দু’দিন ধরে মুড়ি আর চিড়া ছিব্যাইয়া থ্যাকতাছি। বাচ্চাদের কি খাওয়ামু, টিউবওয়েলের ওপরে পানি। ল্যাট্টিনতো ভাইস্যা গেছে গা। কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর পাওয়ার জোগেন্দ্র কিশোর রায় উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসা বন্যাকবলিত নাসরিন আক্তার। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে পানি আইছে। শুক্রবার সকাল দেখি ঘরের চৌকি লগে পানি। বাড়িঘর কেউ ছ্যাইয়া আইতো চায় না। আমরাও না।
তিনি আরও জানান, এরপরে বন্যা দুর্গতদের জরুরী নাম্বারে কল দেন। জরুরী নাম্বার থেকে আমাকে একটা নাম্বার দেয়, সেই নাম্বারটায় কল দেয়ার পর ধরেন গৌরীপুরের ইউএনও ফৌজিয়া নাজনীন ম্যাডাম। উনাকে বলার পর রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনিকে শুকনা খাবার দিয়ে পাঠাইছেন। তিনিও প্যান্ট-শার্ট ভিজ্যাইয়া গেছেন।
আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানকারী আব্দুল জলিলের স্ত্রী ছালেমা খাতুন বলেন, দু’রাত কোনো ঘুম নাই। চৌকিও ভাইস্যা গেছে। ঠিহা দিয়া, রইছি, ঘুম তো নাই। এহন খালি ঘুম আইয়্যে, স্কুলের বেঞ্চেই ঘুমাইয়্যা পড়ছিলাম। তাদের মতো নিঃস্ব প্রায় ৭০টি পরিবারের লোকজন রোববার (৮ অক্টোবর/২৩) এ আশ্রয়ণকেন্দ্রে আশ্রয় নেন। দুপুরে রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি’র ব্যক্তিগত উদ্যোগে হোটেল থেকে প্যাকেট খাবার এনে বিতরণ করেন। এ রির্পোট পাঠানো পর্যন্ত আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোর জন্য স্কুলমাঠে রান্নাবান্না চলছিল। চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি জানান, আশ্রয় কেন্দ্র রাতে প্রায় ৫০টি পরিবার রাত্রিযাপন করবে। এ ছাড়াও নওয়াগাঁও, গোপীনাথপুর শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ুমের নেতৃত্বে চুড়ালি, কলতাপাড়া, নন্দীগ্রাম, কুমারামপুরে পানিবন্দী ৮শ ৩১টি পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন। তিনি আরও জানান, এ ইউনিয়নের ৮০শতাংশ কাঁচারাস্তা ধ্বংস হয়ে গেছে। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া সড়কগুলোর কার্পেটিং ওঠে গেছে। পানিবন্দ পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জায়েদুর রহমানের নেতৃত্বে শুক্রবার থেকে পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা করে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বে খাল ও বিলে আটকে থাকা ময়না-আবর্জনা এবং বাঁধ অপসারণ করেন।
বন্যাপরিস্থিতি ও দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফৌজিয়া নাজনীনের নেতৃত্বে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। তিনি জানান, আমরা ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার সকলস্থানে প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।