ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা রইছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ঘটনায় সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর/২৩) ডৌহাখলা ইউনিয়নের ২২জন গ্রামবাসী সাক্ষ্য দেন।
জেলা প্রশাসকের নিকট ডৌহাখলা ইউনিয়নের ছোট বৃ-ডৌহাখলা গ্রামের স্বর্গীয় নারায়ন চন্দ্র রায়ের (নারায়ন স্যার) পুত্র কটন রায় চৌধুরী বিধানের দেয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফৌজিয়া নাজনীন এ তদন্ত করেন। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত ও দু’পক্ষের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। কেউ ফৌজধারী অপরাধ করলে সেটা তার ব্যক্তিগত দায়। ইউএনও অফিসের পরিচয়ে কোন অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
অপরদিকে মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর/২৩) ইউএনও’র ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ৫ কেজি সার ক্রয়ে ১৫টাকা অতিরিক্ত নেয়ার গটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি রির্পোট প্রদান করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, তদন্তকালীন সময়ে ১৫টাকা বেশি নেয়ার ঘটনা প্রমাণিত হয়নি। তবে সার ক্রয়ের মেমো না দিলেও খুচরা দোকানদারের বিক্রয় রেজিস্টারে রইছ উদ্দিনের সার ক্রয় ও নির্ধারিত মূল্য লেখা আছে।
জানা যায়, ডৌহাখলা বাজারের খুচরা বিক্রেতা চয়ন সরকারের নিকট থেকে ৫ কেজি ইউরিয়া সার ক্রয় করেন ইউএনও’র কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা রইছ উদ্দিন। তার নিকট থেকে ১৫টাকা বেশি নেয়া হয়েছে এমন অভিযোগে ইউএনও’র নিকট অভিযোগ দেন। এ অভিযোগ তদন্তে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন প্রধান ও উপসহকারী কৃষি অফিসার গোলাম রাব্বানী ও সুমন চন্দ্র সরকারকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা রইছ উদ্দিন জানান, ২৭টাকা কেজি ইউরিয়া সারের মূল্য ৩০টাকা চেয়েছেন, সাদা কাগজে তা লিখেও দিয়েছে চয়ন সরকারের দোকানের কর্মচারী দুলন। ভিডিও করায় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও করেছেন। তবে সেই সাদা কাগজে লেখা রশিদ বা ৩০টাকা কেজি ধরে ইউরিয়া সার ক্রয়ের কোনো প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে দোকানদার চয়ন সরকার জানান, আমি দোকানে ছিলাম না। কর্মচারীদের সঙ্গে তিনিই খারাপ আচরণ করেছেন। ২৭টাকা কেজি দরে ইউরিয়া সার নিয়েছেন, তার সাদা কাগজে দোকানের সিলযুক্ত রশিদও দেয়া হয়েছে। যা বিক্রয় রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ আছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউএনও’র ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এ রইছ উদ্দিন সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। মেয়ে বিয়ে না দেয়ায় সেই মেয়ের বাবা-চাচার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। হিন্দু পরিবারের জমি দখল করে ল্যাট্টিন স্থাপন করেছেন। মৎস্যচাষীদের পুকুর খননে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, তার বাসার পাশের জমি তার নিকট বিক্রি না করায় পিয়শন মামলা করে একটি হিন্দু পরিবারকে হয়রানি করছেন। এসব ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবিতে তদন্ত কর্মকর্তার নিকট সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য গ্রহণে অংশ নেন ডৌহাখলা ইউনিয়নের মানিক কুমার সরকার, সুবির হোম চৌধুরী, মৌলভী মাকসুদুল হক, মো. আবুল কালাম, মো. আব্দুল সালাম, মো. আবুল হাশিম, মৃনাল মিত্র, হাফেজ মো. আব্দুল কদ্দুছ, নিতাই কুমার চন্দ, মো. হারুন মিয়া, পংকজ সরকার, মো. জহিরুল আমিন রুবেল, শ্রীমতি শান্তি রাণী মিত্র, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. হাবিল মিয়া, রইছ উদ্দিন।
কটন রায় চৌধুরী বিধান জানায়, রইছ উদ্দিনের নিকট মেয়ে বিয়ে না দেয়ায় মেয়ের বাবা আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, এক হিন্দু পরিবারের জমি দখল করে ল্যাট্টিন নির্মাণ ও তার ক্রয়কৃত ১শতাংশ জমি দখল এবং হয়রানির জন্যে পিয়শন মামলা করেছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা রইছ উদ্দিন জানান, আমরা তো আমাদের কথা বলেছি, অপরপক্ষের লোকজনও কথা বলেছেন। পুরোপুরি বিষয়টা আমি কিছু বলতে পারবো না, ইউএনও স্যার সিদ্ধান্ত নিবেন।