ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের হাটশিরা গ্রামে এ্যাডরা বাংলাদেশের কমিউনিটি এম্পাওয়ারমেন্ট প্রজেক্টের সহযোগিতায় গত শুক্রবার (১৭ মে/২০২৪) ‘সিস্টেম অফ রাইস ইনটেন্সিফিকেশন’ যার বাংলায় নিবিড়ায়ন পদ্ধতিতে ধান চাষ (এসআরআই) এর আওতায় কৃষকের শস্য কর্তন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
একটি কুশিতে শত-শত ধানের ফলন হওয়ার খবরে পাশ^বর্তী এলাকার উৎফুল্ল কৃষাণ-কৃষাণী ভিড় করেন মো. সিদ্দিক মিয়ার ধানের ক্ষেতে। এসআরআই পদ্ধতিতে রোপিত ধান কর্তৃন শেষে ১৭টি ধানের কুশি গণনা করেন ১৭জন কৃষক। গড়ে প্রত্যেক কুশিতে ২৮২টি ধান পাওয়া যায়। প্রতি গোছাতে গড়ে ১৮টি কুশি রয়েছে। ১০শতাংশ ধান হয়েছে ৯মন ২০ কেজি। কৃষক জানান, চৌকাটা সমান দুরত্বে একটি করে কুশি রোপন করেছিলাম। এ পদ্ধতিতে খরচ কম, লাভ বেশি।
অপরদিকে চলমান পদ্ধতিতে ধান চাষ করেন একই গ্রামের কৃষক মো. তারা মিয়া। তার ক্ষেতের ১৬টি ধানের কুশি গণনা করা হয়। প্রত্যেক কুশিতে গড়ে ধান হয়েছে ১৫৫টি, প্রতি গোছাতে ১৩টি। ১০শতাংশে ধান হয়েছে ৮মন। এ কৃষক জানান, তিনি এক গোছাতে ৩/৪টি করে কুশি রোপন করেছিলেন, দুরত্ব কম ছিলো। সার-কীটনাশক বেশি লেগেছে, উৎপাদন কম হয়েছে।
কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গৌরীপুর কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার, অপল পন্ডিত, এ্যাডরা বাংলাদেশ গৌরীপুর শাখার সুপারভাইজার সোহেল রানা, কমিউনিটি ডেভলেপমেন্ট অর্গানাইজার দুলাল মিনজি, শিরিনা আক্তার, কমিউনিটি ওয়ার্কার জান্নাতুল ইসলাম
কৃষক মো. আব্দুর রশিদ, মো. আজিজুল হক, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. আজিদ, মো. শহিদ মিয়া, মো. জমশেদ আলী, মো. মতিউর রহমান, কৃষাণী রাবিয়া বেগম, সাজেদা বেগম, রিনা বেগম, খোকুমনি, নাজমা বেগম, পারভীন বেগম।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপল পন্ডিত বলেন, এসআরআই পদ্ধতিতে ধানের ক্ষেতে আলো-বাতাসের চলাচল করতে পারে। গাছের গোড়া পর্যন্ত সূর্য্যরে আলো পৌঁছে। এ পদ্ধতিতে খরচ কম ও কৃষক লাভবান হচ্ছেন। এ্যাডরা বাংলাদেশ গৌরীপুর শাখার সুপারভাইজার সোহেল রানা জানান, এ পদ্ধতিতে এবছর গৌরীপুরে ৫১০জন কৃষক ধানের চারা রোপন করে। তারা পাশ^বর্তী কৃষকের চেয়ে ধানের উৎপাদন বেড়েছে। কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা দেখেছি। এসআরআই পদ্ধতি কৃষকের জন্য নতুন প্রযুক্তি, এ পদ্ধতিতে ধান চাষ করলে আমরা উপকৃত হবো। আগামীতে এ পদ্ধতি আমিও ব্যবহার করবো।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ পদ্ধতির জনক হলেন একজন ফরাসি ধর্মযাজক হেনরি দ্য লাউলিন। পেশায় তিনি ছিলেন মাদাগাসকারের একটি কৃষি স্কুলের শিক্ষক। ১৯৯৭ সাল থেকে এই প্রযুক্তি মাদাগাসকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দেন বিশ^ময়। কচি বয়সের ধানের চারা ২৫ সে.মি দূরত্বে বর্গক্ষেত্রাকারে বসাতে হয়। চলতি পদ্ধতিতে যেখানে ৪-৫টি কুশি রোপন করে সেক্ষেত্র এ পদ্ধতিতে একটি করে কুশি রোপন করতে হয়। এতে একর প্রতি ২৫-৩০ কেজি বীজ ধানের স্থলে মাত্র ৩-৪ কেজি বীজ ধান লাগে। জমিনে পানি, সার ও অন্যান্য উপকরণও কম লাগে। এতে কৃষকের সাশ্রয়ী হয় এবং উৎপাদন প্রায় ৪১শতাংশ বেড়ে যায়। যেকারণে এসআই পদ্ধতি এখন খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।