দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে নৌকা প্রতীক মনোনয়নের জন্য রোববার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবুল (ভিপি বাবুল)। এ সময় কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত নেতৃবৃন্দ তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।
করোনাকালীন দুর্যোগে কৃষকের বন্ধুখ্যাতি অর্জন করেন গোলাম মোস্তফা বাবুল (ভিপি বাবুল)। তিনি জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে এ দুর্যোগের সময় নেতাকর্মীদের নিয়ে গৌরীপুর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা কৃষকের ধানকেটে দেন। তিনি শৈশব আর কৈশোরের দুরন্তপনা থেকে মুজিবভক্ত। এবার ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে নৌকার মাঝি হতে গণসংযোগ, ব্যতিক্রমী গানে গানে উন্নয়ন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ময়মনসিংহ জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে এ অঞ্চলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে ছুটছেন সর্বত্র। সাংগঠনিক দক্ষতায় প্রত্যেকটি উপজেলায় কমিটিতে এনেছেন নুতনত্ব। জাগরণ সৃষ্টি করছেন কৃষক লীগে। নিজ নির্বাচনী এলাকা গৌরীপুর এখন কৃষক লীগের দুর্গ। সেই দূর্গের জানান দিতে এক সময় ঐতিহাসিক শহিদ হারুণ পার্কের বিশাল সমাবেশে কৃষকলীগের নেতৃবৃন্দ ভিপি বাবুলের মনোনয়ন দাবি করেছেন।
শ্যামগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে ১৯৯৬সনে ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন। পরের বছরই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বাণী সম্বলিত ‘কাল আগস্ট’ নামে ১৫ আগস্টের ভয়াবহতা তুলে ধরে স্মরণিকা প্রকাশ করে ভিপি বাবুল। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে প্রতিহত ও অসহযোগ আন্দোলন করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছি।
২০০২সনে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি, শ্যামগঞ্জ জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্য জোটের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির ৩বার সভাপতি, গৌরীপুর উপজেলা কৃষিখাস জমি বন্দোবস্ত কমিটি, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সদস্যও ছিলেন। নিজ এলাকার মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য সাতপাই দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরো বলেন, ছাড় তো দিচ্ছি, দিয়েই এসেছি। ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে ছেড়ে দিয়েছি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নৌকার বিজয়ে গণসংযোগ ও প্রচারণা করেছি। ২০১৬ সালের উপনির্বাচনেও নৌকাকে বিজয় অর্জনে কাজ করেছি। দলীয় প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত তৃণমূলে বাস্তবায়ন ও জনমত তৈরিতে ছিলাম সক্রিয়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়েও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এলাকায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে ১/১১ সরকারের নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনমত গঠন ও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। বিগত প্রত্যেকটি নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করেছি।
ভিপি বাবুল বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান সরকার উন্নয়নে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকার বিজয়ের বিকল্প নেই। শুধু গৌরীপুর নয়, ময়মনসিংহের প্রত্যেকটি আসনে নৌকাকে বিজয় করতে কৃষক লীগের মুজিবসেনারা প্রস্তুত।