বোরোধান কাটা হয়ে যাওয়ার পর প্রায় চার মাস অনাবাদি থাকে ফসলের জমি। বিষয়টি ভাল লাগে না কৃষক শেখ সাদীর।
যে কারনে এ বছর থেকে নিজের জমিতে আউস আবাদ করার ব্যপারে মন স্থির করে নিজের জমিতে আউসের বীজতলা করেন। ইচ্ছা জাগে নিজের জমি চাষের পাশাপাশি গ্রামের অন্য কৃষকদেরও চারা দিবেন আউস আবাদ করার জন্য।
নিজের এমন ইচ্ছার অনেকটা রাজকীয় বাস্তবায়ন করেছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কড়মরিয়াগ্রগ্রামের কৃষক শেখ সাদী।
বৃহস্পতিবার বিকালে নিজের বাড়িতে ৩৫ জন কৃষককে ডেকে এনে আউসের চারা বিতরণ করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার লিপি প্রধান অতিথি থেকে চারা বিতরণ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, গৌরীপুর পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মদ, রির্পোটার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন।
অনুষ্টানের শুরতেই বক্তব্য দেন কৃষক শেখ সাদী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে থাকেন দেশের এক ইঞ্চি জমিও যোন অনাবাসিক না থাকে। মুলত এ বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়েই আমি নিজে বোরো চাষের পর চার মাস অনাবাদির সময়ে আউস আবাদ করার সিদ্ধান্ত নেই। পরে গ্রামের আরও কৃষকদের বলি আউস আবাদ করতে। কিন্তু তারা আউসের চারার সংকটের কথা বলে। পরে আমি সিদ্ধান্ত নেই সব কৃষককে বিনামূল্যে চারা দিব। আজকে আমার সে ইচ্ছার বাস্তবায়ন হল। আমি কোন ধনী মানুষ না। নিজের ধান বিক্রির টাকায় আমি আউসের বীজ কিনে বীজতলা করি। আজকে মোট ৩৫ জনকে চারা দেওয়া হয়েছে। আশপাশের কৃষক ভাইদের আমার মোবাইল ফোন নাম্বার দেওয়া আছে। চাইলে আরও অর্ধশতাধিক কৃষককে চারা দিতে পারব।
চারা প্রদান অনুষ্ঠানে কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার লিপি বলেন, আমরা আউস উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে থাকি। আউশ আবাদ বাড়াতে কৃষক শেখ সাদীর উদ্যোগ খুব ব্যতিক্রম লাগলো। সাধারণত আমরা সরকারি ভাবে বিনামূল্যে সার বা বীজ বিতরণের অনুষ্ঠানে যাই। আজ একজন কৃষক নিজের উদ্যোগে এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন। আমি খুব আনন্দিত।