কী, নেই; সবপ্রশ্নের উত্তরের সমাধান ট্রেনের এক বগিতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘরের সেই ট্রেনটি বুধবার (১২অক্টোবর/২০২২) ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে পৌঁছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তত্ত¡াবধানে এ ট্রেনে ৩দিন দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হবে। পৌঁছার পর থেকে উপচেপড়া দর্শনার্থীদের ভিড়।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাসফরে আসা শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করেছে রেল জাদুঘরে রক্ষিত বঙ্গবন্ধু’র পত্র, মুজিব কোর্ট, মেহেরপুর সরকার, ঐতিহাসিক ভাষণের পদভূমি। পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী রিফাহ তাসনিয়া তরী জানায়, মুজিব কোর্টের ৬টি বোতাম, তার কারণ জেনে আমি মুগ্ধ, ৬৬সাল আর ৬ বোতাম ও ৬দফা।

এই ট্রেনেই রয়েছে ১৯৪৭সনের পটভূমি ও বাংলাদেশ, ভাষা আন্দোলন, ছয়দফা, ৭০’রের নির্বাচন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক নির্দশন। দর্শনার্শীরা ট্রেনের ভেতরে প্রবেশ করেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বেড়ে ওঠা ও কর্মময় জীবন, সংগ্রাম ও দেশের তৎকালীন পটভূমি জানতে পারছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর জীবনের অজানা তথ্য নতুন প্রজন্মের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ। তিনি জানান, মানুষের ঢল দেখেছি এ জাদুঘরে। শিশু ও কিশোরদের এ জানার আগ্রহ অত্যন্ত ভালো লেগেছে। বগিতে প্রবেশ করে দেখছেন শৈশবের বঙ্গবন্ধু, এরপরেই রয়েছে তাঁর ছাত্রজীবন, আন্দোল-সংগ্রাম ও জীবনযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে তাঁর অবদান, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবর্ণনীয় নির্যাতন ভোগ, মিথ্যা মামলা ও কারাভোগের করুণ চিত্রের।

তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম, বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয়দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যূত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন দেশ পুনর্গঠনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানতে পারছে দর্শনার্থী। এখানে প্রদর্শন করা প্রতিটি কনটেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে ভিডিও এবং স্থিরচিত্রের সমন্বয়ে। ১২টি পর্বের মধ্যে একটিতে ভাষণ, একটিতে বই ও বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক চিঠি স্থান পেয়েছে। জাদুঘরে রয়েছে কৃত্রিম ফুলের বাগানও। দৃষ্টিনন্দন বগির ভেতর পৃথক টেবিলে স্থান হয়েছে বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক নিবাসের রেপ্লিকা, ব্যবহৃত চশমা, চশমা, পাইপ, মুজিবকোর্ট, টুঙ্গিপাড়ার সমাধিস্থলের রেপ্লিকাসহ ১৩টি নিদর্শন।
এদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তত্ত¡াবধানে বগিটিকে অপরূপ দৃশ্যের সমন্বয়ে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। পুরো জাদুঘর সাজানো হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। জাতির পিতার বেড়ে ওঠা ও কর্মময় জীবনের ধারাবাহিক নানা ছবি, ব্যবহার্য জিনিস, ঐতিহাসিক স্থাপনা, বঙ্গবন্ধুর লেখা চিঠি, বই, ৭ মার্চের ভাষণ সবই ঠাঁই পেয়েছে এক বগিতে। ১৯২০ থেকে ১৯৪২ সাল, ১৯৪৩ থেকে ১৯৫২ সাল, ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৪ সাল, ১৯৫৫ থেকে ১৯৬০ সাল, ১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সাল, ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল, ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭০ সাল, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল এবং ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর প্রস্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এ রেলপথ জাদুঘরকে আরো ব্যাপকতায় এনেছেন ইউএনও হাসান মারুফ। তিনি পৌর শহরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা সফরে আসেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোসাঃ নিকহাত আরা, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমাÐার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু রায়হান, পৌর কাউন্সিলর আব্দুর রউফ মোস্তাকিম, রেলওয়ে জংশনের মাস্টার আতাউল করিম প্রমুখ।