ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর/২০২৩) শাহীন শিক্ষা পরিবারের উদ্যোগে সেইফ বৃত্তি পরীক্ষার নামে ৬২৫জন পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে পরীক্ষা কেন্দ্র রউজ বিদ্যা নিকেতনের সামনে ক্ষুব্দ অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। যথাসময়ে সিট প্লানিং ও কর্মকর্তাদের উপস্থিত না হওয়ায় অভিভাবকদের প্রতিবাদের মুখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
ক্ষুব্দ অভিভাবকরা জানায়, শাহীন স্কুলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও শাহীন ক্যাডেট কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের নেয়ার কৌশল হিসেবে সেইফ ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রদানের নামে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। ক্ষুব্দ অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম বলেন, তারা বলেছে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারীর মধ্যে ২০শতাংশ পরীক্ষার্থীকে আকর্ষণীয় পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হবে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট করে(আকর্ষণীয়) কিছু বলা নেই। বলা আছে, তাদের বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী পাবে মাসিক বৃত্তি। জেলায় ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিওয়ারী ১ম স্থান ৫হাজার, ২য় স্থান ৩হাজার ও ৩য় স্থান অর্জনকারী পাবে ২হাজার টাকা এবং সাথে ক্রেস্ট ও সনদপত্র। ক্ষুব্দ অভিভাবক জান্নাতুল ফেরদৌসী নাজমা বলেন, শাহীন স্কুলের নিকট থেকে ডোনেশান (উৎকোচ) নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান আমাদের সন্তানদেরকে শাহীন কোচিং ও স্কুলের হাতে তুলে দিয়েছে, এর সঙ্গে জড়িতদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অভিভাবক শিউলী আক্তার বলেন, সরকার কোচিং কার্যক্রমকে নিরুসাহিত করছে, অথচ মেধা বৃত্তির নামে কোচিংয়ের প্রচার-প্রচারণা প্রকাশ্যে চালানো হলো, সবাই নীরব!
অভিভাবক আব্দুল মান্নান জানায়, ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয় আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিলো। প্রবেশপত্রে নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয় লেখা রয়েছে। রাতে জানানো হয় পরীক্ষা হবে কলতাপাড়া রউজ বিদ্যা নিকেতনে । শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সকাল ৯টায় পরীক্ষাকেন্দ্রে আসলেও বৃত্তি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ছিলেন অনুপস্থিত। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষুব্দ হয়ে উঠেন।
রউজ বিদ্যা নিকেতনের পরিচালক আব্দুল্লাহ মিয়া জানান, শাহীন স্কুলের কর্মকর্তারা এসে আমাকে জানায় বৃত্তি পরীক্ষাটি সরকারি প্রশিক্ষণ থাকায় নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই ভেন্যু হিসাবে রউজ বিদ্যা নিকেতন ব্যবহারের অনুমতি চান। আমার প্রতিষ্ঠানেরও ১৭২জন পরীক্ষার্থী ছিলো। সে কারণে আমি সরল বিশ^াসে তাদেরকে অনুমতি দিয়েছি। তিনি আরও জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে এ ধরণের বিব্রতকর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এর দায় শাহীন স্কুল এড়াতে পারে না।
শাহীন স্কুল, ময়মনসিংহ শাখার সহকারী শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান সোহাগ জানান, বৈরী আবহাওয়া ও এখানে পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্বে যিনি ছিলেন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে সিট প্লেনিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যহত হয়। যে কারণে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।