুত্র গোলাম রব্বানীর মনোহারী দোকান, গাজীপুর বাসস্ট্যান্ড বাজারে নুর ইসলামের ২টি দোকান, ডিলার মোশাররফ হোসেনের দোকান ও ডিলার মোহাম্মদ আলীর দোকানে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে। একই দিনে নন্দীগ্রামের বিলপাড়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী দোয়াত-কলমের কর্মী-সমর্থকদের হামলার আরেকটি ঘটনা ঘটে। উভয় মামলা শনিবার (২৫ মে/২০২৪) গৌরীপুর থানায় দায়ের করা হয়।