সিত্রাংয়ের প্রভাবে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সোমবার (২৪ অক্টোবর/২০২২) ভোর থেকে টানা বৃষ্টিতে শ্রমজীবী, কর্মমুখী মানুষের কাজ নেই! রাজমেস্ত্রী, রংমেস্ত্রী, দিনমজুর শ্রেণি মানুষের চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিবার-পরিজনের জন্য খাবার যোগাড় করতে রাস্তায় কিছু রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা দেখা গেলেও কাঙ্খিত ভাড়া পাচ্ছেন না তারা।
রামগোপালপুরের নেওয়াজ হোসেন (৪৮) যুগান্তরকে জানান, তিনি সকাল ৭টায় বেড়িয়েছেন। সংসারে মা, ২ মেয়ে আর ১ ছেলেসহ ৬জন রয়েছে। এখন দুপুর ২টা বাজে। রাস্তাঘাটে লোকজন নেই। ১শ ২৮টাকা ভাড়া পেয়েছি মাত্র। অসুস্থ্য বাবার চিকিৎসা আর ছোট তিনভাইয়ের আহার যোগাতে রাস্তায় নেমেছে ৫ম শ্রেণির ছাত্র নাঈম মিয়া। সে জানায় দু’ঘন্টায় এখনও একজন যাত্রী পাইনি। হাটশিরা গ্রামের সিরাজ আলীর পুত্র আব্দুল কদ্দুস সকাল ৯টায় বেড়িয়ে ছিলেন। বিকাল ৩টা ২৫মিনিট পর্যন্ত মাত্র ৬০টাকা উপার্জন করেছেন। তার সংসারে ১ ছেলে ও ১ মেয়েসহ ৫জন। যুগান্তরকে বলেন, বাবা-রে মইরাই যায়াম। হেডের মধ্যে খাওয়ান নাই। শরীরে শক্তি নাই। ঠান্ডার শরীর এখন কাপতাছে। পূর্বদাপুনিয়া গ্রামের রুস্তম আলীর পুত্র মো. নুরুল ইসলাম জানান, সংসারে ২ ছেলে আর ১ মেয়ে আছে। বিদ্যুৎ চমকালেও আমাদের মরণ নাই। ঝড়-বৃষ্টি হলেও পেট তো মানে না। প্যাডেল না মারলে, জীবনের প্যাডেলতো অচল হয়ে যাবে। ভোর ৬টার বেড়িয়ে ছিলেন গাঁওগৌরীপুরের হাতেম আলী। বিকাল পর্যন্ত পেয়েছে মাত্র ২শ টাকা। তিনি বলেন, ভাই শরীরডাতো ঠান্ডায় জমে যাইতাছে, ঠিকই! ব্যাগটা ফুটের নিচে আছে। হেইডা বাইর করলেই শইলডা গরম হইয়া যায়। ৭জন পোষের দুইবেলার চালের দামও এহন হয় নাই। সব জ¦ালাইতো আমরার!