ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউসিসিএ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান শুভ্র’র আজ মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর/২৩) ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২০ এই দিনে পৌর শহরের মধ্যবাজার পানমহালে মেয়র প্রার্থী হিসাবে প্রচারণাকে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে দোআ মাহফিল ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জল হোসেন খান।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ঘটনায় ২০২২সনের ১০অক্টোবর দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মনির কামাল এর আদালতে রায় দেন। রায়ে মইলাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহŸায়ক রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ, গৌরীপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমেদ রেজা, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোজাম্মেল হক, খাইরুল ইসলাম, মাঈন উদ্দিন, রুহুল আমিন ও শরীফুল ইসলাম নাঈমের মৃত্যুদÐ, ও রিয়াদ চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মাসুদ পারভেজ কার্জন, ছাত্রদলকর্মী শরীয়তউল্লাহ ওরফে সুমন ও যুবদলকর্মী রাসেল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদÐের আদেশ দেন। মামলার অন্যতম আসামী গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, তার দু’ভাই সৈয়দ তৌফিকুল ইসলাম, সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, ছাত্রদলকর্মী রিফাত, মো. আবু হানিফা, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুবদলকর্মী মজিবুর রহমান, কামাল মিয়া ও শাজাহান মিয়া খালাস পান।
তবে মামলার রায়ে সন্তুষ্ট নন মামলার বাদী আবিদুর রহমান প্রান্ত। সে যুগান্তরকে জানায়, আমরা এ রায়ে ন্যায়বিচার পাইনি। উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করেছি, আপীল মামলাটি চলমান রয়েছে। এছাড়াও মৃত্যুদÐ ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের পক্ষ থেকেও এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল দায়ের করেছেন।
এদিকে মইলাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ মৃত্যুদÐের আদেশ নিয়ে কারাভোগ করছেন। তার শূন্যতায় মইলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে দু’গ্রæপের মাঝে মামলা-পাল্টা মামলা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষ চরমভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়, গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান শুভ্র। তাকে ২০২০সনের ১৭ অক্টোবর কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই আবিদুর রহমান প্রান্ত বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ২০২১ সালের ৫ মে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (বর্তমানে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ) মো. শাহ কামাল আকন্দ। প্রতিবেদনে চার্জশিটভুক্ত ১৪ জন ছাড়াও মামলার তদন্তকারী অফিসার অনুসন্ধানে আরও ৫ জনের সম্পৃক্ত পাওয়ায় ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেন।